• সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৭

  • || ১০ সফর ১৪৪২

পিরোজপুর সংবাদ
১৭

ইলিশের চালান পেয়ে কলকাতায় উচ্ছ্বাস

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বাংলাদেশের ইলিশ চলতি বছরে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো প্রবেশ করেছে পশ্চিমবঙ্গে। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত ওপার বাঙলার মানুষেরা। ‘এলো রে...পদ্মার ইলিশ এলো, প্রথমে ২০ টন’ শিরোনামে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের এক প্রতিবেদন করেছে। সেখানে বলা হয়, রূপালি শস্যের মধ্যে পদ্মার ইলিশকেই স্বাদে, মানে উৎকৃষ্টতম হিসেবে গণ্য করা হয়। 

মঙ্গলবার বিকেল থেকে কলকাতা ও শহরতলির এবং আশপাশের আরো বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেখা মিলবে সেই মাছের। রসনাতৃপ্তির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হবে ইলিশপ্রিয় বহু বাঙালির।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গতকাল ২০ টন পদ্মার ইলিশ ঢুকেছে। আগামী এক মাস ওপার থেকে এপারে লরি লরি ইলিশের আমদানি হবে বলেই পেট্রাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়। এবার সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার টন ইলিশ এপারে পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

এদিন সন্ধ্যায় পেট্রাপোল সীমান্তে ইলিশভর্তি গাড়ি ঢুকতে আমদানি ও রফতানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী তো বটেই, সাধারণ মানুষের অনেকেরও হাসি চওড়া হয়েছে রসনাতৃপ্তির অভিলাষ পূরণের আশায়। কিন্তু সাধ্যের মধ্যে স্বাদ পূরণ হবে কি?

ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় চারটি লরিতে মোট ২০ টন ইলিশ বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছে। এই ইলিশ মঙ্গলবার বিকেল থেকে কলকাতার খুচরো বাজারে পাওয়া যাবে। তার কথায়, ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ এসেছে। পাইকারি বাজারে ৭০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা।

তবে খুচরো বাজারে এর দাম কী রকম হবে, তা নিয়ে এখনও ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট কিছু জানাননি। ভোজনরসিক বাঙালি ও পদ্মার ইলিশের মধ্যে ব্যবধান হয়ে দাঁড়াতে পারে চড়া দাম, এমন আশঙ্কা থাকছে। এমনিতেই করোনা পরিস্থিতি ও দীর্ঘ লকডাউনের জেরে সাধারণ নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা বড় অংশের আর্থিক অবস্থা প্রাক-কভিড পরিস্থিতির মতো নেই। এই অবস্থায় পদ্মার ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া হলে কজন তার স্বাদ নিতে পারবেন, সেটা প্রশ্ন। 

এ বছর বর্ষায় পদ্মাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীতে রূপালি ফসল প্রচুর উঠলেও তা পেতে এ পারের ইলিশভক্ত বাঙালিকে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছে। বাংলাদেশের ইলিশ এপারে যে এই মৌসুমে একেবারে ঢোকেনি তা নয়। তবে সে সব এসেছে চোরাপথে, খুব কম পরিমাণে, দামও চড়া।

গত বছর দুর্গা পূজার ঠিক আগে উপহার হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ৫০০ টন ইলিশ পাঠাতে রাজি হয়েছিল। তার পর প্রায় এক বছর কেটেছে, ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর দিয়ে ইলিশের রফতানি হয়নি। সেই অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। এ বছর ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই ইলিশ রফতানির সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর