রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
৪০

সংসদ সদস্যসহ ১০৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দুদক

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০১৯  

 

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্যাসিনো কাণ্ডে এবার সাবেক-বর্তমান সংসদ সদস্য, যুবলীগ নেতা ও কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ১০৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের আওতায় থাকা এসব ব্যক্তির ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য দ্রুত দুদককে সরবরাহ করতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, রবিবার (১৭ নভেম্বর) দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এ– সংক্রান্ত একটি চিঠি বিএফআইউর প্রধান বরাবর পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে ১০৫ জনের নাম, ঠিকানা ও পদবি উল্লেখ করে তাদের সব তথ্য চাওয়া হয়েছে। 
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অন্তত ১০০ জনের হিসাব চেয়ে বিএফআইউতে চিঠি পাঠায় দুদক। ওই তালিকার বেশ কয়েকজনের নামও এই তালিকায় আছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘শুদ্ধি’ অভিযান শুরুর পর দুদক প্রথমে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কথা জানালেও এই তালিকা দিন দিন বড় হচ্ছে। 
সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এ তালিকায় এখন ১৩৫ জনের নাম আছে। দুদক এ পর্যন্ত ৩৪ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ১৪টি মামলায় আসামিদের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
যাদের তথ্য চাওয়া হয়েছে তারা হলেন- স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ, সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী, সংসদে সরকারি দলের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক শহীদুল ইসলাম, কমলাপুর আইসিডির কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার কানিজ ফারহানা শিমু, আবুল কাশেম, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তুহিনুল হক।
 যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, এনামুল হক আরমান; বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীম; গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনু, যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়া, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাশেদুল হক ভূঁইয়া, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাতেনুল হক ভূঁইয়া, মো. জহুর আলম, হারুনুর রশিদ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদ, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ, যুবলীগের বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান আনিস, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ও তারিকুজ্জামান রাজিব।
মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধান, ঢাকা দক্ষিণের ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ওরফে ম্যাজিক রতন, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঈনুল হক মঞ্জু; গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে, আবদুল হাই, হাফিজুর রহমান মুন্সী, নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল হক মধু, শওকত উল্লাহ, ফজলুল হক, রোকন উদ্দিন, আফসার উদ্দিন, স্বপন চাকমা ও ইলিয়াস আহমেদ। 
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মোমিন চৌধুরী, সাজ্জাদ; গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার সিনিয়র সহকারী প্রধান মুমিতুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলী আকবর সরকার, যুবলীগ দক্ষিণের সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেন মনা, যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন স্বপন, নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন, মিজানুর রহমান মিজান, ছাত্রলীগ মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি এসএম রবিউল ইসলাম সোহেল, যুবলীগ নাখালপাড়া-তেজগাঁও শাখার কাজল, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও নাদিম।
মেসার্স জামাল অ্যান্ড কোংয়ের ঠিকাদার জামাল হোসেন, আফসার উদ্দিন মাস্টার, আয়েশা আক্তার, শামীমা সুলতানা, শেখ মাহাম্মুদ জুনায়েদ, এসএম আজমুল হোসেন, ব্রজগোপাল হালদার, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফিন্যান্সের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার, শরফুল আওয়াল, মগবাজার টিঅ্যান্ডটি কলোনির জাকির, নয়াটোলার সেন্টু, শোভন ও বাড্ডার নাসির।
বনানী গোল্ড ক্লাবের আবদুল আওয়াল, আবুল কাশেম, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের আবুল কালাম, শিক্ষা অধিদপ্তরের ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম, ঢাবি এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস ইঞ্জিনিয়ার্সের ঠিকাদার মিনারুল চাকলাদার, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান, যুবলীগের গাজী সারোয়ার বাবু ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্সের ঠিকাদার রেজোয়ান মোস্তাফিজ। 
বান্দরবানের সিলভান ওয়াই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মন্টু, এমডি ফজলুল করিম চৌধুরী স্বপন, পরিচালক এম মহসিন, উম্মে হাবিবা নাসিমা আক্তার, জিয়া উদ্দিন আবীর ও জাওয়াদ উদ্দিন। 
জিকে শামীমের সহযোগী জিয়া ও নাঈম, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাবিবুল হক তামিম, শাহেদুল হক, তার স্ত্রী সারিনা তামান্না হক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক কেএম মাসুদুর রহমান, তার স্ত্রী লুৎফুন্নাহার লুনা, বাবা আবুল খায়ের খান, মা রাজিয়া খান, যুবলীগ দক্ষিণের সহ-সভাপতি মুরসালিক আহমেদ, তার স্ত্রী কাওসারী আজাদ, বাবা আবদুল লতিফ ও মা আছিয়া বেগম।
যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা কামরান প্রিন্স মোহাব্বত, যুবলীগের আকিয়ার রহমান দীপু, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান হোসেন খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক তসলিম উদ্দিন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক কায়সার আহমেদ; যুবলীগ উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী; খাদ্য পরিদর্শক খোরশেদ আলম।

এই বিভাগের আরো খবর