• শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৭

  • || ০৭ সফর ১৪৪২

পিরোজপুর সংবাদ

পাঠদান কার্যক্রম জোরদারে চালু হচ্ছে `শিক্ষা টিভি`

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিটিভির ডিজির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাউশি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজিদের সদস্য করা হয়েছে

করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সংসদ টিভি ও রেডিওতে পাঠদান চলছে। সরকারের দুটি গণমাধ্যমে নানা ধরনের অনুষ্ঠান থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে পাঠদান। আবার অনেক স্থানে সংসদ টিভি দেখা যায় না। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের রেডিওতে পাঠদান কার্যক্রম চললেও মনোযোগী হতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এসব সমস্যা স্থায়ী সমাধানের জন্য 'শিক্ষা টিভি' চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ টিভির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রচার করা হবে। এজন্য বিটিভির মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, করোনার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় করণীয় নির্ধারণ করতে গত ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষা টিভি চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিটিভির ডিজির নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজিদের কমিটির সদস্য করা হয়েছে।করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৮ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। কয়েক দফায় ছুটি বাড়িয়ে সর্বশেষ আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠের মধ্যে রাখতে ২৯ মার্চ থেকে 'আমার ঘরে আমার স্কুল' নামে সংসদ টেলিভিশনে ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পাঠদান চালু করা হয়। প্রথমে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ক্লাসগুলো পুনঃপ্রচার করা হয়। প্রতিদিন চার ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। ৭ এপ্রিল থেকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত 'ঘরে বসে শিখি' শিরোনামে সংসদ টেলিভিশনে শুরু হয় ক্লাস।  প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত রেকর্ডিং করা ক্লাস সংসদ টিভিতে প্রচার করা হয়। প্রতিটি ক্লাস ২০ মিনিটব্যাপী। গত ১২ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ বেতারের এএম-৬৯৩ মেগাহার্জে এবং এফএম ব্র্যান্ড ও কমিউনিটি রেডিওতে ক্লাসের সম্প্রচার শুরু হয়। মাধ্যমিক স্তরের ক্লাসও রেডিওতে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  

সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদ টিভিতে প্রাথমিকের রেকর্ডিং ক্লাস চালু করা হলেও ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ক্লাসের বাইরে রয়েছে। দুই হাজারের বেশি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ফোনে সাক্ষাৎকার নিয়ে এই জরিপটি করেছে বিশ্বব্যাংক। তাতে বলে হয়েছে, সরকারিভাবে অনলাইন ভার্চুয়াল শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারছে মাত্র ২১ ভাগ শিক্ষার্থী। বাকি ৭৯ ভাগ এই ভার্চুয়াল শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। দেশের দুর্গম এলাকায় বিদু্যৎ নেই। আবার অনেক শিক্ষার্থীর বাসায় টিভি নেই। আবার টিভি থাকলেও বিদু্যতের লোডশেডিংয়ের কারণে সংসদ টিভির পাঠদানের বাইরে রয়েছে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী। সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে সংসদ টিভিতে ক্লাস এক ঘণ্টা কম সম্প্রচার হয়। এসব সমস্যা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের তিন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করেন।

সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহাবুব হোসেন সংসদ টিভির মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হলেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রেণি কক্ষের বাইরে রয়েছে তা তুলে ধরেন। তিনি সভায় জানান, পাঠদানের জন্য প্রচুর কন্টেন্ট তৈরি আছে। টিভিতে পাঠদান ছাড়াও শিক্ষামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য স্থায়ীভাবে 'শিক্ষা টিভি' চালুর প্রস্তাব করেন সচিব। তার প্রস্তাবে বিটিভির ডিজি এম হারুন-অর-রশীদ জানান, বিটিভি ও সংসদ টিভির জন্য বরাদ্দকৃত ফ্রিকোয়েন্সি দিয়েই শিক্ষা টিভি চালু করা সম্ভব।

সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংসদ টিভির ফ্রিকোয়েন্সি না পাওয়ায় বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সমস্যা ১৫ দিনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে সমাধান করা যাবে বলে জানান বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম। সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে শিক্ষা টিভি চালুর সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নে বিটিভির ডিজির নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউলস্নাহ বলেন, আমরা মিটিং করে একটি প্রস্তাব দিয়েছি। তাতে আমাদের চাহিদা কি? সারা দিনে আমরা কয় ঘণ্টা কন্টেন্ট দিব। সারা বছর কি ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে তুলে ধরেছি। প্রাথমিকের পক্ষে আমি, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি ডিজিরা সবাই মিলে চাহিদা দিয়েছি। পরে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরেকটি সভা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সে সভায় অংশ নিতে পারিনি। বিশেষজ্ঞরা ঠিক করছেন শিক্ষা টিভি করতে গেলে কী কী দরকার হবে। সরকার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিটিভির নিয়ন্ত্রণেই থাকবে শিক্ষা টিভি। এ টিভির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রাথমিক পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।  

নামি-দামি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলে না পাঠিয়ে বরং ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্লাস টেলিভিশনে প্রচার করতে একটি 'শিক্ষা টিভি' করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

গত বছর ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে নামি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলে ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন ডিসিরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, এখন তো টেলিভিশনের দাম তেমন না। টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের খুব ভালো ভালো শিক্ষকদের ভালো ক্লাসগুলোকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে একই সঙ্গে সব স্কুলে দেখাতে পারি। সেজন্য একটা শিক্ষা টিভি জাতীয় কোনো কিছু চিন্তা করা যায় এবং সেটি করা গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যারা শিক্ষক আছেন তারাও শেখানো পদ্ধতি থেকে উপকৃত হবেন।

প্রসঙ্গত, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস টিভির মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয় অনেক বছর থেকে। বিশ্বের বহু দেশে শিক্ষা টিভি চালু রয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর