শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
২২২

সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধ শুরু

প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর ২০১৮  

দেশের প্রায় ৪শ’ সরকারি হাইস্কুলে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর ৪১টি হাইস্কুলে আজ থেকে আবেদন করা যাবে। বাকি সাড়ে ৩শ’ স্কুলে আবেদন নেয়া হবে ৩ ডিসেম্বর থেকে। gsa.teletalk.com.bdশীর্ষক ওয়েবসাইটে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত উভয় ধরনের স্কুলে আবেদন করা যাবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান জানান, আবেদন গ্রহণ শেষে ১৭ ডিসেম্বর শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষা। শেষ হবে ২০ ডিসেম্বর। শিক্ষার্থী বাছাই শেষ হলে নির্বাচনী কাজে কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তির কাজ শেষ করা যাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ মোতাবেক এ সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভর্তি সংক্রান্ত সব তথ্য মাউশি (www.dshe.gov.bd) এবং টেলিটকের উল্লিখিত ভর্তির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

স্কুল ভর্তি সামনে রেখে ইতিমধ্যে নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, এবার স্কুলগুলোতে ১০৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এর মধ্যে ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী হবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং শিক্ষা বিভাগ কোটায়। বাকি ১০০ শতাংশের মধ্যে ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা কোটার এবং অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় পূরণ করা হবে।

ভর্তির ক্ষেত্রে সহোদর বা সহোদরা অগ্রাধিকার পাবে। তবে ভর্তি পরীক্ষার ন্যূনতম শর্ত বা পাস নম্বর পেলেই চলবে। শুধু ষষ্ঠ শ্রেণীর ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণী উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রথম শ্রেণীর ভর্তিতে শিক্ষার্থীর বয়স জানুয়ারিতে ছয় বছরের বেশি হতে হবে।

দ্বিতীয়-অষ্টম শ্রেণীর শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নবম শ্রেণীর ক্ষেত্রে জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের প্রস্তুত করা মেধাক্রম অনুসারে নিজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির পর অবশিষ্ট শূন্য আসনে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্ধারিত ভর্তি কমিটির বাছাই করতে হবে।

ভর্তির ফরম বিদ্যালয়ের অফিসে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, ডিসি অফিস, বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পূর্ণমান-৫০, এর মধ্যে বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫, গণিত-২০ নম্বর। ভর্তি পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা। চতুর্থ-অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পূর্ণমান-১০০। এর মধ্যে বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, গণিত-৪০ নম্বর থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা।

এবার ঢাকার ৪১ হাইস্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। হাইস্কুলগুলো তিন গ্রুপে ভাগ করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ৪১টি হাইস্কুলের মধ্যে ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপে ১৪টি করে এবং ‘গ’ গ্রুপে ১৩টি হাইস্কুল আছে। এর মধ্যে ৩৮টি হাইস্কুলে ১২ হাজার ৩৬৬টি আসন আছে। এর মধ্যে ১৭ হাইস্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ১ হাজার ৯৬০টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া ২য় শ্রেণীতে ৮৪৯টি, ৩য় শ্রেণীতে ২ হাজার ১২৬টি, ৪র্থ শ্রেণীতে ৮২২টি, ৫ম শ্রেণীতে ৮৪৯টি, ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ৩ হাজার ৫৫৭টি, ৭ম শ্রেণীতে ৭৩৮টি, ৮ম শ্রেণীতে ৯৯৭টি এবং ৯ম শ্রেণীতে ৪৬৮টি আসন রয়েছে।

নতুন প্রতিষ্ঠিত তিনটিতে আলাদা ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের আসন সংখ্যা এখন পর্যন্ত ঠিক হয়নি। স্কুল তিনটি হচ্ছে : হাজী এমএ গফুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সবুজবাগ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শহীদ মনু মিঞা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী নেয়া স্কুলগুলোর মধ্যে আছে- আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধানমণ্ডি গভ. ল্যাবরেটরি উচ্চবিদ্যালয়, ধানমণ্ডি গভ. বয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমণ্ডি গভ. বয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়ের ফিডার শাখা, তেজগাঁও বালক উচ্চবিদ্যালয়, তেজগাঁও বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, মতিঝিল বালক উচ্চবিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুল, খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুলের ফিডার শাখা, নারিন্দা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও গণভবন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়।

এই বিভাগের আরো খবর