• মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ১ ১৪৩১

  • || ০৮ মুহররম ১৪৪৬

পিরোজপুর সংবাদ

‘মাদক সম্রাট স্বপন এখন সিরিয়াল কিলার’

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৪  

পুলিশের খাতায় এতদিন তিনি ছিলেন মাদক সম্রাট। এখন নতুন পরিচয় সিরিয়াল কিলার। ভয়ংকর তার হত্যার ধরণও। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে ঢাকা জেলার ডিবি পুলিশ মাদক সম্রাট স্বপনের বাড়ির মেঝে খুঁড়ে দুই জনের মরদেহ উদ্ধারের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

সাভার থানায় হওয়া অপহরণ মামলা এবং নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরিগুলোর খোঁজ নেয়া হচ্ছে। স্বপন আর কাউকে মেরে মাটি চাপা দিয়ে গুম করেছে কীনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে সেটিও জানায় পুলিশ।

পুুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২ জুন সাভারের বিরুলিয়ার খনিজনগর থেকে সীমা নামে এক এনজিওকর্মী অপহরণ হন। ৬ জুন সীমার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা জেলার গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের পর জানা যায়, সীমা অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন মাদক সম্রাট স্বপন। সীমাকে অপহরণের পর স্বপনের নির্মাণাধীন বাড়ির ভেতরে করা গর্তে থাকা পানিতে চুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর দেয়াল ঘেষা এক জায়গাটিতে মরদেহ পুঁতে রাখা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে স্বপনের মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করে দেয়ার অপরাধে সীমাকে অপহরণ এবং পরে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছিলো। এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে দেড় বছর আগের একটি অপহরণ মামলা সামনে আসে পুলিশের। মাদক সম্রাট স্বপনকে গ্রেফতার করতে পারলে জট খুলতে পারে অপহরণ মামলাটির-এমন ধারণা থেকে কাজ শুরু করে পুলিশ। ১২ জুন গ্রেফতার করা হয় স্বপনকে। দেড় বছর আগে তোফাজ্জল হোসেন টোনোকে অপহরণ করে তাকেও হত্যার পর মাটি চাপা দেয়ার কথা স্বীকার করেন স্বপন।

সাভারের আনন্দপুর সিটি লেনে স্বপনের নির্মাণাধীন আরেকটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। স্বপনের দেখানো মতে নিচ তলার ফ্লোরের ৭ ফুট গভীর থেকে উদ্ধার করা হয় টোনোর কঙ্কাল। স্বপন পুলিশকে জানায়, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে তার পূর্ব শত্রুতা ছিল টোনোর সঙ্গে।

ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা) মোবাশশিরা হাবিব খান বলেন, মাদক সম্রাট স্বপনের হত্যাকাণ্ড ঘ্টনার একটা স্টাইল আছে, যেমন চার থেকে পাঁচ জন মিলে ধরে স্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর তার বাড়িতে বা আশপাশে পুঁতে রাখে মরদেহ। 

পুলিশ বলছে, স্বপন একজন সিরিয়াল কিলার। মাদক ব্যবসা করে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তিনি। এখন পর্যন্ত তার চারটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। আর কাউকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে কীনা তদন্ত করা হচ্ছে।

ঢাকা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, স্বপন আরও কোনো ঘটনা ঘটিয়েছে কীনা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  তবে স্বপনের মাদক ব্যবসার বিষয়টি জানলেও ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ এলাকার লোকজন।