• শুক্রবার   ১৯ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৪ ১৪২৯

  • || ২০ মুহররম ১৪৪৪

পিরোজপুর সংবাদ
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আ. লীগের নেতারা কী করেছিলেন: প্রধানমন্ত্রী সুশীল বাবু মইনুল খুনিদের নিয়ে দল গঠন করে: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িতরা আজ মানবাধিকারের কথা বলে: প্রধানমন্ত্রী ভারত পারলে আমরাও রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবো: প্রধানমন্ত্রী চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক ‘ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছি’ খবরদার আন্দোলনকারীদের ডিস্টার্ব করবেন না: প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার মৃত্যু নেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বঙ্গবন্ধু আমাদের রোল মডেল

‘রক্তচোষা’ নামই কাল হলো প্রাণীটির

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২২  

প্রতিনিয়ত বন-বাগান, ঝোপঝাড় ও জঙ্গল ধ্বংস হওয়ার কারণে জয়পুরহাটের কালাইয়ে অস্তিত্ব হুমকিতে গিরগিটি। এই প্রাণীটিকে স্থানীয়ভাবে ‘রক্তচোষা’ও বলা হয়ে থাকে। সরীসৃপ প্রাণীটিই আমাদের প্রকৃতির পরম বন্ধু। ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে আমাদের ক্ষেতের বিভিন্ন ফসল, শাক-সবজি, গাছগাছালি রক্ষা করে। 

এদিকে, ‘রক্তচোষা’ নামক ভুল নামটির কারণেই প্রাণ হারাচ্ছে প্রকৃতির জন্য উপকারী এ প্রাণীটি। মানুষ মনে করে, প্রাণীটি রক্ত খায়, এজন্য এর ঘাড় থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত লালবর্ণ। তাই ভুলভাবে তার নাম দিয়েছে রক্তচোষা। আতঙ্কিত লোকজন দেখামাত্রই ইটচাপা কিংবা লাঠির আঘাতে মেরে ফেলে এই সরীসৃপ প্রজাতিকে।

Girgiti-4বিভিন্নরূপে গিরগিটি

জানা গেছে, সরীসৃপ এই গিরগিটি সারাদেশে বর্তমানে দুর্লভ। কিন্তু কালাই উপজেলার বাগান, ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে কম-বেশি এখনো দেখা যায়। কিন্তু এই প্রাণীটি হত্যার জন্য ও বসবাসের জন্য আগের মতো বন-বাগান, ঝোপঝাড় ও জঙ্গল না থাকায় এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। এটি গড়ে ৪৪ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। লেজই প্রায় ৩২ সেন্টিমিটার। আর দেহ মাত্র ১২ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। এদের দেহের ওপরের অংশের রঙ হালকা সোনালি-হলুদ থেকে বাদামি বা হালকা জলপাই থেকে ধূসর হয়। পিঠের ওপর ও পাশে কতগুলো ফোঁটা দাগ রয়েছে। দেহের নিচের অংশ ময়লা-সাদা রঙের। পিঠের ওপর শিরদাঁড়া বরাবর কাঁটা রয়েছে। 

এরা শিকারি প্রাণী বা শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করতে রঙ পরিবর্তন করে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায়। এই সরীসৃপ প্রাণীটি গ্রামে খোলা মাঠে, ঝোপঝাড়, বাগান, জঙ্গল পার্কে বেশি থাকতে পছন্দ করে। এরা ছোট ছোট কাঁকড়া, পোকা-মাকড়ের ডিম ও অন্যান্য ছোট ছোট প্রাণী খেয়ে থাকে। প্রাণীটি খুবই ভীতু এবং লাজুক স্বভাবের। এরা সহজে কাউকে কামড়ায় না এবং কামড়ালেও তেমন বিষ নেই। এরা পরিবেশের নানা ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ খেয়ে আমাদের অনেক উপকার করে। এটি এখন বিলুপ্তের দ্বারপ্রান্তে।

Girgiti-2পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করে এরা

উপজেলার বিয়ালার গ্রামের জালাল মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধা বলেন, একসময় এলাকার আসেপাশে গিরগিটি বা ‘রক্তচোষা’ অনেক দেখা যেত। আমরা ছোটবেলা তাকে দেখলেই হাতের কাছে যা পেতাম তা দিয়ে তার দিকে ছুরে মারতাম। এখর আর তেমন চোখে পড়ে না।

উপজেলার বানদীঘি গ্রামের হেলাল বলেন, আমরাও ছেলেবেলায় জেনে এসেছি এটি রক্তচোষা প্রাণী। তার আশপাশ দিয়ে কোনো মানুষ গেলেই তার রক্ত চুষে নিয়ে সে লালে লাল হয়ে যায়। আমরা এটি দেখেলেই লাঠি দিয়ে ধাওয়া করতাম।

Girgiti-1প্রাণীটিকে স্থানীয়ভাবে ‘রক্তচোষা’ বলা হয়

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. হাসান আলী বলেন, স্থানীয়ভাবে গিরগিটিকে ‘রক্তচোষা’ বলে। এই সরীসৃপ প্রাণীটি গ্রামে খোলা মাঠে, ঝোপঝাড়, বাগান, জঙ্গল ও পার্কে বেশি থাকতে পছন্দ করে। এরা ছোট ছোট কাঁকড়া, পোকা-মাকড়ের ডিম ও অন্যান্য ছোট ছোট প্রাণী খেয়ে থাকে। এটি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে আমাদের ক্ষেতকে রক্ষা করে। কিন্তু কুসংস্কারজনিত হত্যার কারণে এই প্রাণী অত্যন্ত ঝুকির মধ্যে রয়েছে। রক্তচোষা নাম সম্পূর্ণ ভুল। এর কোনো প্রকার বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নেই। কোনো প্রাণীই দূর থেকে মানুষের রক্ত চুষে খেতে পারে না।