• শনিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৯

  • || ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পিরোজপুর সংবাদ
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের সভা বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় কর ব্যবস্থাপনা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকায় টিকিট কেটে চোখ পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী আইসিওয়াইএফ থেকে পাওয়া সম্মাননা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে পিছিয়ে না যায় সে ব্যবস্থা নিচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল হস্তান্তর প্লিজ যুদ্ধ থামান, সংঘাত থামাতে সংলাপ করুন: শেখ হাসিনা হানিফের সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করবে মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা

বিএনপির সমাবেশে লাঠি-পতাকা কেন?

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২  

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে দলের কর্মীদের অংশগ্রহণ সম্প্রতি ব্যাপক হারে বেড়েছে। পতাকা ধরে রাখার আবশ্যিক উপাদান হিসেবে মিছিল-সমাবেশে ঢুকছে লাঠি, কাঠ ও বাঁশ, যা ব্যবহার হচ্ছে সংঘর্ষে।

বিএনপির অভিযোগ, অহেতুক মারমুখী ভূমিকা পালন করছে পুলিশ। আর পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক শহীদুল হকের মতে, উসকানি দিয়ে ইস্যু তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। নিয়ম মেনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের দায়িত্ব। এদিকে সংঘর্ষ এড়াতে আরও কৌশলী হওয়ার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

গেল তিন মাসে বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে যুবদলের সমাবেশ থেকে ধাওয়া করা হয় পুলিশকে। ওই সমাবেশেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঘোষণা দেন, পুলিশ বাধা দিলে পাল্টা আক্রমণের।

আরেক কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আব্বাস চান বন্দুকের লাইসেন্স। তিনি বলেন, বন্দুক দিয়ে বন্দুক মোকাবিলা করব। লাইসেন্সবিহীন বন্দুক দিয়ে নয়।

গেল তিন মাসে বিএনপির কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে দেশের অন্তত ৬টি জেলায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। সবশেষ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) মুন্সীগঞ্জে ঘটে একই ঘটনা।

বিএনপির দাবি, কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। ক্ষমতায় গেলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় আনারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা জনগণকে নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে নতুন সরকার গঠন হলে এসব পুলিশ কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে। কারণ, এ ধরনের পুলিশ দিয়ে সমাজ, জাতি বা দেশের কোনো উন্নয়ন হবে না।  

এদিকে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক শহীদুল হক বলছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কখনোই পুলিশ বাধা দেয় না। উসকানির মাধ্যমে ইস্যু তৈরি করতে চায় সহিংসতাকারীরা।

তিনি বলেন, অতীতের আন্দোলনগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বিরোধী দলের আন্দোলনকারীরা পুলিশকে টার্গেট করে। পুলিশকে নানাভাবে উসকানি দেয়া হয়। এর একটা লক্ষ্য হলো, তারা পেশিশক্তি প্রয়োগ করে জনগণের কাছে প্রমাণ করতে চায় যে তারা অনেক শক্তিশালী। আরেকটা লক্ষ্য হলো, তারা পুলিশকে উসকানি দিয়ে অ্যাকশনে ইনভাইট করে। সংঘর্ষ হলে আহত ও নিহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটে। এতে তারা একটা ইস্যু পেয়ে যায়।

শহীদুল হক বলেন, আসলে পুলিশ কখনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হস্তক্ষেপ করে না। বিরোধী দলের মধ্যে অতি বিপ্লবী উচ্ছৃঙ্খল অনেক নেতাকর্মী থাকে। ওই দলের নেতারাও কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। দেখা গেল যে তারা পুলিশকে একটা ঢিল ছুড়ল বা একটা ককটেল মারল। এতে পুলিশ আহত হলো। তখন পুলিশ অ্যাকশনে চলে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অ্যাকশনে যেতে পারে, তবে সেটিও হতে হবে আইন মেনে, বলছেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, এমন হতে পারে যে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শক্তি পুলিশকে লক্ষ্য করেছে। তো সে ক্ষেত্রে এই জায়গাটায় পুলিশের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। জনগণকে নিরাপত্তা দিতে সন্ত্রাসী বা সহিংসতাকারীদের দমন করতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান কাজ। কিন্তু সেই দায়িত্বটা পালন করতে গিয়েও তারা যা খুশি তা করতে পারে না। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে আইন অনুযায়ী স্তরে স্তরে অগ্রসর হতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।

সভা-সমাবেশ থেকে পুলিশকে উসকানি দেয়া থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি পুলিশকে আরও সহনশীল হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।