• রোববার   ৩১ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭

  • || ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
৫৭

প্রবাসে ত্রিশ রোজা করে দেশে এসে রমজান পেলে করণীয়

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২০  


রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা যখন চাঁদ দেখবে, তখন রোজা রাখবে (রোজা রাখা শুরু করবে) এবং চাঁদ দেখে ইফতার করবে ( রোজা ভাঙ্গবে)। যদি আকাশ মেঘলা থাকার কারণে চাঁদ দেখা না যায় তাহলে মাসকে ত্রিশ দিনে পূর্ণ করবে। (বুখারি শরিফ, হাদিস নম্বর-১৯০০)।

প্রশ্ন : আমরা অনেকে দেশের বাইরে থাকি। কোনো কোনো দেশে আমাদের চেয়ে এক দিন আগে রোজা শুরু হয়ে যায়। অনেক সময় ওই সব দেশে থেকে ত্রিশ রোজা পুরা করার পর, দেশে আসা হয়। কিন্তু তখনও আমাদের দেশে রোজা চলতে থাকে। অথচ ত্রিশ রোজা ইতোমধ্যে পুরা হয়ে গেছে।
এখন জানতে চাচ্ছি, দেশে আসার পর দেশের অবস্থা অনুযায়ী বাকি দু’এক দিনও কি রোজা রাখতে হবে? নাকি ত্রিশ রোজা পুরা করে আসায় রোজা না রাখলেও চলবে? তেমনিভাবে কোনো লোক যদি এমন দেশে যায় যেখানে ইদ শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু তার রোজা পূর্ণ হয়নি তাহলে বাকি থাকা রোজাগুলো কাযা করতে হবে? জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা যখন চাঁদ দেখবে, তখন রোজা রাখবে (রোজা রাখা শুরু করবে) এবং চাঁদ দেখে ইফতার করবে ( রোজা ভাঙ্গবে)। যদি আকাশ মেঘলা থাকার কারণে চাঁদ দেখা না যায় তাহলে মাসকে ত্রিশ দিনে পূর্ণ করবে। (বুখারি শরিফ, হাদিস নম্বর-১৯০০)। তাই প্রত্যেক দেশের মানুষের কর্তব্য হচ্ছে, তারা তাদের নিজ দেশে চাঁদ দেখে রোজা রাখা শুরু করবে এবং চাঁদ দেখে রোজা ভাঙ্গবে।

যারা একই দেশে থেকে রোজা শুরু করে এবং সে দেশেই রোজা শেষ করে তাদের জন্য এই হাদিসের ওপর আমল করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে যারা প্রবাসে থেকে রোজা শুরু করে এবং ইদ পালন করতে ছুটিতে দেশে আসে, যেখানে রোজা রাখা আগে পরে হয় তাদের জন্য এই হাদিস অনুযায়ী আমল করতে সমস্যা। কারণ, সে যেখানে চাঁদ দেখে রোজা রেখেছিল, সেখানে ঈদের চাঁদ দেখা গেলেও বর্তমানে যেখানে আছেন সেখানে চাঁদ দেখা যাচ্ছে না। তেমনিভাবে অন্য এলাকা থেকে, আগে চাঁদ দেখা এলাকায় গেলেও সমস্যা। কারণ, তখন তার রোজা হচ্ছে মাত্র আটাশ বা উনত্রিশটি। কিন্তু ওই এলাকার মানুষ রমজান পুরা করেই এখন ঈদ করছে। তাই এ ব্যাপারে শরীয়তবেত্তাদেরর সমাধান হচ্ছে-

এক. কোনো ব্যক্তি এমন দেশে রোজা রাখা শুরু করলে, যেখানে রোজা আগে শুরু হয়েছে এবং সে দেশের চাঁদ অনুযায়ী রোজা পুরা করে দেশে চলে এলো, যেখানে এখনো রোজা রাখা অব্যাহত আছে তাহলে অতিরিক্ত দিনগুলোর রোজাও তাকে রাখতে হবে। বর্তমান অবস্থানস্থল অনুযায়ী রমজান মাস পুরা করে সবারর সঙ্গে ঈদ পালন করবে। (ফতোয়ায়ে উসমানী, খণ্ড-২ পৃষ্ঠা-১৭৭, আপকে মাসায়েল, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৬৪৬)।

দুই. আর যদি এমন কোনো দেশে থেকে রোজা রাখা শুরু হয়, যেখানে রোজা পরে শুরু হয়েছে এবং পরবর্তীতে ওই দেশের চাঁদ অনুযায়ী রোজা পুরা না করে অন্যদেশে চলে গেছে, যেখানে রোজা শেষ হয়ে ঈদ পালন হচ্ছে তাহলে তার করণীয় হচ্ছে ওই দেশের লোকদের সঙ্গে তখনি ঈদ পালন করা। তবে পরবর্তীতে বাকি থেকে যাওয়া রোজাগুলোর কাজা করতে হবে। (ফতোয়ায়ে উসমানী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১৭৭, আপকে মাসায়েল, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৬৪৭)।

ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর