মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৭ মুহররম ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
৩০

তৃতীয় ড্রিমলাইনার `গাঙচিল` উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০১৯  

বিমানে যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির আরও একটি ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ 'গাঙচিল’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
 
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল থেকে নতুন বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ‘গাঙচিল’ এর উদ্বোধন করেন তিনি।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আশা করি বিমান সুনামটা অক্ষুণ্ন রাখবে, সুনাম বাড়াবে, যাত্রীসেবার মান উন্নত করবে।
 
উড়োজাহাজগুলোর যথাযথ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যে জিনিসগুলো আমরা এনে দিচ্ছি, এই প্লেনগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন এটা সবার দায়িত্ব। নিজের দেশ, নিজস্ব সম্পদ সে কথা মনে রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার একটা প্রতীক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যখন যায় বিমানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে চিনবে, জানবে, সম্মান করতে পারবে।
 
‘বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে সবাইকে বলবো, আপনাদেরও সেই আন্তরিকতা নিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিচালনা করবেন।’
 
তিনি বলেন, আজ দেশ যদি উন্নত হয়, অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হয়, দেশের অগ্রযাত্রা যদি অব্যাহত থাকে সবাই ‍সুন্দর জীবন পাবে, সুখী হয়ে চলতে পারবেন। আর আমাদের লক্ষ্য সেটাই।
 
ককপিটে প্রধনামন্ত্রী শেখ হাসিনাঅন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব) মোহাম্মদ ইনামুল বারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল।
 
এর আগে বিমানবন্দরে পৌঁছে নতুন উড়োজাহাজটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধন করেই প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজটিতে আরোহণ করেন এবং ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। বিকেল সাড়ে ৫টায় উদ্বোধনী ফ্লাইটে আবুধাবির উদ্দেশে আকাশে ডানা মেলবে ‘গাঙচিল’।

গত ২৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে দেশে আসে ‘গাঙচিল’। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে উড়োজাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে ‘গাঙচিল’। 

‘গাঙচিল’ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ালো তিনটিতে।
 
২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করে বিমানবাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর আগে এগুলোর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দু’টি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ যুক্ত হয়েছে। বাকি চারটি ড্রিমলাইনারের২০১৮ সালে বাংলাদেশ বিমানের বহরে আকাশবীণা ও হংসবলাকা যুক্ত হওয়ার পর আজ যুক্ত হলো ড্রিমলাইনার গাঙচিল।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেশে আসতে পারে চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’।

বিমানের চারটি ড্রিমলাইনারের নামই দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে পারে। অন্য উড়োজাহাজের চেয়ে এর জ্বালানি খরচও ২০ শতাংশ কম।

ড্রিমলাইনার গাঙচিলের ২৭১টি আসনের মধ্যে ২৪টি বিজনেস ক্লাস এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসের আসন। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড ও সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড সুবিধা রয়েছে।

অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা নিতে পারবেন যাত্রীরা।

এই বিভাগের আরো খবর