শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
১৬

গবেষণায় পাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকির নতুন কারণ

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৯  

বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হার্ট অ্যাটাক। বলা হয় বিশ্বে এক তৃতীয়াংশ মৃত্যুর জন্যে দায়ী হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ। বাংলাদেশেও হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ আজকাল খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে হৃদরোগের প্রকোপ অনেক বেড়ে গেছে। হৃদরোগের অনেক কারণ আছে। যেটি নিয়ে পাশ্চাত্যদেশে গবেষণায় দেখা গেছে, জেনেটিক বৈশিষ্ট্য হৃদরোগের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম কারণ। তবে বেশিরভাগ মানুষ নিয়ন্ত্রণ যোগ্য কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। বর্তমানে মানুষের জীবনযাত্রার ধরণও হৃদরোগের অন্যতম বড় ঝুঁকিপূর্ণ কারণ।

এ বিষয়ে গ্লোবাল হেলথের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে আরো কোনো সমস্যা আছে কিনা সেই বিষয় নিয়ে ক্যামব্রিজ ইউনির্ভাসিটি ও গ্লোবাল হেলথ গবেষণা করছে।

এসব গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ধুমপানের মাধ্যমে যে হৃদরোগ হয় তা নয়। তামাক, সাদা পাতা, জর্দা ইত্যাদির কারণেও হৃদরোগ হয়। বাংলাদেশে বহু মেয়েরা ধুমপান না করলেও তামাক চিবিয়ে খাচ্ছে। যাকে বলা হয় ‘চিউএবল টোবাকো’।

এছাড়া বংশগত কারণেও হৃদরোগ হতে পারে, যেমন আত্মীয় স্বজনের মধ্যে (বিশেষ করে যাদের পিতামাতা, ভাই-বোনের হৃদরোগ আগে হয়েছে, তাদের সম্ভাবনা বেশি থাকে)। যা সাধারণত বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তানে হয়ে থাকে।

এজন্য আগে জানা প্রয়োজন হৃদরোগ কেন হয়: সাধারণত হার্টের (হৃদয়ের) রক্তনালীতে ব্লকের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। তাই জানা প্রয়োজন এক্ষেত্রে রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো কি:

• ডায়াবেটিস
• ধুমপান
• উচ্চরক্তচাপ
• মানসিক দুঃশ্চিন্তা
• রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টরল
• বংশগত কারণেও হতে পারে (বিশেষ করে যাদের পিতামাতা, ভাই-বোনের হৃদরোগ আগে হয়েছে, তাদের সম্ভাবনা বেশি থাকে)।
• নারীদের চেয়ে পুরুষের বেশি হৃদরোগ হয়ে থাকে।
• বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের সম্ভাবনাও বাড়তে থাকে।
• বেশি ওজন যাদের থাকে তাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে।

হৃদসংক্রান্ত রোগকে বিশ্বের এক নম্বর খুনি হিসেবে চিহ্নিত করার কারণ হল এ জন্য প্রায় ১ কোটি ৭৯ লক্ষ মানুষ মারা যায়। ‘দি ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন’ (ডব্লিউএইচও)’র হিসাবে ১৯৯০ সালে বিশ্বে স্থুল শিশুর সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ২০ লাখ। এই পরিমাণ ২০১৬ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১০ লাখে। আর প্রতিবছর অপর্যাপ্ত শারীরিক কর্মকাণ্ডের কারণে মারা যাচ্ছেন ৩২ লক্ষ মানুষ। (রয়টার্স)

হৃদরোগের আরেক কারণ হচ্ছে আর্সেনিক সমস্যা। আর্সেনিক সমস্যাটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হবার দুই দশক পরেও, বাংলাদেশে আনুমানিক ২ কোটি মানুষ (যাদের বেশিরভাগই গ্রামের দরিদ্র মানুষ) এখনও অনিরাপদ দূষিত পানি পান করে।

আর্সেনিকযুক্ত পানি রঙহীন, স্বাদহীন এবং গন্ধহীন। তবে স্বল্প মাত্রায় আর্সেনিক গ্রহণের কারণে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে যেমন: ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং ফুসফুসের রোগ।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের জাঙ্ক ফুড খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। হৃদরোগ প্রতিরোধে কায়িক পরিশ্রম করা, হাঁটাহাঁটি করা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান না করা ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

এই বিভাগের আরো খবর