শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

পিরোজপুর সংবাদ
৫৫

৭ কলেজের অধ্যক্ষ প্রতি বিভাগে ১৬ জন শিক্ষক চান

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০১৯  

 

 পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ শিক্ষার্থী পরিবহনে বাহন এবং প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের অধ্যক্ষরা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

শনিবার (০২ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে অধ্যক্ষরা সাত কলেজের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এসময় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসোইন উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ নেহাল আহমেদ, ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ শামসুন নাহার, তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন, সরকারি বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌসি খান, বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা শেফালী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হোসেন এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার বৈঠকে অংশ নেন।

শিক্ষামন্ত্রী সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সব সমাস্যা ও দাবি-দাওয়ার কথা শুনে সমাধানের আশ্বাস দেন বলে বাংলানিউজকে জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এমএ খায়ের।

শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে অধ্যক্ষরা বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কলেজগুলো বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেন। নানা ষড়যন্ত্র ও বাধা সত্ত্বেও ঢাকা শহরের ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।

অধ্যক্ষরা লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রথম দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টানাপোড়েনে কিছু সমস্যা হলেও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে ও প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক সংকটের উত্তোরণ সম্ভব হয়েছে। ছাত্ররা ক্লাসরুমে ফিরে এসেছে।

এই সাত প্রতিষ্ঠানকে মডেল কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে জরুরি কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজে চার বছরের সমন্বিত অনার্স (পূর্বের ৩ বছরের অনার্স) ও মাস্টার্স, ৩ বছরের ডিগ্রি পাস (পূর্বের ২ বছরের ডিগ্রি), মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) এবং ইন্টারমিডিয়েট শ্রেণিতে পাঠদান করা হয়।

১৯৮৩ সালের এনাম কমিটির প্যাটার্ন মোতাবেক প্রতিটি বিভাগে ১২টি পদ থাকার কথা। প্রায় কলেজেই সে মোতাবেক পদ সৃষ্টি হয়নি। দেশের সব সরকারি কলেজের জন্য ১২ হাজার ৫০০টি পদ সৃজনের প্রস্তাব জনপ্রশাসনে রয়েছে। নানান টানাপোড়েনে এতে সময় লাগবে।

অধ্যক্ষরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি বিভাগে ১৬ জন শিক্ষক জরুরি। পদ সৃষ্টির পূর্ব পর্যন্ত এসব কলেজে সংযুক্ত পদায়ন সম্ভব। পুরনো কলেজে এখনও অনেক সংযুক্ত আছে। নতুন সব কলেজেই সংযুক্ত পদায়ন রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও এজন্য প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছে।

সাত কলেজের অধ্যক্ষরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ ও নির্দেশনায় ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সরকারি সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে পদ সৃষ্টির পূর্বে সংযুক্তির মাধ্যমে পর্যাপ্ত শিক্ষক পদায়ন আবশ্যক।

অধ্যক্ষদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, কলেজের বৈজ্ঞানিক ও কম্পিউটার ল্যাব আধুনকায়ন ও সুসজ্জিতকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও ভবনসমূহ জরুরি সংস্কার।
 
অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মনোন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের জন্য সিইডিপি প্রজেক্ট থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাত কলেজেকে বাদ দিয়েছে উল্লেখ করে অধ্যক্ষগণ প্রজেক্টে অন্তুর্ভুক্তির দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা যথাসময়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজসমূহে কমপক্ষে পাঁচটি করে বাস সরবরাহের দাবি জানান অধ্যক্ষরা।

এছাড়াও সংযুক্ত বা প্রকল্পের মাধ্যমে কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ, ক্যাম্পাসে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিকরণসহ ডিজিটালাইজেশনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া ইত্যাদি।

বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও উৎসব উদযাপন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে তারা এক্ষেত্রে বরাদ্দ বা ছাত্রদের নিকট হতে আদায়ের নির্দেশনা চান মন্ত্রীর কাছে।

শিক্ষামন্ত্রী দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে আগামী বাজেটের আগে অধ্যক্ষদের কাছে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।

এই বিভাগের আরো খবর