বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৯ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
৪২০

কর্কটক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার ছেদ বিন্দুতে হবে মানমন্দির

প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০১৯  

কর্কটক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার ছেদ বিন্দু ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে স্থাপিত হতে যাছে অনন্য ভৌগলিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু মানমন্দির ও পর্যটন কেন্দ্র। এনিয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। সরকারের সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হয় তা নিয়ে উৎসুক হয়ে অপেক্ষায় আছে ঐ অঞ্চলের বাসিন্দা সহ সমগ্র দেশবাসী। সম্প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেখানে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির’ স্থাপন করার জন্য একটা প্রকল্প প্রণয়ণের কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকতাদিরুল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত চার বছর আগে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নূরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের বিল ধোপাডাঙ্গা মৌজার এক টুকরো আবাদী কৃষি জমির উপর বিশ্বের অন্যতম ভৌগলিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট-কর্কট ক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার ছেদ বিন্দুটি ঘিরে সরকারি পর্যায়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক ধরে ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া নামক স্থান থেকে সদরপুর সড়কের দিকে যেতে স্থানীয় বাইশরশী শিবসুন্দর একাডেমি সংলগ্ন নুরুল্লাগঞ্জ মুখী রাস্তা ধরে ৩ কিলোমিটার এগোলে ভাঙ্গারদিয়া গ্রাম। সেখানে বিল ধোপডাঙ্গা মৌজায় বারেক মাতুব্বর, ইকবাল মাতুব্বর, কুটি পাগলা, জাকির হোসেন, ইউসুফ মাতুব্বর, আজিজুল মাতুব্বর, শাহজাহান শেখ ও মোফাজ্জেল হোসেনের মোট প্রায় ৫ একর কৃষি জমিকে প্রাথমিক ভাবে সম্ভাব্য এই প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

ভূগোল, ইতিহাস ও বিজ্ঞান সকল বিবেচনায় বৈশ্বিক গুরুত্ব বহণকারী এই ভূখন্ডটুকু দেশ ও জাতির কাছে নতুন করে পরিচিত হয়ে ওঠার বিষয়টি দারূনভাবে আন্দোলিত করেছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষকে। তারা যখন জানতে পেরেছে, পৃথিবীর চারটি উত্তর-দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব-পশ্চিম রেখা, সব মিলিয়ে বারো জায়গায় ছেদ করেছে। নিঃসন্দেহে এই বারোটি বিন্দু হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিন্দু। বারোটি বিন্দুর দশটি বিন্দুই পড়েছে সাগরে-মহাসাগরে। তাই মানুষ সেখানে যেতে পারে না। একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে, সেখানেও মানুষজন যায় না। শুধু একটি বিন্দু পড়েছে শুকনো মাটিতে, যেখানে মানুষ যেতে পারে। সেই বিন্দুটি পড়েছে বাংলাদেশে। আর জায়গাটি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় তাদেরই গ্রামে জেনে তারা উদ্বেলিত।

নির্ধারিত জমিটির একাংশের মালিক আলফু মাতুব্বরের ছেলে কৃষক বারেক মাতুব্বর জানান, গত চার বছরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের একাধীক টিম তার জমি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে গেছেন। কি কারণে করেছে তা স্পস্ট করে তাকে কিছু জানানো হয়নি।

এই প্রতিবেদকের কাছে পুরো ব্যাপারটি জানতে পেরে তিনি বলেন, আমি একা না, এই বিখ্যাত জায়গাটির পরিচিতি যাতে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে সেজন্য এলাকার সকলেই আমরা ন্যায্য দামে সরকারকে জমি লিখে দিতে রাজি আছি।

জমির আরেক মালিক বান্দরবানে চাকরিরত বিজিবি সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, দেশের জন্য আমরা জীবনবাজি রেখে কাজ করি, আর সামান্য জমি দেয়া সেক্ষেত্রে নগণ্য। এটাতো গর্বের বিষয়, আমাদের গ্রামে এত বড় একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, সারা বিশ্ব থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসবে, এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?

বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞান লেখক ড. জাফর ইকবালের ‘একটি স্বপ্ন’ শিরোনামের নিবন্ধটি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হবার পর স্থানটি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়টি জাতির সামনে উন্মোচিত হয়।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকতাদিরুল আহমেদ বিষয়টি নিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে একাধীকবার নূরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের বিল ধোপাডাঙ্গা মৌজার এই জমি এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি আমরা। আন্তর্জাতিক মানের এই মান মন্দির ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করতে ১৫ থেকে ২০ একর জায়গার প্রয়োজন হবে। আমাদের সার্ভের কাজ শেষ পর্যায়ে । ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে খুব শিগগিরই আমরা এই প্রকল্পের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবো।

 

এই বিভাগের আরো খবর