• বৃহস্পতিবার   ২৮ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৭

  • || ০৫ শাওয়াল ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
৭৮

করোনা সতর্কতা: হার্টের রোগীরা অবশ্যই সাবধান থাকুন এসব বিষয়ে

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২০  

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা সারাবিশ্বের কাছে এখন আতঙ্কের আরেক নাম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে এবং এর মধ্যেই অনেকে নাম লেখাচ্ছে মৃত্যুর মিছিলে। এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। একমাত্র সতর্কতাই এখন এর থেকে বাঁচার অবলম্বন।

তবে মহামারি আকার ধারণ করা এই ভাইরাস নিয়ে চলছে ব্যাপক গবেষণা। গবেষণার ফলেই জানা সম্ভব হয়েছে এই ভাইরাস কাদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু রোগের পাশাপাশি জানা গেছে হার্টের রোগীরাও রয়েছে এই ভাইরাসে দ্রুত আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে। তাইতো তাদের সাবধান থাকা খুব জরুরি।

গবেষণা অনুসারে, যেসব ব্যক্তিরা হার্টের সমস্যায় ভুগছেন তাদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হচ্ছে। কারণ যাদের হার্টের সমস্যা নেই সেইসব মানুষের তুলনায় এই ভাইরাসটি হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)-এর মতে, যাদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, যেমন- ৬০ বছর বয়সের চেয়ে বেশি বয়স্ক অর্থাৎ ৮০ বছর বয়স বা তারও বেশি বয়সী ব্যক্তিদের এবং হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ক্যান্সারের রোগীদেরও কোভিড-১৯ এর কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকরা বলেছেন যে, কোভিড-১৯ -এর সময় হার্টের রোগীদের অতিরিক্ত যত্ন নেয়া উচিত। এই ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে, প্রচুর ফল এবং শাকসবজি খেতে হবে, নিয়মিত শরীরচর্চা (বাড়ির ভেতরে) করা এবং ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। এর ফলে আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হবে এবং যে কোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।

আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজির মতে, হাসপাতালে ভর্তি কভিড-১৯ রোগীদের ৪০ শতাংশের মধ্যেই কার্ডিওভাসকুলার বা সেরিব্রোভাসকুলার রোগ পাওয়া গেছে। তাই হৃদরোগীদের সংক্রমণ রোধ করার জন্য এই বিষয়গুলো মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি-

> এসময় নিজের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। যারা অসুস্থ তাদের এড়িয়ে চলুন।

> হাত পরিষ্কার না করে চোখ, নাক এবং মুখ স্পর্শ করবেন না। যথা সম্ভব চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন।

> ২০ মিনিট পরপর কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান ও পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধোবেন।

> হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় নাক টিস্যু কিংবা রুমাল দিয়ে ঢাকুন। অথবা কনুই দিয়ে ঢেকে হাঁচি-কাশি দিন।

> দৈনিক ব্যবহৃত যেসব জায়গা স্পর্শ করেন সেসব স্থান ভাইরাস অপসারণের জন্য জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করুন।

> এসময় হার্টের রোগীদের অবশ্যই সমাবেশ এবং ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে। 

> হার্টের রোগীদের প্রয়োজনীয় টিকা বা ভ্যাকসিন নিতে হবে। যেমন- নিউমোনিয়া এবং ফ্লু-এর জন্য।

স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর