• শুক্রবার   ১৯ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৪ ১৪২৯

  • || ২০ মুহররম ১৪৪৪

পিরোজপুর সংবাদ
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আ. লীগের নেতারা কী করেছিলেন: প্রধানমন্ত্রী সুশীল বাবু মইনুল খুনিদের নিয়ে দল গঠন করে: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িতরা আজ মানবাধিকারের কথা বলে: প্রধানমন্ত্রী ভারত পারলে আমরাও রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবো: প্রধানমন্ত্রী চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক ‘ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছি’ খবরদার আন্দোলনকারীদের ডিস্টার্ব করবেন না: প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার মৃত্যু নেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বঙ্গবন্ধু আমাদের রোল মডেল

গোলাপি হীরা যে কারণে বিশ্বে এত দুর্লভ ও ব্যয়বহুল

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২২  

আফ্রিকার অ্যাঙ্গোলার একটি খনিতে সম্প্রতি  পাওয়া গিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকারের দুর্লভ এবং বিশুদ্ধ গোলাপি হীরা। বলা হচ্ছে গত ৩০০ বছরে এ ধরনের যত হীরার টুকরো খনিতে পাওয়া গেছে - তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়! হীরার টুকরাটির নাম রাখা হয়েছে ‘দ্য লুলো রোজ’।

টাইপ আইআইএ শ্রেণির (প্রাকৃতিক পাথরগুলোর মধ্যে অন্যতম বিরল ও বিশুদ্ধতম) হীরাটির সন্ধান পাওয়াকে সাড়াজাগানো ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ওজন ১৭০ ক্যারেট। এটি সন্ধানের জন্য খনির উত্তোলনকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অভিনন্দন জানিয়েছে অ্যাঙ্গোলার সরকার।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, একটা হীরা নিয়ে এত আলোচনা কেন? তার আগে আপনাকে কিছু বিষয় জানতে হবে! এটাও জানতে হবে, কেন গোলাপী হীরা এত বিরল এবং ব্যয়বহুল?

হীরা সাধারণত পাওয়া যায় সাদা, বাদামী এবং হলুদ রঙের। রঙিনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক রঙ যত বেশি গাঢ় বা সাদা হীরার ক্ষেত্রে রঙের অভাব যত বেশি হয়, সেটা ততো বেশি দুর্লভ এবং ব্যয়বহুল পাথর হিসেবে গণ্য হয়। প্রাকৃতিক উপায়ে গঠিত ফ্যান্সি গোলাপী হীরা হলো বাজারের সবচেয়ে দামী পাথর। যার দাম প্রতি ক্যারেটে প্রায় দেড় থেকে ৩ মিলিয়ন ডলার, যা একটি সাদা হীরার দামের চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি। খনন করে তোলা সমস্ত গোলাপী হীরার বেশিরভাগই অস্ট্রেলিয়ার আর্গেইল খনি থেকে আসে। আর্গেইল গোলাপী হীরা খুব সীমিত সরবরাহের কারণে এত ব্যয়বহুল।

একটি গোলাপী হীরা আগ্নেয়গিরির কিম্বারলাইট পাইপে লাখ লাখ বছর সময় নিয়ে সাদা হীরার মতো শুধুমাত্র কার্বন দিয়ে তৈরি হয়। একই কার্বন যা পেনসিল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কার্বন আটকে থাকা খণ্ডগুলি প্রচণ্ড তাপ এবং চাপের ফলে হীরার মতো স্বচ্ছ অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। একটি গোলাপী হীরা আরও তীব্র তাপ, চাপ এবং অধিকতর সময় পেয়ে কাঠের মতো শক্ত স্ফটিক দানায় রূপান্তরিত হয়। এগুলো এত শক্ত হয়ে সংকুচিত হয় যে, কেবলমাত্র গোলাপী আলো এই হীরার মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করতে পারে এবং পাথরটির ভেতরে ওই রঙটাই চকমক করতে থাকে।

উন্নত রঙিন পাথরে এক ধরনের তাপের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, এই প্রক্রিয়া একটি দুধেআলতা রঙের সাদা পাথরকে অধিকতর সাদা এবং একটি বাদামী পাথরের ভেতর থেকে গোলাপী বা নীল এবং সবুজ রঙের আলো বিচ্ছুরণ করায়। একটি রঙিন পাথর যার মধ্যে এই তাপ পদ্ধতি দ্বারা কাজ করা হয়, তা উজ্জ্বল এবং আরও বেশি রঙের সাথে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়াগুলি স্থায়ী হয়। এটি একটি রঙিন পাথরকে আরও অভিনব রঙে পরিপূর্ণ অথবা একটি সাদা পাথরকে আরও সাদা রং দিয়ে দামে আরও যুক্তিসঙ্গত করে তোলে। 

যদিও প্রাকৃতিক অথবা কারুকাজ করা পাথরের পছন্দ ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন, তবে, উভয়ই পরিধানকারীকে যথেষ্ট আনন্দ দেয়। আর, আপনি যদি বিশেষ দিনে আপনার সঙ্গীকে উপহার দেন আর্গেইল গোলাপী হীরা, তাহলে কিন্তু তিনি হয়ে উঠবেন বিশ্বের বিরলতম রত্নের অধিকারী!