সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২১ সফর ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
২২৩

ইতিহাসের সাক্ষী বরিশালের লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯  

বরিশাল শহর থেকে আট কিলোমিটার উত্তরে লাকুটিয়া বাজার। এরপর ইট বিছানো হাঁটাপথ। কিছু দূর যাওয়ার পর মিলবে জমিদারদের অনেক মন্দির আর সমাধিসৌধ। রাস্তার ডান পাশে। এগুলোর বেশির ভাগই আটচালা দেউলরীতিতে তৈরি। শিখররীতির মন্দিরও। পাঁচটা মন্দির এখনো বলতে গেলে অক্ষতই আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি এখন পরিত্যক্ত ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। অথচ এই বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে প্রায় চার শ’ বছরের পুরনো ইতিহাস।

 

খোসালচন্দ্র রায় লিখিত ‘‘বাকেরগঞ্জের ইতিহাস গ্রন্থ’’ থেকে জানা গেছে, রূপচন্দ্র রায় ছিলেন এই জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর পৌত্র রাজচন্দ্র রায়ের সময়ে এর প্রতিপত্তি বাড়ে। তিনিই মূল জমিদার বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। তাঁর বসানো হাটকেই সবাই বলে বাবুরহাট। তিনি প্রজাদরদি ছিলেন। লাকুটিয়া থেকে বরিশাল অবধি রাস্তা তাঁর আমলেই তৈরি হয়েছিল। বেশ ঘটা করে তিনি রাস উৎসব করতেন। তাঁর দুই পুত্র রাখালচন্দ্র রায় ও প্যারীলাল রায় ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী ছিলেন।

লাকুটিয়া জমিদারদের সব থেকে সুন্দর স্থাপনা হলো মন্দিরগুলো। সবচেয়ে উঁচু মন্দিরের শিলালিপি থেকে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী পংকজকুমার রায়চৌধুরী তাঁর স্বর্গত পিতা সুরেন্দ্রকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা পুষ্পরাণী রায়চৌধুরীর পুণ্যস্মৃতির উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করেছেন।

লোহার দরজা পেরিয়ে জমিদার বাড়ির মূল প্রবেশপথের বাঁ পাশেই শান বাঁধানো ঘাটলা বাঁধা সুন্দর একটি পুকুর। বাড়িটি এখন বিএডিসির তত্ত্বাবধানে আছে। বাঁ পাশে বিএডিসির ট্রাক্টর রাখার ঘর আর ডান পাশে তাঁদের গোডাউন আর অফিস কক্ষ। পেছনে আছে পাকা উঠান, বীজ শুকানো হয়। বাড়িটির ওপর কর্তৃপক্ষের কোনো মায়া-মমতা আছে বলে মনে হলো না। বাড়ির তিন ধারে ধানের জমি। এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি বিশেষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেক আগেই রায়বাহাদুররা ভারতে চলে গেছেন। বছর দশেক আগে একবার ছোট বাহাদুর এসেছিলেন। বাড়ির কাছেই আমবাগান। বাগানটি গড়ে উঠেছে বিশাল এক দীঘির পাড়ে। একে সবাই রাণীর দিঘি বলে। শীতের সময় এখানে অনেকেই পিকনিক করতে আসেন।

এখানে তিনটি মন্দির, দুইটি পুরোনো বাড়ি ও একটি বিশাল দিঘী রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর