শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৩ ১৪২৬   ১৮ সফর ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
৬৪

বিভাগের সর্ববৃহৎ পূজোর আয়োজন মঠবাড়িয়ার রাজমন্দিরে

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০১৯  

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় রাজমন্দির নামে এক পূজা মন্ডপে এবার ৩৫১ প্রতীমার দূর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়িতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বাধিক প্রতিমার সমন্বয়ে এ দূর্গা পূজার আয়োজন ইতিমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে সারা ফেলেছে। এবার এ পূজা মন্ডপেই উপকূলীয় এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ আয়োজনকে ঘিরে মহা অষ্টমীতে হাজার হাজার হিন্দু ভক্ত-দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দুরে কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়ির  রাজমন্দিরের গিয়ে দেখা গেছে, এক একর জমি জুড়ে রাজমন্দিরের আশপাশ জুড়ে পৃথক ৫৫টি মন্দিরে সর্ব মোট ৩৫১টি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। ৪ঠা অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে দূর্গা পূজা শুরু ।  উৎসব চলবে টানা পাঁচদিন। সেই সাথে এখানে মেলার আয়োজন চলছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, এ মন্ডপে মূল দূর্গা প্রতিমার পাশাপাশি দেবদেবীর নান্দনিক মূর্তি দিয়ে চার হাজার বছরের পুরানো পৌরাণিক কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে। গতবছর এ রাজমন্দিরে ১৫৭টি প্রতীমা দিয়ে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এবার প্রতিমার সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৫টি পৃথক মন্দির জুড়ে ৩৫১ টি পুতিমার পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আজ রবিবার মহা অষ্টমী কুমারী পূজা অর্থাৎ এক বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ- চিন্তা করে তাকে ‘দেবী’ জ্ঞানে পূজা করবে। আগামীকাল সোমবার মহানবমী পূজার মধ্য দিয়ে দেবীকে আরাধনা। এবং মঙ্গলবার দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে ৫ দিনব্যাপী দূর্গা উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

এ রাজমন্দিরের পুজা মন্ডপের সব থেকে বড় আকর্ষণ হলো  মন্ডপে প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মহাভারতের কাহিনী। ৩৫১টি প্রতিমার মধ্যে শিবের বিবাহ, দোক্ষ যজ্ঞ, হনুমান, দশানন রাবন, রাধাকৃষ্ণ, মা-যশোদা ও শ্রী কৃষ্ণ ,লক্ষ্মী, সরস্বতী, নারায়নসহ কলিযুগের বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা দর্শককে মুগ্ধ করেছে। এর পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক বিভিন্ন শিক্ষণীয় দৃশ্যও তুলে ধরা হয়েছে নানা প্রতীকি প্রতীমার মধ্য দিয়ে।

রাজমন্দিরের পূজা দর্শণে এসে স্থানীয় তুষখালী বন্দরের ব্যবসায়ি  শংকর দ্বেনাথ বলেন, বরিশাল বিভাগের আর কোথাও এতো বড় আয়োজন নাই। এটি এ বিভাগের সর্ববৃহৎ দুর্গোৎসব।

হালদার বাড়ির দুর্গাপুজা উদযাপনের প্রধান আয়োজক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক  শ্রী শৈলেশ্বর হালদার বলেন, বর্তমানে এ মন্ডপ এই অঞ্চলে বৃহৎ দুর্গা মন্ডপে রূপ নিয়েছে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে নারী-পুরুষসহ সকল মানুষ এখানে পূজা উপভোগ করতে সমবেত হচ্ছেন।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ  মো. মাসুদুজ্জামানর মিলু জানান, দুর্গোৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর