• সোমবার   ২৫ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৭

  • || ০২ শাওয়াল ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
৫৫

বাসা থেকে বের করে দেওয়ার বাড়িওয়ালাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২০  

 

মাত্র এক মাসের ভাড়ার জন্য তিন শিশুসহ এক দম্পতিকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা নূর আক্তার শম্পাকে (৪৫) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২২ এপ্রিল) শম্পার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে  ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ এ আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বুধবার দুপুরে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক সাইদুর রহমান পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে শম্পাকে আদালতে হাজির করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক উভয় (রিমান্ড ও জামিন) আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন শম্পার পক্ষে আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে কলাবাগান থানার ৫৮/৭ নম্বর পান্থপথ এলাকায় একটি বাসায় এক মাসের ভাড়া বাকি থাকায় ভাড়াটিয়াকে দুই মাসের শিশুসহ তিন সন্তান ও তার বাবা-মাকে মারধর করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেন বাড়িওয়ালা শম্পা। 

ছোট দুই সন্তান ও কোলের দুই মাসের এক বাচ্চাসহ কলাবাগানের একটি বাসায় ছয় মাস আগে ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছিলেন সেলিম হোসেন। তিনি একটি দোকানে কাজ করতেন। করোনাভাইরাসের কারণে তিনি এখন বেকার থাকায় এক মাসের ভাড়া দিতে পারছিলেন না।

কুলসুম-সেলিম দম্পতি জানান, তারা প্রতি মাসে ভাড়া পরিশোধ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এক মাসের ভাড়া বকেয়া পড়েছে। এতে বাড়িমালিকের কাছে অনেক অনুনয় করেছেন। কিন্তু তাদের কোনো কথা শোনেননি। বরং রাতেই বাড়ির মালিক সম্পা মিথ্যার আশ্রয় নেয়। থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন, তার ভাড়াটিয়া বাড়ি মালিককে মারধর করছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে বিষয়টি মিথ্যা।

পরে মামলা করেন ভাড়াটিয়া। এরপর ভাড়াটিয়া সন্তানদের নিয়ে তার মায়ের বাসায় চলে যান। এরপর থেকে বাড়িওয়ালা শম্পা পলাতক ছিলেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি সড়ক থেকে শম্পাকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-২। শম্পার বিরুদ্ধে গত ১৯ এপ্রিল রাতে ওই ভাড়াটিয়া বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় মামলা করেন।

র‌্যাব-২ কর্মকর্তা মেজর এইচ এম পারভেজ আরেফিন জানান, ওই বাড়িওয়ালাকে আমরা নিয়মিত নজরদারিতে রেখেছিলাম। রাতে ধানমন্ডির একটি সড়ক থেকে তাকে গ্রেফতার করি। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আদালত বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর