সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬   ১৪ সফর ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
২৪

পিরোজপুরে কোন ক্যাডার-গডফাদার থাকবে না- গণপূর্তমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০১৯  

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, পিরোজপুরে কোন ক্যাডার, গডফাদারের রাজনীতি থাকবে না। রাজনৈতিক দল হচ্ছে মানুষের কল্যাণে আত্ম উৎসর্গ করার জন্য রাজনীতি। বিগত দিনে যারা ক্যাডার সৃষ্টি করে গডফাদারের রাজনীতি করেছেন তা থেকে এখন দূরে সরে আসুন। পিরোজপুরের মানুষ থাকবে মুক্ত। হুঙ্কার, চিৎকার, প্রভাব দেখানোর দিন শেষ। এ জোর এখন আর কেউ দেখাবেন না। যে যার মতো দল করবে, কিন্তু জোর করে কাউকে দিয়ে শ্লোগান দেয়ানো যাবে না। পিরোজপুরের মানুষ মুক্ত বিহঙ্গের মতো উন্মুক্ত দিগন্তে বিচরণ করবে।

মন্ত্রী বলেন, শারদীয় দূর্গোৎসব বাঙ্গালীর সকলের উৎসব। নীতি নৈতিকতা মূল্যবোধ সকল ধর্মের মুল কথা। সংবিধানের চার মুলনীতির অন্যতম ধর্ম নিরপেক্ষতা বোধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে চলতে হবে। ধর্ম যার যার মনের বিশ্বাসের বিষয়। ধর্মের পরিচয় দিয়ে

তিনি মঙ্গলবার বিকেলে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামন্ডপে অনুদান বিতরণ কালে এসব কথা বলেন।

পিরোজপুর সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, ৭৫ এ ১৫ আগষ্টের পর সংবিধান থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে পাকিস্তানি ভাবধারায় রাষ্ট্র পরিচলনা করা হতো। ২০০১ এর নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় পূর্নিমাসহ অসংখ্য অকথ্য নির্যাতনের কাহিনী এ দেশের সকল মানুষের জানা। আজ সেই কলঙ্কজনক অধ্যায় থেকে দেশকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতি মুক্তি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেয়া হবে না। পিরোজপুর হবে শান্তির শহর। এখানে মাদক, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজী, ইভটিজিং চলবে না।

অনুষ্ঠানে পিরোজপুর সদর উপজেলার ৬৫টি পূজা মন্ডপে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল, ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে চাল এবং পিরোজপুর জেলা পরিষদ থেকে অনুদান বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল হাকিম হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে নাজিরপুর উপজেলার ১১৮টি পূজামন্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে অনুদান বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের নাজিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মাষ্টার সুখরঞ্জন বেপারীর সভাপতিত্বে ও জেলা পরিষদের সদস্য তুহিন হালদার তিমিরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে উপজেলার ১১৮টি মন্দিরের প্রতিটিতে   এক হাজার টাকা, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এক হাজার করে টাকার চেক এবং সরকারী ৫শ’ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. হায়াতুল ইসলাম খান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা খান, উপজেলা চেয়ারম্যান মাষ্টার অমূল্য রঞ্জন হালদার প্রমুখ।

গণপূর্ত মন্ত্রী সন্ধ্যায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পিরোজপুর ডায়াবেটিক সমিতির আজীবন ও দাতা সদস্যদের মাঝে সম্মাননা স্মারক বিতরণ করেন এবং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

এর আগে বিকেলে তিনি পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের মাঝে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এই বিভাগের আরো খবর