• শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

  • || ১২ শা'বান ১৪৪৫

পিরোজপুর সংবাদ
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের আহ্বান সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ২১ বছর সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি: শেখ হাসিনা হঠাৎ টাকার মালিক হওয়ারা মনে করে ইংরেজিতে কথা বললেই স্মার্টনেস ভাষা আন্দোলন দমাতে বঙ্গবন্ধুকে কারান্তরীণ রাখা হয় : সজীব ওয়াজেদ ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধিকার পেয়েছে অশিক্ষার অন্ধকারে কেউ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী একুশ মাথা নত না করতে শেখায়: প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

৭ জেলায় নিজস্ব কার্যালয় পাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২৩  

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সীমিত জনবল ও সামর্থ্য দিয়ে দেশে অবৈধ মাদকদ্রব্য উৎপাদন, বিপণন, চোরাচালান ও অপব্যবহার রোধে কাজ করে যাচ্ছে। রয়েছে আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণসহ মাদকসেবীদের চিকিৎসাসেবা ও গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে দু’টি কার্যালয়ের বাইরে দেশের বাকি এলাকায় অধিদফতরের কার্যক্রম চলে ভাড়া বাড়িতে।

অধিদফতর সূত্র বলছে, বর্তমানে নিরাময় কেন্দ্রসহ ১০২টি ইউনিটে তিন হাজার ৫৯ জনবল অনুমোদিত রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের। কিন্তু এখন পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়নি ভৌত অবকাঠামো। ফলে ভাড়া বাড়ির জেলা কার্যালয়েই আসামিকে আটক রাখা, জিজ্ঞাসাবাদ করা, মূল্যবান আলামত সংরক্ষণ ইত্যাদি কাজ সারতে হচ্ছে।

এদিকে অধিদফতরের প্রতিটি জেলা কার্যালয়কে একটি থানার মতো জনবল দিয়ে সাজানোর প্রস্তাব সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। সেই জনবলের জন্য অফিস স্পেস, ব্যারাক, আলামতখানা স্থাপন প্রয়োজন বলে মনে করছে অধিদফতর। মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্রও দীর্ঘদিন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

এসব বাস্তবতা মাথায় রেখেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সাত জেলা কার্যালয়ের জন্য নিজস্ব ভবন গড়ে তোলার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের জেলা কার্যালয় নির্মাণ (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২৫ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।

অধিদফতর বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণকে নিকটতম সুবিধাজনক স্থান থেকে উন্নতমানের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া সাতটি জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় নির্মাণের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বর্তমান ও ভবিষ্যত বর্ধিত জনবলের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রস্তাবটি নিয়ে গত ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা। কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এতে সভাপতিত্ব করেন।

এমদাদ উল্লাহ বলেন, পিইসি সভায় প্রকল্পের বেশকিছু বিষয়ে কিছু প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পরে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। সেসব প্রতিপালন করে সংশোধিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পাঠালো পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। যেহেতু উদ্যোগটি ভালো, তাই এটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হবে।

কার্যালয়গুলো যেসব জেলায় হচ্ছে সেগুলো হলো— ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর জেলার ফরিদপুর সদর উপজেলা, চট্টগ্রামের কুমিল্লা জেলার সদর ও কক্সবাজারের রামু উপজেলা, বরিশালের সদর উপজেলা, রাজশাহী বিভাগের পাবনা ও নওগাঁ জেলার সদর উপজেলা এবং রংপুর বিভাগের লালমনিরহাটের সদর উপজেলা।

পিইসি সভায় আলোচনা
প্রকল্পটিতে গাড়িচালক, অফিস সহায়ক পদে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের সুপারিশ অনুযায়ী প্রকল্পের জনবল কাঠামো উল্লেখ ও জনবলের বেতন ভাতার সংস্থান রাখা বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া এ প্রকল্পে ক্রয় পরিকল্পনায় কাজের পণ্যের জন্য ২১টি, পূর্তের জন্য ২১টি ও সেবা ক্রয়ের জন্য মোট একটি প্যাকেজ করা হয়েছে। কন্ট্রাক্ট ম্যানেজমেন্টের সুবিধার্থে প্যাকেজ সংখ্যা কমানোর কথা বলা হয় পিইসি সভায়। প্রকল্পের আওতায় ১৪টি লিফট ও অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশনের জন্য ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সভায়।

পাশাপাশি প্রকল্পে তিনটি কার্যালয়ের জন্য আসবাবপত্র তালিকা ও সম্ভাব্য মূল্য খাতে ১১টি ডাইনিং টেবিলের দাম মূল্য ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা (একেকটি এক লাখ ৪০ হাজার টাকা), সাতটি কাঠের আলমারির দাম তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা, কিং সাইজ খাট ৯৫ হাজার টাকা, চাবি রাখার বক্স পাঁচ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ডোপ টেস্টের আসবাবপত্রের জন্যও ২০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট আট কোটি ৮৫ লাখ টাকার আসবাবপত্রের কারিগরি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ না থাকা এবং ব্যয় প্রাক্কলন কমিটি না করেই দাম নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় সভায়।

প্রকল্পে প্রতিটি জেলার জন্য কম্পিউটার সামগ্রী ও অফিস সামগ্রী খাতে যথাক্রমে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা ও দুই কোটি ৪৯ লাখ টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দুই খাতে যেসব সামগ্রীর উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর বর্ণনা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) থাকা প্রয়োজন ছিল বলেও মনে করে পরিকল্পনা কমিশন।

জেলা পর্যায়ে বর্তমানে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক দরজা-জানালা দিয়ে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করে ভবন নির্মাণের সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। সেক্ষেত্রে সাতটি কার্যালয়ের প্রতিটিতে শীতাতপ ব্যবস্থাপনার জন্য তিন কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রস্তাব বাদ দেওয়ার আলোচনা করা হয়েছে।