সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২১ সফর ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
২২১

সুন্দরবনেই পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত সাপ

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০১৮  

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপ শঙ্খচূড় (King Cobra)। আর এই সাপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বাংলাদেশের সুন্দরবনে। শঙ্খচূড় সম্পূর্ণ আলাদা প্রজাতির একটি সাপ। এই সাপ লম্বায় ৫.৬ মিটার (১৮.৫ ফুট) পর্যন্ত হতে পারে। সাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকৃতির সুন্দরবনেই পৃথিবীর অজগর (Python) হলেও বিষাক্ত সাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় শঙ্খচূড়। এদের বিষ ধারণক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। যে পরিমাণ বিষ এরা থলিতে জমা রাখে তাতে মানুষ তো মারা যায়-ই, পূর্ণবয়স্ক একটি হাতিরও মৃত্যু হয় ৩ ঘণ্টার মধ্যে।  সুন্দরবনের গভীরে এই সাপের অস্তিত্ব দেখতে পাওয়া যায়। ডিম পাড়ার আগে স্ত্রী শঙ্খচূড় তা শরীর পাকিয়ে কুণ্ডলী তৈরি করে এবং তা মৃত পাতা ব্যবহার করে উঁচু ঢিবির মতো তৈরি করে।

পরবর্তীতে সেখানে ২০ থেকে ৪০টির মতো ডিম পাড়া হয়। কুণ্ডলী পাকানো দেহটি ইনকিউবেটরের মতো কাজ করে। বাচ্চা ফোটার আগ পর্যন্ত শঙ্খচূড় তার ঢিবিটিকে বিরামহীনভাবে পাহারা দিতে থাকে এবং কোনো প্রাণী যেন কাছে আসতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখে। ঢিবির মধ্যে প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ডিমগুলোকে তা দেওয়া হয়। বাচ্চা ফোটার পর তা নিজে নিজেই ডিমের খোলস ভেঙে বেরিয়ে যায় এবং নিজেই নিজের শিকার খুঁজতে থাকে। শঙ্খচূড়ের দৈর্ঘ্য হয় প্রায় ৫৫ সেন্টিমিটার এবং এদের বিষ প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই। মানে এর কামড় বড় সাপের কোনো অংশে কম নয়।

Ophiophagus শঙ্খচূড় সাপের প্রজাতির নাম। যার অর্থ সাপ খাদক এবং প্রাথমিকভাবে এটি অন্যান্য সাপ ভক্ষণ করেই তার খাদ্য চাহিদা মেটায়। যেসব সাপ এটি ভক্ষণ করে তার মধ্যে আছে র‌্যাট সাপ এবং ছোট আকৃতির অজগর। এ ছাড়া অন্যান্য বিষধর সাপও ভক্ষণ করে, যেমন ক্রেইট, গোখরা এবং নিজ প্রজাতিভুক্ত অন্যান্য ছোট সাপ। 

Cobra-2 শঙ্খচূড় সাপের বিষ নিউরোটক্সিক অর্থাৎ এটির বিষ আক্রান্ত প্রাণীর স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে। শঙ্খচূড়ের একটি হালকা দংশনই যে কোনো মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। এর দংশনের ফলে সৃষ্ট মৃত্যু হার প্রায় ৭৫%।

এই বিভাগের আরো খবর