রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৪ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
২১৭

ফেসিয়াল স্টেপস

আকাশলীনা

প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর ২০১৮  

ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে ফেসিয়ালের কোন বিকল্প নেই। নিয়মিত ফেসিয়াল ত্বককে সুস্থ, সুন্দর করে দীর্ঘদিন যৌবন দীপ্ত চেহারা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই ত্বকের যত্নে নিয়মিত ফেসিয়াল করাটা জরুরী। ফেসিয়াল করতে অনেকেই পার্লারের শরণাপন্ন হন। তবে অধিকাংশ পার্লারেই স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের অভাব রয়েছে। একই প্রডাক্ট, একই তোয়ালে, একই রুমাল এবং অন্যান্য কিটস ঠিকমত পরিচ্ছন্নতা না মেনে ব্যবহার করা হচ্ছে অনেকের জন্যে। ফলে উপকারের বদলে ত্বকের ছোঁয়াচে সমস্যাগুলো বাড়ার সম্ভাবনা। আবার অনেকেরই সময়, সুযোগ বা অর্থের অভাব আছে পার্লারে গিয়ে কাজটি করানোর। এসব নানা কারনে যদি ঘরে বসেই ফেসিয়ালটা করে নিতে পারেন অনেকের জন্যেই তা বেষ্ট হয়। তবে সেজন্যে আমাদের ক্লিয়ার ধারনা থাকতে হবে ফেসিয়ালের পুরো পদ্ধতি/ ধাপ সম্পর্কে। আজকে ধারনা দিই সে সম্পর্কে। ফেসিয়ালের মাধ্যমে ত্বকের পরিপূর্ণ উপকার পাওয়ার জন্যে ৭টি ধাপ ফলো করতে হয়। সেসব ধাপগুলো হলোঃ

১।    ক্লিনজিং
২।    স্টিমিং
৩।    স্ক্রাবিং
৪।    ফেসপ্যাক
৫।    টোনিং
৬।    ট্রিটমেন্ট
৭।    ময়েশ্চারাইজিং।

প্রস্তুতি পর্ব।    ফেসিয়াল করার জন্যে শুরুতেই কিছুটা প্রস্তুতির দরকার আছে। নিরিবিলি ঘন্টা খানিক সময় বের করে নিন ফেসিয়াল করার জন্যে। পরিস্কার তোয়ালে, রুমাল, তুলা, বোল গুছিয়ে নিন শুরুতেই। বড় গলার জামা পরিধান করে নিন। চুল টেনে আচড়ে বেঁধে নিন যেন মুখে এসে ঝামেলা না করতে পারে। হাত সাবান দিয়ে পরিস্কার করে ধুয়ে শুরু করুন।

             ক্লিনজিং ও ম্যাসেজিং

যে কোন রূপচর্চার জন্যেই প্রথম শর্ত পরিচ্ছন্ন ত্বক। ফেসিয়ালের প্রথম ধাপই হলো ক্লিনজিং। ক্লিনজিং এর মাধ্যমে ত্বকের উপরিভাগ পরিচ্ছন্ন করে পরের ধাপগুলোর জন্যে প্রস্তুত করতে হবে। ক্লিনজিং এর জন্যে ক্লিনজিং লোশন, ক্লিনজিং ক্রিম, ক্লিনজিং অয়েল – ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করতে পারেন যে কোনটাই। ভাল করে মুখ ধুয়ে এর যে কোনটি ভাল করে ম্যাসেজ করে মুখ ও গলায় লাগান। ভেজা তোয়াল/রুমাল চিপে আস্তে আস্তে মুছে নিন। ম্যাসেজ ক্রিম ব্যবহার করতে চাইলে এবার মুখ এবং গলায় নিয়ম মেনে ৭/৮ মিনিট ধরে ম্যাসেজ করে পছন্দমত ম্যাসেজ ক্রিম লাগান। আবারো তোয়ালে/ রুমাল ভিজিয়ে চিপড়ে মুখ মুছে নিন।


                       স্টিমিং  

 ক্লিনজিং এ ত্বকের উপরিভাগের ময়লা দূর হলেও ভিতরের ময়লা দূর করার জন্যে প্রয়োজন পড়ে স্টিমিং এর। স্টিমিং করলে ত্বকের লোম কূপের মুখগুলো (পোরস) খুলে যায়। ভেতরের ময়লা সহজে বের হয়ে যায়। এজন্যে একটা পাত্রে ভাপ ওঠা গরম পানি নিন। মাথা তোয়ালে দিয়ে পেচিয়ে মুখটা পাত্রের উপর এনে ভাপ নিন। তৈলাক্ত এবং স্বাভাবিক ত্বকে ৭/৮ মিনিট এভাবে ভাপ নিতে পারেন। তবে শুষ্ক ত্বকে ২/৩ মিনিট ভাপ নেওয়াই যথেষ্ট। আবার ভাপ নিতে না চাইলে শুষ্ক ত্বকের অধিকারীরা হালকা কুসুম গরম পানিতে মোটা রুমাল ভিজিয়ে চিপড়ে আস্তে আস্তে করে ৫/৬ মিনিট সময় নিয়ে ত্বক মুছে নিতে পারেন। 

              স্ক্রাবিং

  স্টিমিং এর ফলে মুখের পোরসগুলো ওপেন হওয়াতে এবং ত্বক নরম হওয়াতে এবারে স্ক্রাবিং এর সাহায্যে সহজেই ত্বকের মরা কোষ এবং ব্লাকহেডস বের করে ফেলতে পারবেন। ত্বকের ধরণ অনুযায়ী স্ক্রাবিং মিক্সচার মুখে ৪/৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর হাতে পানি নিয়ে ৩/৪ মিনিট ধরে ম্যাসেজ করে উঠিয়ে ফেলুন। ভিজা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন। 

    আপনাদের সুবিধার জন্যে সব ধরনের ত্বকের উপযোগী কয়েকটি প্রাকৃতিক স্ক্রাবার বানানোর উপায় দিয়ে দিচ্ছিঃ

সাধারন ত্বক -    দুধ ২ টেবিল চামচ + চালের গুড়া ১ টেবিল চামচ। 
তৈলাক্ত ত্বক -    ছোট ১টি টমেটো + ১ টেবিল চামচ চিনি/ লবণ।
শুষ্ক ত্বক -     ১ টেবিল চামচ ময়দা + ২ টেবিল চামচ তরল দুধ।
মিশ্র ত্বক -    ১ টেবিল চামচ পাকা কলা পেষ্ট + ১ টেবিল চামচ মধু। 

                 ফেসপ্যাক

  এবার পালা ফেসপ্যাক লাগানোর। ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফেসপ্যাক রেডি করে মুখ ও গলায় লাগিয়ে ১৫/২০ মিনিট রাখুন। চোখের উপরে সসা স্লাইস রেখে এ সময়টা কথা না বলে রেষ্ট নিন। এরপর ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে ভাল করে মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে ধুয়ে নিন। আপনাদের সুবিধার জন্যে থাকছে কয়েকটি ফেসপ্যাক বানানোর পদ্ধতিঃ

স্বাভাবিক ত্বক -  গোলাপজল ২/৩ ফোটা + শসা পেষ্ট ১ টেবিল চামচ + বেসন ১ টেবিল চামচ। 
তৈলাক্ত ত্বক -    মসুর ডাল বাটা ১ টেবিল চামচ + হলুদ বাটা ১/৩ চা চামচ + মুলতানি মাটি ১ চা চামচ।
শুষ্ক ত্বক -   দুধের সর ১ টেবিল চামচ + ল্যাভেন্ডার অয়েল ২/৩ ফোটা + ময়দা ১ টেবিল চামচ।
মিশ্র ত্বক -  শসার রস ১ টেবিল চামচ + মধু ১/২ টেবিল চামচ + ময়দা ১ টেবিল চামচ। 


                      টোনিং  

 টোনিং এর মাধ্যমে পোরসগুলো আবার বন্ধ হয়ে যাবে। কটন বলে টোনার মাখিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বাজারে বিভিন্ন ত্বকের উপযোগী টোনার কিনতে পারেন। তাছাড়া, শসার রস, গোলাপ পানি এগুলোও টোনার হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।

             ট্রিটমেন্ট   

 এখন সময় এতগুলো স্টেপস ফলো করার ফলে সংবেদনশীল হয়ে যাওয়া ত্বককে ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে স্বাভাবিক করে তোলার। আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল, নারিকেল তেল প্রভৃতির যে কোনটা দিয়ে ট্রিটমেন্ট করে নিন। মুখে মেখে ৫ মিনিট রেখে ভেজা ঠান্ডা রুমাল দিয়ে মুছে নিন। ১টা আইসকিউব পাতলা কাপড়ে পেচিয়ে পুরো মুখে ঘসে নিন।  

                     ময়েশ্চারাইজিং   

 ত্বক পরিচর্যার সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে ময়েশ্চারাইজিং। বাজারে নানা ধরনের ময়েশ্চারাইজিং লোশন/ক্রিম পারেন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভাল ব্রান্ডের যে কোনটা বেছে নিতে পারেন। ময়েশ্চারাইজিং লোশন মেখে শেষ করুন ফেসিয়ালের রূপরুটিন।