• সোমবার   ২৭ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৪ ১৪২৯

  • || ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

পিরোজপুর সংবাদ
ব্রেকিং:

বৈশ্বিক সংকটেও বেশ ভালো আছে বাংলাদেশ

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২২ মে ২০২২  

বিশ্ব চরম খাদ্য সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাই এই সাবধানবার্তা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। এই খাদ্যপণ্যের জোগান দিতে দেশে দেশে ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। কোনও কোনও দেশের অর্থনীতি খানিকটা বেসামাল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও ডলারের দাপট শুরু হয়েছে। দাম বাড়ার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী ডলার মিলছে না। ফলে একদিকে কমছে টাকার মান। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে পণ্যের দাম। এতে মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে চিড়ে চ্যাপ্টা হচ্ছে মানুষ। তবে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের এই অর্থনৈতিক সংকটকালেও বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ভালো আছে। এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে ডলারের দামের সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানে।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের তুলনায় ভারত, চীন ও পাকিস্তানে ডলারের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ বেশি। এমনকি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় অর্থনীতির দেশেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ। ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে দুনিয়াজুড়ে স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও তিন শতাংশের মতো অবমূল্যায়ন হয়েছে টাকা। অর্থনীতিবিদদের অনেকে এ নিয়ে সমালোচনাও করছেন।

তবে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব অর্থনীতিতে ইতিবাচকভাবে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমদানি কিছুটা নিরুৎসাহিত হবে। এছাড়া রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। সে সুবাদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতসহ পৃথিবীর সবদেশই তাদের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন করছে। এখন আমরা যদি না করতাম, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়তাম। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই টাকার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মূল্যস্ফীতির চাপ শুধু কি বাংলাদেশে

মূল্যস্ফীতির তথ্য বলছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উঠেছে—১৯৮১ সালের ডিসেম্বরের পর এটাই সর্বোচ্চ।

এদিকে জ্বালানিসহ খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্রিটেনের ভোক্তারাও।  বুধবার(১৮ মে) দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর (ওএনএস) জানায়, গত এপ্রিলে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ শতাংশ, যা ৪০ বছরে সর্বোচ্চ। ১৯৮২ সালের পর এমন মূল্যস্ফীতি আর দেখেনি যুক্তরাজ্যের জনগণ।  এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছিল, চলতি বছরের শেষের দিকে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। অবশ্য শুধু যুক্তরাজ্যই নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

ব্যাপক মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা না থাকা, জ্বালানি সংকটের জেরে ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভে শ্রীলঙ্কায় সরকারের পতন হয়েছে।

পাকিস্তানেও মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক ঋণের বোঝা বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি সেদেশের পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও খুব একটা স্বস্তিতে নেই। তিউনিসিয়া, ঘানা, সাউদ আফ্রিকা ও মরক্কোর পরিস্থিতিও ভালো নয় বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে হুঁশিয়ার করেছে অক্সফোর্ড ইকনোমিকস। তুরস্কেও ব্যাপক মূল্যস্ফীতিতে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ নাগরিকদের ভেতরে। ডলারের বিপরীতে ব্যাপক দর হারিয়েছে সেদেশের মুদ্রা লিরা। ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলোও খুব একটা স্বস্তিতে নেই।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আফ্রিকায় খাদ্য সংকট শুরু হয়েছে, যা সামাজিক লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়েই এক অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত মার্চ মাসে আরেক ইউরোপীয় দেশ জার্মানির মূল্যস্ফীতি ৭.৩ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর এপ্রিল মাসে তা আরও বৃদ্ধি পায়। ১৯৮১ সালে পশ্চিম জার্মানি শেষ এমন দ্রুত মূল্যস্ফীতি দেখেছিল। অর্থাৎ এই মূল্যস্ফীতি গত চার দশকে ঘটেনি। মূলত তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই হারে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ  ভারতে মূল্যস্ফীতি ক্রমেই বাড়তে বাড়তে এক দশকের রেকর্ড ভেঙেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের পাইকারি মূল্যস্ফীতি ১৫.০৮-এ পৌঁছেছে, যা প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। গত ফেব্রুয়ারিতে এটি ছিল ১৩.১১ শতাংশ, আর মার্চে ১৪.৫৫ শতাংশ। গত বছরের এপ্রিলে ছিল ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ১৩তম মাস পাইকারি মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে রয়েছে।

এদিকে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত মার্চ মাসে পাকিস্তানের ভোক্তা মূল্য সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৭ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১২.২ শতাংশ।  পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরোর (পিবিএস) প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০২১ সালের একই মাসে এ হার ছিল ৯.১ শতাংশ।  দেশটিতে নয় মাসে (২০২১ সালের জুলাই- ২০২২ সালের মার্চ) গড় মূল্যস্ফীতি ১০.৭৭ শতাংশ। এর আগের বছর একই সময়ে হার ছিল ৮.৩৪ শতাংশ।

এদিকে ফেব্রুয়ারি থেকে টানা তিন মাস ধরে বাংলাদেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছয় শতাংশের ওপরে রয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের এপ্রিলে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পাওয়া গিয়েছিল গত মাসে সেই পণ্য বা সেবা পেতে ১০৬ দশমিক ২৯ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে দেশে গত এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগের মাস মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬.২২ শতাংশ যা ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৬.১৭ শতাংশ। আর জানুয়ারিতে ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এর আগে ২০২০ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে গবেষক ও অর্থনীতিবিদরা পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেওয়া মূল্যস্ফীতির এসব তথ্য উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন এ হারের সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই।

স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন কোন দেশে কত

গেল কিছু দিন ধরে বাংলাদেশে টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। টাকার মান পড়ে যাওয়ায় ও ডলার সংকট নিয়ে এক ধরনের হুলুস্থূল কাণ্ড ঘটেছে দেশে। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, চীনসহ অন্য সব দেশে ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে বেশি।

গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে ইউরোর অবমূল্যায়ন হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এক বছরে ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের অবমূল্যায়ন হয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং সাউথ আফ্রিকার মুদ্রা রেন্ডের দরপতন হয়েছে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। গত এক বছরে ব্রিটিশ পাউন্ড দর হারিয়েছে ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ। জাপানি ইয়েনের দরপতন হয়েছে ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। চীনের মুদ্রার মান হারিয়েছে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। নেপালি রুপির দরপতন হয়েছে ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ডলারের বিপরীতে তলানিতে ঠেকেছে পাকিস্তানি রুপির দর। এর আগে কখনও পাকিস্তানের মুদ্রার দর এত নিচে নামেনি। ১৯ মে আন্তব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির মান ২০০ ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ দেশটিতে ১ ডলার কিনতে এখন ২০০ রুপির বেশি খরচ করতে হচ্ছে।  এক বছর আগে ২০২১ সালের ১৯ মে লাগতো ১৬৫ টাকা। এই হিসাবে এক বছরে পাকিস্তানের মুদ্রা রুপির মান কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সরকারও ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন করেছে। সর্বশেষ ১৯ মে রুপির পতন সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে। এদিন প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭ টাকা ৭৩ পয়সা। বুধবার ১ ডলারে রুপির দাম ছিল ৭৭ টাকা ৬১ পয়সা। এক বছর আগে ২০২১ সালের ১৯মে ছিল ৭৩ রুপির কিছু বেশি। এ হিসাবেই ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমেছে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ।

একইভাবে বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে মুদ্রার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। গত ১ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ৩ শতাংশ অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।  বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের রফতানি খাতে বড় প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ, অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই সরকারের চলতি হিসাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার। দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টের ঘাটতিও ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। রেমিট্যান্সের মন্দাভাবের পাশাপাশি আমদানি প্রবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতেই ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের দিকে যেতে হয়েছে।

তথ্য বলছে, ডলার সংকটের কারণে গত ৯ মাস ধরেই টাকার মান কমছে। গত ১৬ মে বড় দরপতন হয়। এক দিনেই প্রতি ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি।

গত জানুয়ারি মাসের শুরুতে ডলারের বিনিময় মূল্য ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা করেছিল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর ২৩ মার্চ তা আবারও ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছিল। এরপর ২৭ এপ্রিল ২৫ পয়সা বাড়িয়ে করা হয় ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। গত ৯ মে আবার ২৫ পয়সা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ১৬ মে ৮০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম গিয়ে ঠেকেছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড মূল্য।

যদিও গত বছরের ২১ আগস্ট পর্যন্ত আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। পরদিন ২২ আগস্ট প্রথমবারের মতো ৮৫ টাকা ছাড়ায়। এরপর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বেড়ে ৮৬ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ গত ৯ মাসের ব্যবধানে প্রতি ডলারে দর বেড়েছে দুই টাকা ৭০ পয়সা। আর সর্বশেষ ২০ দিনের ব্যবধানে তিন দফায় ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয়েছে এক টাকা ৩০ পয়সা। তবে বাংলাদেশে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বা ব্যাংক রেটের চেয়ে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করেছে। কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজেরেও বেশি ছিল ডলারের দাম। সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবধান ৭/৮ টাকা বেশি দামে বেড়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ১৯ মে ৯২ টাকা ৪৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে। এদিন জনতা ব্যাংক করেছে ৯৪ টাকায়। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। আর বেসরকারি ইস্টার্ন ও প্রাইম ব্যাংক ৯৮ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে।  খোলাবাজারে ডলারের দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

এদিকে ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোকে ডলার সরবরাহ করা ছাড়াও বিলাসী পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১৯ মে পর্যন্ত সাড়ে ১০ মাসে (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৯মে পর্যন্ত) ৫৫০কোটি (৫.৫০ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে ডলারের দর।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করা হয়েছে। বিলাসী পণ্য আমদানিতে লাগাম টানার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডলার সংকটের কারণ অনুসন্ধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চারটি তদন্ত দল মাঠে নেমেছে। তারা ব্যাংকগুলো পরিদর্শন করতে শুরু করেছে। এছাড়া রফতানি আয় আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর মনোযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়ানোর ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ডলার সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানিতে লাগাম টানার উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি, হোম অ্যাপ্লায়েন্স হিসেবে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর আমদানি ঋণপত্রের ন্যূনতম নগদ মার্জিন ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় নয়, এমন পণ্যের নগদ মার্জিন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ৫০ শতাংশ। এছাড়া ডলারের সংকট মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।