বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
ব্রেকিং:
ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভান্ডারিয়ায় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষে র‌্যালী অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালী ও আলোচনা সভা ভারতের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে দায়িত্বশীল হতে হবে: স্পিকার তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ হলে সেবা পাবে আরও ১২ মিলিয়ন যাত্রী মালিকের গাফিলতিতে কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানালেন ট্রাইব্যুনাল রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দেশ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে ৬০ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন: ড. কামাল-রীভা গাঙ্গুলির বৈঠক

‘জলবায়ু পরিবর্তনে বাস্তুচ্যুত হলে বিশ্বকে ভার নিতে হবে’

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের জনগণ বাস্তুচ্যুত হলে বিশ্ব সম্প্রদায় তাদের সামঞ্জস্য ও জীবিকা নির্বাহের ভার নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, আমি সতর্ক করে বলছি, আমাদের স্থিতিস্থাপকতা এবং অভিযোজনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের শুধু প্রাক-শিল্পায়ন লেভেলের চেয়ে এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বন্ধ করতে হবে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের জনগণ বাস্তুচ্যুত হলে সেটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখবে বলে আমি আশা করি। যেহেতু আমাদের জনগণ নিজেদের কোনো দোষে বাস্তুচ্যুত হবে না।

সোমবার (০২ ডিসেম্বর) স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে জেনারেল রাউন্ডটেবিলে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে স্থানীয় সময় সকালে ‘অ্যাকশন ফর সারভাইভাল: ভালনারেইবল নেশন্স কপ-২৫ লিডার্স’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কর্ম পরিকল্পনা সরবরাহে ব্যর্থতার দায়ভার অবশ্যই প্রতিটি দেশকে সমানভাবে নিতে হবে। তবে যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি দায়ী, তাদের অবশ্যই পরিণতি বেশি ভোগ করতে হবে। কেননা, জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের নিষ্ক্রিয়তার মূল্য প্রতিটি মানুষের জন্য ভয়াবহ।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আমরা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমাদের সভ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশ্বকে ধ্বংস করছে। বাংলাদেশের মতো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য এটা একটি অস্তিত্ব হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দুই দিক থেকে লড়াই করছি। প্রথমত: কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং এমনকি ভবিষ্যতে নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। দ্বিতীয়ত: যেখানে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সেখানে অভিযোজনের ব্যবস্থা নেওয়া। দুই দিক থেকে আমরা যদি ব্যবস্থা না নিই, তবে কয়েক মিলিয়ন মানুষের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত আন্তঃসরকারি প্যানেলের (আইপিসিসি) পঞ্চম মূল্যায়ন প্রতিবেদনে (এআর-৫) স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস বা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব চলমান শতাব্দীতে আরও তীব্রতর হতে থাকবে।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সময় খুবই দ্রুত চলে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতম প্রভাব থেকে বাঁচতে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিন হাউম গ্যাসের নিঃসরণ ৪৫ শতাংশ হ্রাসের মাধ্যমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখা আমাদের জরুরি প্রয়োজন। আর ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব এড়াতে হবে।
 
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আকারে ছোট এবং জনসংখ্যা বিবেচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ বাংলাদেশের ওপর। ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বার্ষিক জিডিপির দুই শতাংশ হারাবে এই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির কারণে এবং ২১০০ সালে অবিশ্বাস্যভাবে এর পরিমাণ হবে নয় শতাংশ।

এই বিভাগের আরো খবর