বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৭ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
৪১৭

লিভারে সমস্যা হওয়ার নানা কারণ

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

লিভার আমাদের দেহের অন্যতম  প্রধান অঙ্গ।  মেটাবলিজমে প্রধান ভুমিকা রাখে এই লিভার।এছাড়াও শরীরের টক্সিন দূর করা, ওষুধ হজম, পিত্ত নিঃসরণ, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন উৎপাদন এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ  তাই দেহের স্বাভাবিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য, দেহের সুস্থতার জন্য লিভারের সুস্থতাও অনেক জরুরি।
তবে আমাদের কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে এই লিভার  প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এর ফলে  লিভার ড্যামেজ সহ অন্যান্য মারাত্মক সমস্যায় অনেককেই ভুগতে দেখা যায়। একটু সচেতন হলে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা অনেক সমস্যা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি। 
চলুন জেনে নেই লিভারের সমস্যা হওয়ার কিছু কারন-

() লিভার নষ্ট হওয়ার খুব সাধারণ একটি কারণ হল অতিরিক্ত মদ্যপান। অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের বিষাক্ত পদার্থ দূর করার ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়। অ্যালকাহোলের উপদানসমূহ কারণে লিভারে চর্বি জমে যায়। যার কারণে লিভার ড্যামেজ, ফ্যাটি লিভার, এমনকি লিভার ক্যান্সারের মত মারাত্নক রোগ হয়ে থাকে।

(২) অনেকের অনিদ্রার সমস্যা রয়েছে। এই অনিদ্রার সমস্যা বা অপর্যাপ্ত ঘুম আপনার লিভার ক্ষতিগ্রস্ত করে দিয়ে থাকে। Journal of Anatomy থেকে জানা যায়, অপর্যাপ্ত ঘুম অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। আরেক গবেষণায় University of Pennsylvania School of Medicine প্রকাশ করে যারা রাতে ঘুমের সমস্যায় ভুগে থাকেন তারা ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এর পাশাপাশি লিভার সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগে থাকেন।
এছাড়া দেরি করে ঘুমোতে যাওয়া এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা দুটোই লিভার নষ্টের কারণ। এতে শারীরিক সাইকেলের সম্পূর্ণ উল্টোটা ঘটতে থাকে এবং তার মারাত্মক বাজে প্রভাব পরে লিভারের ওপরে।

(৩) অতিরিক্ত ঔষধ  খাওয়ার কারণে লিভার তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। শুধুমাত্র শুধু নয় হার্ব, ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট ইত্যাদি লিভারের কাজের ক্ষমতা নষ্ট করে দিয়ে থাকে। লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন একটি ঔষধ এ্যাসিটামিনোফেন যা টাইনল(Tylenol) নামক পরিচিত। এটি ঠান্ডা, জ্বরের জন্য ব্যবহৃত ঔষধে থাকে।এটিকে নিরাপদ ড্রাগ মনে করা হয়। তবে অতিরিক্ত সেবনে এটি লিভারের ক্ষতি সাধন করে থাকে। তাই জ্বর ঠান্ডা হলেই ঔষধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

(৪কথিত আছে “ধূমপান বিষপান”। এই ধূমপান আপনার লিভারের ক্ষতি করার জন্য দায়ী। সিগারেট সরাসরি লিভারে প্রভাব ফেলে থাকে। সিগারেটের উপাদান সরাসরি লিভারে প্রভাব ফেলে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস উৎপাদন করে থাকে। এই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ফাইব্রোসিস এর মাধ্যমে লিভারের টিস্যু নষ্ট করে থাকে। শুধু তাই নয় এটি লিভারের দৈনিক কার্যাবলীর মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে থাকে।

(৫) অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেও কুড়েমি করে প্রস্রাবের বেগ হলেও বাথরুমে না গিয়ে তা চেপে শুয়েই থাকেন। এতে লিভারের ওপরে চাপ পড়ে এবং লিভার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়।

(৬) অতিরিক্ত বেশি খাওয়া-দাওয়া করা লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর। অনেকেই আবাব বহুক্ষণ সময় না খেয়ে একবারে অনেক বেশি বেশি করে খেয়ে ফেলেন। এতে হঠাৎ করে লিভারের ওপরে চাপ বেশি পরে এবং লিভার ড্যামেজ হওয়ার আশংকা থাকে।

(৭) সকালের খাবার না খাওয়া লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর। যেহেতু অনেকটা সময় পেট খালি থাকার কারণে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশাপাশি খাদ্যের অভাবে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে লিভারও।

(৮)  অতিরিক্ত কাঁচা খাবার খাওয়াও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন আপনি যদি খুব বেশি কাঁচা ফলমূল বা সবজি খেতে থাকেন তাহলে তা হজমের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয় পরিপাকতন্ত্রের। এর প্রভাব পড়ে লিভারের ওপরেও। সুতরাং অতিরিক্ত খাবেন না।

(৯) খারাপ তেল ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার বা পোড়া তেলের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে।

(১০) ওবেসিটি অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি লিভারে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে দিয়ে থাকে। লিভার সাধারণত রক্তের চিনি এবং চর্বির পরিমাণ প্রক্রিয়া এবং নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অতিরিক্ত খাবার, চিনি বা চর্বি লিভার প্রক্রিয়া করতে পারে না। যার কারণে লিভারের চারপাশে চর্বি জমে থাকে। পুষ্টিকর খাবার যেমন শাক সবজি, ফল না খাওয়া, অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড খাওয়ার কারণেও লিভারে চর্বি জমে থাকে

এই বিভাগের আরো খবর