• শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

  • || ১২ শা'বান ১৪৪৫

পিরোজপুর সংবাদ
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের আহ্বান সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ২১ বছর সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি: শেখ হাসিনা হঠাৎ টাকার মালিক হওয়ারা মনে করে ইংরেজিতে কথা বললেই স্মার্টনেস ভাষা আন্দোলন দমাতে বঙ্গবন্ধুকে কারান্তরীণ রাখা হয় : সজীব ওয়াজেদ ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধিকার পেয়েছে অশিক্ষার অন্ধকারে কেউ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী একুশ মাথা নত না করতে শেখায়: প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এলজিইডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের নৈপথ্যে নির্বাচনে বিরোধ

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৩  

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার হাওলাদার পিরোজপুরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তার। এর অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ‘অমূলক’ অভিযোগ প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে জমা পড়েছে বলে দাবি তার। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে বিরোধ এক্ষেত্রে (সাত্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ) প্রভাব ফেলেছে।

জানা যায়, পিরোজপুর জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তারের ছোট ভাই বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ এম মনিরুল ইসলাম। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে গুলিশাখালী ইউনিয়নে ২০২১ সালের ২১ জুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম। স্থানীয়রা বলছেন, মনিরুল ইসলাম মনির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার পিছু নেয় নুরুল ইসলাম গং। শুধু তাই নয়; চেয়ারম্যানের ভাই পিরোজপুরে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তারকে হেনস্থা করার জন্য তার বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলছেন নুরুল ইসলাম। বিভিন্ন মিডিয়ায় ওই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করানো হয়েছে।

পিরোজপুরে এলজিইডির বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, পিরোজপুরে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার। স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমও বিভিন্ন সময়ে আব্দুস সাত্তারকে সৎ, দক্ষ ও তড়িতকর্মা কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর অভিমত, প্রকৌশলী সাত্তারকে পিরোজপুরে রাখা হলে তার মেধা, দক্ষতা, আন্তরিকতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গতি আনা সম্ভব।

নুরুল ইসলাম রাজাকারপুত্র দাবি করে আমতলী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ কে এম শামস উদ্দিন শানু বলেন, নুরুল ইসলামের বাবা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। এ কারণে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদও খুইয়েছেন।

এ বিষয়ে গুলিশাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এইচ এম মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, আমার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে আমার ভাই ও আমার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। আমার ভাই আবদুস সাত্তার আমার ইউনিয়নে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করতে সহযোগিতা করছেন। উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে আমার ও আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অফিসে নানা অভিযোগ দিয়ে চলছেন নুরুল ইসলাম।

পিরোজপুরের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যুদ্ধে হেরে যাওয়া নুরুল ইসলাম আমার নামে বিভিন্ন সময় মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করেছেন। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নামে বেনামে অনেক অভিযোগ করেছেন যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি পিরোজপুরের পূর্বে পটুয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সেখানেও আমি সততার সঙ্গে কাজ করেছি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলাম। এখন আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ওই ইউনিয়নে মেম্বার ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। এ বছর দলের মনোনয়ন পাইনি। তাই নির্বাচন করিনি। আমি কারো ক্ষতি করি না। আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়েছেন তারা। তিনি আরও বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সত্তারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সেই মামলা তো আমি করিনি।  
মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বলেন, আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন যে অভিযোগ ছিল তা থেকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।