• রোববার   ১৪ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৯ ১৪২৯

  • || ১৫ মুহররম ১৪৪৪

পিরোজপুর সংবাদ

সু চিকে দ্রুত মুক্তি দিন: মিয়ানমারকে যুক্তরাষ্ট্র

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২২  

মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে দ্রুত দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অন সাং সু চিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার মিয়ানমারের একটি সামরিক আদালত ওয়াকিটকি রাখার অভিযোগে সু চিকে আরও চার বছরের কারাদণ্ড দেন। খবর আনাদোলুর।
    
এর আগে করোনার বিধিনিষেধ ভঙ্গের অভিযোগে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইজ এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারকে বলেছেন, গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অন সাং সু চি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। অন্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাকেও অবৈধভাবে আটক রাখা হয়েছে।

মিয়ানমারে গণতন্ত্রচর্চা সুসংহত করতে যুক্তরাষ্ট্র সু চির দ্রুত মুক্তি চায়।

উল্লেখ্য, সোমবার লাইসেন্সবিহীন ওয়াকিটকি রেখে আমদানি-রপ্তানি আইন লঙ্ঘন এবং সিগন্যাল জ্যামার বসানোর দায়ে সু চিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগে করোনাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভঙ্গ এবং সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে গত ডিসেম্বরে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে দুই বছর করা হয়।

সু চির সমর্থকরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। সামরিক বাহিনী ক্ষমতা সুসংহত করার জন্যই তার রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দেওয়া হচ্ছে।

মিয়ানমারের রুদ্ধদ্বার সামরিক আদালতে সু চির বিচার চলছে। সাংবাদিকদের আলাদতে যেমন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, তেমনি সু চির আইনজীবীরাও সংবাদমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে পারছেন না। সু চির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আনা হয়েছে, তাতে যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে বাকি জীবন তাকে কারাগারেই কাটাতে হবে। বলা হচ্ছে— এসব মামলায় তার ১০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড হতে পারে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মিয়ানমারবিষয়ক গবেষক ম্যান্নি মুয়াং বলেন, জান্তা নিজেদের অস্তিত্বের ন্যায্যতা দিতে যেসব কারসাজি করছে, এটি তার আরেকটি নমুনা। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সু চির পপুলার ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) বিপুল বিজয় অর্জন করে। সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, ভোটে জালিয়াতি করে তার দলকে বিজয়ী করা হয়েছে।

দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন এক হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারী।