শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
২১৬

সেন্টমার্টিন `রক্ষায়` শিশুরা!

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০১৮  

ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে চলতি বছরের অক্টোবরে সেন্টমার্টিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। ৩দিনের এই অভিযানে প্রবালের ফাঁকে ফাঁকে বোতল, পলি, চিপসের প্যাকেটসহ সব ধরনের অপচনশীল বর্জ্য সংগ্রহ করে আনে তারা। সে অভিযানে ১৪০কেজি বর্জ্য পরিস্কার করতে পেরেছিলো স্বেচ্ছাসেবকরা।

ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশের সদস্য মৃদুল সেসময় বলেন, ‘আমরা শতাধিক ব্যাগ অপচনশীল আবর্জনা টেকনাফে নিয়ে এসেছি। আদতে সেন্টমার্টিনের ভূ-ভাগে থাকা মোট অপচনশীল আবর্জনার ২০ ভাগও আমরা অপসারণ করতে পেরেছি কি-না তা নিয়ে সংশয় আছে। আমরা মূলত পর্যটকরা ঘোরাফেরা করেন দ্বীপের এমন সৈকতগুলোতে পড়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছি। দ্বীপের অভ্যন্তরে অর্থাৎ কটেজগুলো এবং দোকান, রেস্টুরেন্ট বা বাজার ঘেঁষা অঞ্চলে যে পরিমাণ অপচনশীল আবর্জনার স্তুপ আমরা দেখেছি, ৫০ জন মানুষ মিলে ২ দিনে তা অপসারণ করার চেষ্টা নিতান্ত হাস্যরসের ব্যাপার হয়ে যেত! তা করতে গেলে আরো অনেক ব্যাপক আয়জন লাগবে। এটা মূলত মানুষকে দেখিয়ে দেয়ার চেষ্টা। সবাই যদি চেষ্টা করে তাহলে জায়গাটাকে বাঁচানো সম্ভব।’

তাদের দেখাদেখি সম্প্রতি সেন্টমার্টিনের ৮ কিলোমিটার উপকূল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয় কোকাকোলা বাংলাদেশ ও কেওক্রাডং বাংলাদেশ। দুই দিনের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১২০০ কেজি সামুদ্রিক আবর্জনা সংগ্রহ করেছেন ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবক। ৩২তম আন্তর্জাতিক উপকূল পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই আয়োজন। তবে উদ্যোগটির একটি বিশেষ দিক হলো, এই অভিযানে অংশ নেয়া বেশিরভাগ স্বেচ্ছাসেবকই শিশু!

এই কর্মসূচির স্লোগান ছিল ‘পিক ইট আপ, ক্লিন ইট আপ, সি চেঞ্জ’। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা। এছাড়া সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সঙ্গে সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষার গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অংশ নেন সবাই। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা বিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা সংবলিত খাতা বিতরণ করা হয়।

২০৩০ সালের মধ্যে কোকাকোলার ‘বর্জ্য মুক্ত বিশ্ব’ প্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই আয়োজন। বাজারজাতের সমপরিমাণ বোতল ও ক্যান সংগ্রহের পর পুনর্ব্যবহারযোগ্য করাই প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য। জলরাশিতে টেকসই ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণে অবদান রাখাই এই কার্যক্রমের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক বর্জ্য সৃষ্টির কারণ নিয়ে আলোচনা ও সামুদ্রিক বর্জ্যের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।

বাংলাদেশে কোকাকোলার পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন (পিএসি) পরিচালক শামীমা আক্তার বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের নজরকাড়া সৌন্দর্য ও দৃষ্টিনন্দন প্রবাল দ্বীপ অনেক পর্যটককে আকৃষ্ট করে। এজন্য এখানকার উপকূল রক্ষায় টেকসই সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আশা করছি, অষ্টমবারের মতো এই সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে সবাই মিলে বর্জ্যমুক্ত বিশ্ব বিনির্মাণে সক্ষম হবো।’

সেন্টমার্টিনে ঘুরতে আসা রাহাত নামের এক পর্যটক বলেন, ‘আমরা সবাই আনন্দ করার লক্ষ্যে ঘুরতে যাই। কিন্তু আন্যদের কথা চিন্তা করি না, জায়গাটার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করি না। বিরিয়ানির প্যাকেট, চিপসের প্যাকেট পানির বোতল যেখানে সেখানে ফেলে ময়লার স্তুপ করে রাখে। এ কারণে সৌন্দর্য আর থাকে না। সেখানকার পরিবেশ একদম নষ্ট হয়ে যেত। এসব দেখে খুব কষ্ট লাগে।’

এই বিভাগের আরো খবর