• বুধবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৮

  • || ২০ সফর ১৪৪৩

পিরোজপুর সংবাদ

বরিশালে হত্যা মামলায় দুইজনের ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

বরিশালে কলেজ ছাত্র সোহাগ সেরনিয়াবাত হত্যা মামলার রায়ে দুই জনের ফাঁসি এবং ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। এসময় অপরাধ প্রমানিত না হওয়ায় ১০ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে বরিশালের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারি অপরাধ দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক টি এম মুসা আসামীদের এই রায় প্রদান করেন।

ফাঁসির দন্ডাদেশ পাওয়া দুই আসামী হলেন জিয়াউল হক লালন ও রিয়াদ সরদার। এছাড়া আসামি মামুন, ইমরান, বিপ্লব ও ওয়া‌সিম সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

মামলার বিবরনে বলা হয়, বরিশালের উজিরপুর পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের মোঃ হোসেন সেরনিয়াবাতের ছেলে সোহাগ সেরনিয়াবাত ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে হত্যাকান্ডের শিকার হয়। ঐদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার বন্ধুকে বাসায় এগিয়ে দিয়ে ফেরার পথে আসামিরা উ‌জিরপু‌রের রাখালতলা এলাকায় তার উপর চড়াও হয়ে রামদা দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এর আগে আসামীরা ১ লক্ষ টাকা চাদার দাবী‌তে  নিহত সোহাগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। পরে নিহতের মামা খোরশেদ আলম বাদি হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে উজিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ একই বছরের ২২ নভেম্বর চার্জশীট দাখিল করে।

পরে মামলাটি বিচারে এলে বিজ্ঞ আদালত ৩১ জন সাক্ষির সাক্ষ্য প্রমাণ ও আলামত বিবেচনায় আসামি জিয়াউল হক লালন ও রিয়াদ সরদারকে ফাঁসির দন্ডা‌দেশ প্রদান করেন। এছাড়া আসামি মামুন, ইমরান, বিপ্লব ও ওয়া‌সিম সরদার‌কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন। অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।

নিহতের পিতা ফারুক হোসেন সেরনিয়াবাত ব‌লেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে যারা বেকসুর খালাস পেয়েছেন তারাও হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ আদেশ কপি পেলে তা নিয়ে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করবো। আশা করি হত্যায় জড়িত থাকার অপরাধে উচ্চ আদালত তাদের শাস্তি দিবেন।

নিহতের মা শাহনাজ পারভীন বলেন, রায়ে খুশি হয়েছি। তবে খালাসপ্রাপ্ত ১০ জনের সাজা দিলে আরো ভালো হতো। তারাও আমার ছেলের হত্যায় জড়িত ছিল।

বা‌দি প‌ক্ষের আইনজীবী এটিএম আ‌নিসুর রহমান বলেন, অপরাধ কর‌লে শা‌স্তি পেতেই হবে , যা এই রায়ের মাধ‌্যমে প্রমা‌নিত হয়েছে।