শনিবার   ১৬ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ

মাইগ্রেনের সঠিক কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০১৯  

মাথা ব্যথা আর মাইগ্রেন এক নয়। কিন্তু অনেকেই মনে করেন মাথা ব্যথা মানেই মাইগ্রেন। আর তখনই বাঁধে জটিলতা। কিন্তু সাধারণ মাথা ব্যথা থেকে মাইগ্রেন অনেকটাই আলাদা।

তাই মাইগ্রেন সম্পর্কে সঠিক ধারণাটি থাকা খুব বেশি প্রয়োজন। তাছাড়া মাইগ্রেনের লক্ষণগুলোও জানা আবশ্যক। দেরি না করে চলুন তবে জেনে নেয়া যাক মাইগ্রেন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-

মাইগ্রেন লক্ষণ
> প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব ও বমি এবং শব্দ ও আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা তৈরি হওয়া।

> এ ব্যথা মাথার যেকোনো অংশ থেকে শুরু হয়। পরে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে।

> মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে তা কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

মাইগ্রেনের ব্যথা অনেক ভয়ানক হতে পারে। তবে কখন সেটা আক্রমণ করবে তা জানা না থাকলে অবস্থা আরো সঙ্গীন হয়ে উঠতে পারে। কিছু পারিপার্শ্বিকতা মাইগ্রেনের ব্যথাকে উস্কে দেয়। তাই একটু সচেতন হলেই সেগুলোকে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক মাইগ্রেনের কারণ ও প্রতিকার সমূহ-

মানসিক চাপ
দৈনন্দিন জীবনের নানাবিধ ঘটনায় সৃষ্ট মানসিক চাপ থেকে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত ঘুম, ব্যায়াম, মেডিটেশন প্রভৃতি দ্বারা এর থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। চাপমুক্ত পরিস্থিতিতে থাকলে মাইগ্রেনের আক্রমণ হবার ঝুঁকি কমবে।

শব্দ
বিরক্তিকর বা উচ্চ শব্দে বেশিক্ষণ থাকলে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে। এছাড়াও এটি আপনার মানসিক চাপের মাত্রা বৃদ্ধি করবে। উচ্চ শব্দযুক্ত স্থানে কানে এয়ারপ্লাগ ব্যবহার করতে পারেন। আপনি চাইলে এয়ারবাড যুক্ত হেডফোন ব্যবহার করে শান্ত সংগীত শুনতে পারেন।কম্পিউটার
ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকলে মাইগ্রেনের ব্যথা বা দুশ্চিন্তা জনিত ব্যথা শুরু হতে পারে। আর আপনি যদি কম রেজ্যুলেশনের মনিটর ব্যবহার করেন তাহলে তা হবার সম্ভাবনা খুব বেশি। তাছাড়া সঠিক অঙ্গবিন্যাসে বসা গুরুত্বপূর্ণ। না হলে মাথা, ঘাড়, গলায় ব্যথা হতে পারে।

উজ্জ্বল আলো
আলোর প্রতি সংবেদনশীলতাকে বলা হয় ফোটোফোবিয়া। ফ্লোরোসেন্ট আলো ঝিকিমিকি আলোর ফলে সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে। একটি মিটিমিটি জ্বলতে থাকা আলো আপনার মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে তুলতে পারে। তাছাড়া যখন বাইরে থাকবেন তখন পানি, বরফ বা মেঘে প্রতিফলিত সূর্যের আলো থেকে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে।

খাবার ও পানীয়
কিছু খাবার আছে, যা মাইগ্রেন সৃষ্টির জন্যে দায়ী। যেমন: চাইনিজ খাবার, রেড ওয়াইন, অ্যালকোহল প্রভৃতি। তাছাড়াও কোনো বেলার খাবার না খেলে, অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে, পর্যাপ্ত পানি পান না করলে, বেশি কফি পান করলে মাইগ্রেন হতে পারে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।

আবহাওয়া
তাপমাত্রা ও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ হঠাৎ পরিবর্তনও মাইগ্রেনের ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা, দমকা হাওয়া, ঝড় প্রভৃতিও মাইগ্রেনকে উসকে দিতে পারে। এছাড়াও সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে খুব বেশি উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করাও মাইগ্রেনের একটি ট্রিগার।

ধূমপান
সিগারেটের নিকোটিন মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে। ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং প্রদাহ সৃষ্টি হয়। আপনি যদি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন এখনি তা ত্যাগ করুন। যদি তা নাও পারেন তাহলে ধোঁয়াময় এলাকা থেকে দূরে থাকুন। ধোঁয়া মাথা ব্যথা বাড়ায়।

অভ্যাসের পরিবর্তন
হঠাৎ করে অভ্যাসের পরিবর্তনের ফলেও মাইগ্রেন হতে পারে। যেমন- যদি আপনি দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্যে পরিবর্তন আনেন, প্রতিদিনের তুলনায় কম বা বেশি চা-কফি পান করেন এবং খুব বেশি বা কম ঘুমান তাহলেও মাইগ্রেন হতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর