শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৮ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

পিরোজপুর সংবাদ
৮৬

মঠবাড়িয়ায় কামারদের ব্যাস্ত সময় পার ॥ নেই দম ফেলার ফুরসত!

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট ২০১৯  

 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কোরবানি ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে কামারদের ব্যস্ততা। দা, বটি, চাপাতি, ছুরি বানাতে ব্যাস্ত সময় পার করছে নেই দম ফেলার ফুরসত। দিন রাত ঘাম ঝরাচ্ছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের কামারপট্টি এখন টুং টাং শব্দে মুখরিত।

কামাররা জানান, ঈদুল আজহা এলেই তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে ঈদ ছাড়া বাকি দিনগুলোতে তাদের তেমন একটা ব্যস্ততা থাকে না বললেই চলে। এ মাস আমাদের পুরো বছরের রোজগার করতে হয়। বছরের অন্যান্য সময় তাদের দিনে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা আয় হয়। আবার কোনো দিন রোজগার ছাড়াই কাটাতে হয় দিন। সে তুলনায় এখন আয় কয়েকগুণ বেশি।

সরেজমিন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কেউ তৈরি করছে দা, কেউ বা তৈরি করছে চাপাতি আবার কেউ কেউ তৈরি করছে ছুরি। আবার কেউ পুরাতনগুলো ধার দিচ্ছেন এবং নতুনগুলো সারিবদ্ধভাবে দোকানের সামনে সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে।

কামার সুনিল কর্মকার জানান, ঈদ উপলক্ষে কামারদের ব্যস্ততা বেড়েছে। কাজের চাপে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। তবে এ কাজে কয়লার প্রচুর চাহিদা থাকায় বর্তমানে কয়লা পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া দামও বেশি। পাশাপাশি লোহার দামও বেশি। সরকার সুলভ মূল্যে কাঁচামাল কেনার নীতিমালাসহ আর্থিক সহযোগিতায় ঋণের ব্যবস্থা করে দিলে ব্যবসায় কিছুটা সফলতার মুখ দেখা যেতো।

মঠবাড়িয়া দক্ষিন বন্দরের কামার চিত্ত কর্মকার জানান, নতুন চাপাতি ৮শ’ টাকা থেকে ১৫শ’ টাকা, দা ৪শ’ টাকা থেকে ৯শ’ টাকা,বটি ৫০০শ’ ১হাজার টাকা চাকু ১শ’ টাকা থেকে ১শ’ ২০ টাকা, খুন্তি ৪০ টাকা, শাবল ১শ’ ৫০ থেকে ২শ’ টাকা, হাতা ৫০ টাকা থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। 

স্থানীয় বসিন্দা আ.মালেক জানান, নতুনের চাইতে তারা পুরানো দা, ছুরি ধার দিয়ে নতুন করে তোলার কাজে বেশি আগ্রহ নিয়ে এখন ভিড় জমাচ্ছেন কামারের দোকানে।


 

এই বিভাগের আরো খবর