• সোমবার   ১৭ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

পিরোজপুর সংবাদ

চারদিকে নিশ্চুপ ক্ষুধার্ত মুখ, সর্বোচ্চটা করতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২১  

ফরিদপুরের টর্নেডো বিধ্বস্ত এলাকা ইতোমধ্যে ঘুরে এসেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে তিনি মানুষের ‍দুর্ভোগ দেখে কেঁদেছেন। অন্যরা তার স্নেহাস্পর্শে কেঁদেছে। সম্ভাব্য সব কিছু করার নির্দেশ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকায় যাওয়া মাত্রই জনগণ চারিদিক থেকে দৌড়ে এসে তাঁকে ঘিরে ধরে।

বঙ্গবন্ধু তাদের দুঃখের কাহিনী শুনে যান। অভিভূত হয়ে পড়েন। ঝড়ের হাত থেকে বেঁচে আছেন এমন একজনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তার চোখ ছল ছল করে ওঠে। তিনি তাকে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তার জন্য কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বঙ্গবন্ধু।

ক্ষুধার্ত মুখগুলো তাকিয়ে

‘যেদিকে তাকাই ধ্বংসলীলা। খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে মানুষ। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে নিরুপায় অসহায় হয়ে কোনওমতে বেঁচে থাকা মানুষ।’ টর্নেডো বিধ্বস্ত এলাকা থেকে ফিরে এসে প্রতিবেদনে এমনই বিবরণ লেখেন প্রত্যক্ষদর্শী এক প্রতিবেদক।

‘টর্নেডো সবচেয়ে হিংস্র। কেবল রামনগরে সরকারি হিসেবে ২৩ জন মারা গেছে। প্রায় পৌনে এক মাইল এলাকায় ভাঙনের চিহ্ন। সব ধ্বংস করে দিয়ে গেছে।’

দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কাজ চলছে

ফরিদপুরে টর্নেডো বিধ্বস্ত এলাকাগুলোয় ত্রাণকাজ পুরোদমে চলছে। গৃহনির্মাণ সাহায্য বাবদ এক লাখ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। দুর্গাপুরে সাহায্য হিসেবে আরও দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এক লাখ টাকা মঞ্জুর করা হয়। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করা হয়। মঞ্জুর করা হয় খাদ্যশস্যও। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবক দল রিলিফ কাজে নিয়োজিত ছিল। ঢাকা থেকে দুর্গত এলাকায় ১১ ডাক্তার ও ২৩ নার্স পাঠানো হয়।

চাকরি পুনর্বিন্যাস কমিটির রিপোর্ট পেশ

এরইমধ্যে প্রশাসনিক ও চাকরি পুনর্বিন্যাস কমিটি গণভবনে বঙ্গবন্ধুর কাছে রিপোর্টের প্রথমাংশ দাখিল করে। খবরে বলা হয়, পুনর্বিন্যাস কমিটির চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী রিপোর্ট দাখিল করেন। তার সঙ্গে ছিলেন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা-আনিসুর রহমান, এ এন চৌধুরী এবং এম এন জামান।

পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র ও তাদের মনোভাবের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তারা এখনও বাংলাদেশের প্রতি তাদের বৈরী মনোভাব অব্যাহত রেখেছে। বিপিআইয়ের খবরে প্রকাশ করা হয়, জিল্লুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন যে, পাকিস্তান এখন যুদ্ধবন্দিদের বিনাশর্তে মুক্তি প্রদানের জন্য কুম্ভিরাশ্রু ফেলছে। তিনি হুঁশিয়ার করে দেন, বাংলাদেশের বাস্তবতাকে স্বীকার না করে পাকিস্তান উপমহাদেশের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ও ভারতের যুক্ত প্রচেষ্টাকে নষ্ট করছে ও সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

শরণ সিংয়ের সঙ্গে ড. কামালের বৈঠক

উপমহাদেশে বর্তমানে যে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য বাংলাদেশ অথবা ভারতকে নিয়ে পাকিস্তানের বৈরী মনোভাবই সব জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিংয়ের নেতৃত্বে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে চার ঘণ্টা ব্যাপী দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় প্রতিনিধিদলের একজন পদস্থ ব্যক্তি উপমহাদেশের বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভাবনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন।