রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২ ১৪২৬   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
১০০

মঠবাড়িয়ার ৫৭ আশ্রয়কেন্দ্রে দেয়া হচ্ছে শুকনা খাবার

প্রকাশিত: ৯ নভেম্বর ২০১৯  

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ সম্ভাব্য আঘাত মোকাবেলায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিএম সরফরাজের সভাপতিত্বে ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি, ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির  ইউনিট টিম লিডার ও ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যগণদের নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন।

আজ শনিবার বুলবুলের প্রভাব ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের পর উপজেলার বলেশ্বর নদী তীরবর্তী মঠবাড়িয়ার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। দুর্যোগের সম্ভাব্য আঘাত হানার বিষয়ে মাইকিং করে জনগণকে আগাম সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছে। এ উপজেলা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। উপজেলা জুড়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। উপজেলায় ১৫ টি ইউনিটে সিপিপির মোট ১২৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন।

এদিকে বুলবুলের প্রভাবে বলেশ্বর নদে অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ক্ষেতাছিড়া ও কচুবাড়িয়া পয়েন্টে বেড়িবাঁধ নদের প্লাবনে হুমকীর মুখে রয়েছে।

শনিবার বিকেল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ রাতের ঝড়ে পড়ার আতংকে পাশ্ববর্তী সাইক্লোন শেল্টারে ভির করছে।
এ সময় গৃহস্থ পরিবারগুলো সাথে করে তাদের গবাদিপশু নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আনছেন।

জানা গেছে, উপজেলার ৫৭টি সাইক্লোন শেল্টারে বিকেল থেকে আতংকিত হয়ে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজের তত্ত্বাবধানে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকরা বলেশ্বর নদের মাঝের চরের ১২০০ জেলে পরিবার সদস্যদের অর্ধেক মানুষকে মাঝের চর ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ওই চরের বাকি জেলে পরিবারগুলোকে নদী পার করে উলুবাড়িয়া সাইক্লোন শেল্টারে উঠিয়ে দিয়েছেন। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রিত পরিবারগুলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুকনা খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ করছেন।

রাত হওয়ার সাথে সাথে উপজেলার ৫৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে দুর্যেগ কবলিত মানুষের ভিড় বাড়ছে। অনেক পরিবার নিজের বসতি ফেলে গাঁয়ের আশপাশের পাকা বাড়িতেও আশ্রয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে শুক্রবার দিনগত গভীর রাত থেকে বিরামহীন বর্ষণ চলছে। মাঝে ্মাঝে হাল্কা বাতাস বইছে। হাটবাজারেও স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে।

যানবাহনেরও তেমন চলাচল নেই। সব মিলিয়ে উপকূলীয় মঠবাড়িয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আতঙ্কিত।

এদিকে আজ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ও দমকা বাতাসে ধানক্ষেত নেতিয়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় কৃষির ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।


মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জি এম সরফরাজ প্রস্তুতি সভা শেষে জানান, স্বেচ্ছাসেবদের সতর্ক রাখা হয়েছে। যাতে ঝড় শুরুর আগেই মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়। এজন্য উপজেলা পরিষদে সার্বক্ষণিক একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে আশ্রয় কেন্দ্রে না যাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। এসব বিপন্ন এলাকায় বসতি মানুষজন এবার সচেতনভাবে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বেশ তৎপর রয়েছেন।


  


 

এই বিভাগের আরো খবর