• সোমবার   ০৬ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
২৭

কক্সবাজারে কর্মহীনদের বিনামূল্যে আহার জোগাচ্ছে ‘সেনা বাজার’

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২০  

কক্সবাজারে করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে কর্মহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং কাঁচাবাজারের চাহিদা পূরণ করে আহার জোগাচ্ছে বিনামূল্যের ‘সেনা বাজার’। জেলায় চতুর্থবারের মতো শনিবার (৬ জুন) উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে সেনা বাজারের আয়োজন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশন।

ঈদের আগে ২২ মে ও পরে ৩০ মে কক্সবাজার শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবং ৩ জুন রামু খিজারি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় স্টেডিয়ামে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, আটা, তেল, লবণ, ডাল এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি সম্বলিত সেনা বাজারের আয়োজন করা হয়েছিল। আগের মতো এবারও গ্রামের প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে উপযুক্ত দামে সবজি সংগ্রহ করে সেনা বাজারের আয়োজন করেছে সেনাবাহিনী।

৬৫ পদাতিক ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই বাজার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ৬৫ ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, রামু সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের মিডিয়া সমন্বয়ক মেজর তানজিল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক দিক-নির্দেশনা এবং সেনাপ্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে করোনার প্রভাবে ও সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রকোপের কারণে অসহায়, দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের কল্যাণে সমগ্র বাংলাদেশ জুড়েই বিভিন্ন কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে সেনাবাহিনী। তারই অংশ হিসেবে এ সেনা বাজারের আয়োজন করা হয়েছে।

সেনা বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পূর্ব পাহাড়, লম্বার ঘোনা, শৈলের ডোবা, ফলিয়া পাড়া, রাজা পালং, গুচ্চগ্রাম থেকে প্রথমে দরিদ্র মানুষদের তালিকা তৈরি করে সেনাবাহিনী। পরে তাদের বিশেষ টোকেন প্রদান করা হয়।

সরেজমিন সেনা বাজারে ঘুরে দেখা যায়, সেনা বাজারের প্রবেশপথে সেনা ব্যবস্থাপনায় রয়েছে জীবাণুনাশক বুথ ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। সারি সারি টেবিলে পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন ধরনের দরকারি ত্রাণসামগ্রী। টোকেন দেখিয়ে কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই স্বল্প সময়ে ব্যাগে ভরে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন অসহায় ও দুস্থরা।

মেজর তানজিল জানান, ইতোপূর্বে রামু উপজেলার জুলেখার পাড়া, খিজারী পাড়া, সিপাহীপাড়া, মন্ডল পাড়া, ফতেহারকুল, মেরংলোয়া, রশিদ নগর ও ঈদগাহ এলাকার বৌদ্ধ, হিন্দুসহ সকল সম্প্রদায়ের হতদরিদ্র মানুষ বিশেষ টোকেনে সেনাপণ্য পেয়েছেন।

সেনা বাজারে বাজার নিতে আসা হতদরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা সবাইকে চরম বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। ঘরে খাবার নেই, হাতে টাকা নেই। এমন সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চাল, আটা, লবণ, তেল, আলু, বরবটি, কচুর লতি, লেবু, কাঁচামরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৃষ্ণায় পানি পাওয়ার মতো।

তারা বলেন, সেনাবাহিনী কর্তৃক এ ধরনের বাজার পরিচালনার কথা টেলিভিশন ও পত্রিকায় দেখেছি। আজ নিজেরা সুবিধা পেয়ে আমরা অভিভূত। সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে।

কক্সবাজার জেলা ও চট্টগ্রামের চারটি উপজেলায় গত ২৪ মার্চ থেকেই মাঠে থেকে কাজ করছে সেনাবাহিনী। টহল কার্যক্রমসহ করোনার ভয়াবহতার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ, পথচারীদের ফুল দিয়ে বুঝিয়ে ঘরে ফেরাতে সচেষ্ট ভূমিকা রাখতে দেখা যায় সেনা সদস্যদের। পাশাপাশি নিজেদের রেশন বাঁচিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কর্মহীন ও অসহায় পরিবারের মানুষগুলোর হাতে তুলে দিচ্ছেন।

সেনা সদস্যরা কক্সবাজার জেলার প্রবেশদ্বার চকরিয়ায় এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের প্রবেশদ্বারে একাধিক জীবাণুনাশক বুথ স্থাপনের মাধ্যমে জরুরি সরবরাহ কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও মানুষদের জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করেছেন। সর্বশেষ সুপার সাইক্লোন আম্ফান উপদ্রুত এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বাঁধ পুনঃনির্মাণ এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জনসাধারণদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ও ত্রাণ প্রদানের মাধ্যমে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী।

জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর