• বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

  • || ১০ শা'বান ১৪৪৫

পিরোজপুর সংবাদ

রমজানে পণ্যের দাম ক্রয় ক্ষমতায় রাখার নির্দেশ

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

পবিত্র রমজান মাসে খাদ্যপণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এই নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রমজানে পণ্যের দাম ক্রয় ক্ষমতায় রাখার নির্দেশনাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মন্ত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রীদের বলেছেন, যেকোনো মূল্যে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আশা করছি, এবার রমজানে নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোক্তা পর্যায়ে খাদ্য নিশ্চয়তা দিতে পারব। কেউ মজুদদারি বা কারসাজি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সেই নির্দেশনার আলোকে একটি আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে কাজ চলছে। ওই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও কাজ করছেন। এই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য সরবরাহের বিষয়ে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পর্যায়ে, বিশেষ করে পরিবহন পর্যায়ে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে, বাজার ব্যবস্থাপনায়ও যাতে প্রতিবন্ধকতা না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা কাজ করছেন।
বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রবিবার সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে জনগুরুত্বসম্পন্ন যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়, তার মধ্যে কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো—আগামী রমজান মাসে পেঁয়াজ ও তেলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। টিসিবির মাধ্যমে যে পণ্য বিপণনের ব্যবস্থা রয়েছে, সেটি আরো উন্নতকরণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর কিছু নির্দেশের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব মো. মাহবুব হোসেন। মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘পণ্যের জিআই নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তত্পর হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, সবাই তত্পর হয়ে আমাদের যেসব পণ্য আছে, সেগুলোর জিআই স্বীকৃতি যেন করে ফেলা হয়।’ সম্প্র্রতি যে তিনটি পণ্যের জিআই স্বীকৃতি দিয়ে জার্নাল প্রকাশ করা হয়েছে, সেই জার্নালের কপি মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব। এই তিনটি পণ্য হলো—টাঙ্গাইলের শাড়ি, গোপালগঞ্জের রসগোল্লা ও নরসিংদীর অমৃতসাগর কলা। পণ্যের জিআই স্বীকৃতি নিয়ে কোনো দ্বিমত থাকলে সে বিষয়টি যেন সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থায় দ্রুত উপস্থাপন করা হয়, সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন ২০২৪’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিলটি সংসদে পাস হলে জাতীয় নির্বাচনের মতো সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচনও (ভোট) হবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের তিন মাসের (৯০ দিন) মধ্যে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ ধরা হয় প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ছয় মাসের (১৮০ দিন) মধ্যে ভোটগ্রহণ করার নিয়ম রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, মেয়র ও কাউন্সিলরদের বছরের ছুটি কমানো হচ্ছে। এখন মেয়র ও কাউন্সিলররা বছরে তিন মাস পর্যন্ত ছুটি ভোগ করতে পারেন। প্রস্তাবিত আইনে তা করা হয়েছে বছরে এক মাস। আগে কোনো কারণে কোনো কাউন্সিলরের পদ শূন্য হলে পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের ওই সময়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হতো। এখন শূন্য হলে সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরকে এই দায়িত্ব দিতে হবে। প্রস্তাবিত আইনে সিটি করপোরেশনের সচিব পদের নাম পরিবর্তন করে ‘নির্বাহী কর্মকর্তা’ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনগুলো জলাবদ্ধতা বা জলজট নিরসনে অবকাঠামো উন্নয়ন, পাম্প নির্মাণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনগুলো নিজ নিজ ওয়ার্ড মশকমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে শ্রম আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৪-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, গ্রাম আদালতের আর্থিক ক্ষমতা (জরিমানা করার ক্ষমতা) ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হচ্ছে।

চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের সমন্বয়ে গ্রাম আদালত হয় জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, কোনো সময় একজন অনুপস্থিত থাকলে আদালতের সদস্য সংখ্যা চারজন হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতি হলে অনুপস্থিত যিনি ছিলেন তাঁকে উপস্থিত হতে সাত দিন সময় দেওয়া হবে।

কৃষিজ পণ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়কে অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।