সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   ভাদ্র ৩১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ

রোহিঙ্গা গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে রাখাইনে সরকারি স্থাপনা

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

 

 


এর মাঝেই রোহিঙ্গাদের বাসভূমি রাখাইনে তাদের গ্রামগুলোতে পুলিশ ব্যারাকসহ সরকারি স্থাপনা নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা: রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়ে রাখাইনে তাদের বসতবাটিতে সরকারি স্থাপনা নির্মাণ করেছে মিয়ানমার সরকার। অথচ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বারবার বলে আসছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। 

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক সরেজমিনে প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সম্প্রতি বিদেশি সাংবাদিকদের একটি দলকে উত্তর রাখাইনের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ করে দেয় মিয়ানমার সরকার। এর মধ্যে বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিবেদক জোনাথন হেডও ছিলেন। 

বিবিসি বলছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ওই সাংবাদিক প্রতিনিধি দলকে উত্তর রাখাইনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সেখানে কমপক্ষে চারটি জায়গায় দেখা গেছে, নতুন নির্মাণাধীণ কয়েকটি ঘর; যেখানে এক সময় রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছিলো, ছিলো তাদের ঘরবাড়ি। 

মিয়ানমার সরকারের নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোর জায়গায় যে এক সময় রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছিলো তার প্রমাণ পাওয়া গেছে স্যাটেলাইট ইমেজেও। 

তবে রোহিঙ্গা গ্রামের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি অস্বীকার করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। 

স্যাটেলাইট ইমেজে রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রাম। ছবি: বিবিসি থেকে নেওয়া ২০১৭ সালে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানোর দমন-পীড়নের পর ভয়ে প্রায় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সৈন্যদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় মগরাও। এ ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। যদিও রাখাইনে গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন এবং লুটপাটকে অস্বীকার করে মিয়ানমার বলে বেড়াচ্ছে, এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। 

এখন বলছে, কিছু রোহিঙ্গাকে রাখাইনে ফেরত নিতে তারা প্রস্তুত।কিন্তু গত মাসে দ্বিতীয়বারের মতো রোঙিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। কারণ মিয়ানমার সরকার অনুমোদিত ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কেউ-ই রাখাইনে যেতে রাজি নয়। 

এর পেছনে রোহিঙ্গাদের যুক্তি, মিয়ানমার তাদের ফেরত নিয়ে চলাচলের স্বাধীনতা বা নাগরিকত্ব দেবে কি-না সে বিষয়ে দেশটির সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না তারা। 

রোহিঙ্গারা বলছেন, শুধু ফেরত নিলেই হবে না। প্রত্যাবাসনের জন্য আগে তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। জমি-জমা ও ভিটেমাটির দখল ফেরত এবং রাখাইনে চলাফেরা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের সংঘটিত নির্যাতনের দায় নিয়ে এর ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। 

আর এ ঘটনার জন্য উল্টো বাংলাদেশকে দোষারোপ করে মিয়ানমার বলছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি বড় অংশকে তারা নিতে প্রস্তুত ছিলো। 

সম্প্রতি আমন্ত্রিত বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়েও রোহিঙ্গাদের জন্য সুযোগ-সুবিধাদি দেখানো হয়েছে। 

তবে সরেজমিনে ওই প্রতিনিধিদলে থাকা বিবিসির প্রতিবেদক জানিয়েছেন, মূলত রাখাইনে যাওয়া-আসা যে কারও জন্যই সংরক্ষিত। যে সাংবাদিক প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয় তাদেরও সৈন্যদের প্রহরায় থাকতে হয়। এমনকি পুলিশের অনুমতি ছাড়া স্থানীয় কারও সঙ্গে কথা বলা কিংবা ছবি তোলাও নিষিদ্ধ ছিলো। 

তবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে নির্মূলের প্রমাণ ওই এলাকায় স্পষ্টই দেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি। 

এই বিভাগের আরো খবর