• বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৮

  • || ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

পিরোজপুর সংবাদ

উপকারের পর খোঁটা দেওয়া নিয়ে যা বলে ইসলাম

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২১  

ইসলাম সহানুভূতির ধর্ম। পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতা ইসলামের অন্যতম বিষয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। তাই পরোপকারের চেতনায় কোনো শ্রেণিভেদ নেই। বড়-ছোট, ধনী-গরিব, আত্মীয়-অনাত্মীয়, স্বজাতি-বিজাতি, মুসলিম-অমুসলিম এসব ব্যবধানের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামের শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন মিলেমিশে থাকে। তার মধ্যে ভালো কিছু নেই, যে মিলেমিশে থাকতে পারে না। যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ। ’ (আল-মুজামুল আওসাত, ৫৭৮৭)।

মানুষের সদ্‌গুণাবলির অন্যতম হচ্ছে পরোপকার। একে অপরের সহযোগিতা ছাড়া জীবনযাপন করা কঠিন। যখন কোনো সমাজে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা হ্রাস পায়, সেখানকার মানুষ সব দিক দিয়েই পিছিয়ে পড়ে। সে সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, শান্তি বিলুপ্ত হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা তিরোহিত হয়।

পরোপকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা ঈমানের দাবি এবং আল্লাহ তা‘আলার অত্যন্ত পছন্দনীয় কাজ। এক হাদিসে বলা হয়েছে-

ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃَﻧْﻔَﻌُﻬُﻢْ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ

“যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সেই শ্রেষ্ঠ মানুষ।”

মানুষের উপকার করা যায় বিভিন্নভাবে। অর্থ, শক্তি, বুদ্ধি কিংবা বিদ্যা দিয়ে। আল্লাহ তাআলা একেকজনকে একেকরকম যোগ্যতা দিয়েছেন। কেউ যদি নিজের যোগ্যতা সৃষ্টির সেবায় নিয়োজিত করে, তবেই তা সার্থক হয়। এর দ্বারা সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানে সাফল্যমণ্ডিত হয়।

পরোপকার যে পন্থায়ই করা হোক, আল্লাহ তাআলার কাছে তা কবুল হওয়া এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ কাজরূপে গণ্য হওয়ার জন্য শর্ত হল- ইখলাস থাকা। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে করা এবং পার্থিব কোনো উদ্দেশ্য না থাকা। পার্থিব উদ্দেশ্য বলতে- যার উপকার করা হল তার কাছ থেকে কোনো বদলা পাওয়া কিংবা সুনাম-সুখ্যাতি লাভ করা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন করা বা অন্য কোনো রকমের সুবিধাভোগ হতে পারে। মুমিনের পরোপকার এইসকল উপসর্গ থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। তার প্রাণের কথা হবে-
ﺍِﻧَّﻤَﺎ ﻧُﻄْﻌِﻤُﻜُﻢْ ﻟِﻮَﺟْﻪِ ﺍﻟﻠّٰﻪِ ﻟَﺎ ﻧُﺮِﯾْﺪُ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﺟَﺰَﺁﺀً ﻭَّ ﻟَﺎ ﺷُﻜُﻮْﺭًﺍ .

‘আমরা তো তোমাদেরকে খাওয়াই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে। আমরা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও না।’ (সূরা দাহার : ৯)

মুমিন তো এই ভেবে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করবে যে, আল্লাহর দেওয়া জান-মাল ও জ্ঞান-বুদ্ধিকে সে অন্যের সেবায় ব্যয় করতে পারছে। এ ব্যয়ের লাভ তো নিজের ভাগেই আসবে। কেননা আল্লাহ তাআলা তো মেহেরবানি করে তার প্রদত্ত জান-মাল জান্নাতের বিনিময়ে তার কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
ﺍِﻥَّ ﺍﻟﻠّٰﻪَ ﺍﺷْﺘَﺮٰﯼ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﯿْﻦَ ﺍَﻧْﻔُﺴَﻬُﻢْ ﻭَ ﺍَﻣْﻮَﺍﻟَﻬُﻢْ ﺑِﺎَﻥَّ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ .

‘আল্লাহ মু’মিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও তাদের সম্পদ খরিদ করে নিয়েছেন, তাদের জন্য জান্নাত আছে- এর বিনিময়ে।’ (সূরা তাওবা : ১১১)

এক হাদীসে আছে-
ﻣَﻦْ ﻧَّﻔَّﺲَ ﻋَﻦْ ﻣُﺆْﻣِﻦٍ ﻛُﺮْﺑَﺔً ﻣِﻦْ ﻛُﺮَﺏِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻧَﻔَّﺲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻛُﺮْﺑَﺔً ﻣِﻦْ ﻛُﺮَﺏِ ﻳَﻮْﻡِ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻭَ ﻣَﻦْ ﻳَّﺴَّﺮَ ﻋَﻠٰﻰ ﻣُﻌْﺴِﺮٍ ﻳَﺴَّﺮَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓِﻰْ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻭَ ﺍﻟْﺎٰﺧِﺮَﺓِ ﻭَ ﻣَﻦْ ﺳَﺘَﺮَ ﻣُﺴْﻠِﻤًﺎ ﺳَﺘَﺮَﻩ ﺍﻟﻠﻪُ ﻓِﻰْ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻭَ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ﻭَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻓِﻰْ ﻋَﻮْﻥِ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪِ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪِ ﻓِﻰْ ﻋَﻮْﻥِ ﺍَﺧِﻴْﻪِ .

‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবী সংকটসমূহ থেকে একটা সংকট মোচন করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার আখিরাতের সংকটসমূহের একটা সংকট মোচন করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের অভাব মোচনে সাহায্য করবে, আল্লাহ তাআলা তার দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-গুণ গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।’ (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৯৯)

এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝা গেল, পরোপকারের লাভ কেবল আখিরাতেই নয়, দুনিয়ায়ও পাওয়া যায়। তবে তা পাওয়া যায় কেবল তখনই, যখন লক্ষবস্তু হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি।

যে ব্যক্তি পরোপকার করে আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের জন্য, পার্থিব স্বার্থে নয়, সে কখনও এদিকে লক্ষ করে না যে, সে যার উপকার করেছে তার পক্ষ হতে কি রকম আচরণ পাচ্ছে। তাই তার খোঁটা দেওয়ারও কোনও অবকাশ আসে না। খোঁটা দিতে পারে তো কেবল সেই, যে উপকার করে পার্থিব প্রাপ্তির আশায়। সে যখন তার আশানুরূপ ফল না পায়, তখন হতাশ হয়। সেই হতাশারই প্রকাশ ঘটে খোঁটাদানের মাধ্যমে।

অনেক সময় ইখলাসের সঙ্গে উপকার করার পরও নগদপ্রাপ্তির দিকে নজর চলে যায়। ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বিনিময় তার পাওয়ার ছিল, তা থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। কাজেই পরোপকারের সুফল লাভের জন্য শুরুর ইখলাসই যথেষ্ট নয়, পরবর্তী সময়ে সেই ইখলাসের উপরে প্রতিষ্ঠিত থাকাও জরুরি। অন্যথায় তার ইখলাসের সংগে কৃত পরোপকারও নিষ্ফল হয়ে যায়। তাইতো আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
ﺍَﻟَّﺬِﯾْﻦَ ﯾُﻨْﻔِﻘُﻮْﻥَ ﺍَﻣْﻮَﺍﻟَﻬُﻢْ ﻓِﯽْ ﺳَﺒِﯿْﻞِ ﺍﻟﻠّٰﻪِ ﺛُﻢَّ ﻟَﺎ ﯾُﺘْﺒِﻌُﻮْﻥَ ﻣَﺎۤ ﺍَﻧْﻔَﻘُﻮْﺍ ﻣَﻨًّﺎ ﻭَّ ﻟَﺎۤ ﺍَﺫًﯼ ۙ ﻟَّﻬُﻢْ ﺍَﺟْﺮُﻫُﻢْ ﻋِﻨْﺪَ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ۚ ﻭَ ﻟَﺎ ﺧَﻮْﻑٌ ﻋَﻠَﯿْﻬِﻢْ ﻭَ ﻟَﺎ ﻫُﻢْ ﯾَﺤْﺰَﻧُﻮْﻥَ .

 ‘যারা নিজ সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে আর ব্যয় করার পর খোঁটা দেয় না এবং কোনো কষ্টও দেয় না, তারা নিজ প্রতিপালকের কাছে তাদের প্রতিদান পাবে। তাদের কোনও ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সূরা বাকারা : ২৬২)

আল্লাহর পথে কৃত ব্যয়ের সুফল লাভের জন্যে শর্ত হল, পরবর্তীকালে সেই দানের জন্য কোনোরূপ খোঁটা না দেওয়া এবং কোনো কষ্ট না দেওয়া। বলা বাহুল্য, কোনো দান আল্লাহর পথে হয় তখনই, যখন তাতে ইখলাস থাকে। তাহলে এই আয়াত দ্বারা বোঝা গেল, কেবল দানকালীন ইখলাসই যথেষ্ট নয়, বরং দানের পরও ইখলাস রক্ষা জরুরি। খোঁটা দেওয়া ইখলাসের পরিপন্থী। কেননা খোঁটা দেওয়াই হয় পার্থিব প্রত্যাশা পূরণ না হলে।

খোঁটা দ্বারা কেবল দান-খয়রাত ও পরোপকারের ছওয়াবই নষ্ট হয় না; বরং এটা একটা কঠিন পাপও বটে। কেননা এর দ্বারা উপকৃত ব্যক্তির অন্তরে আঘাত দেওয়া হয়। মানুষের মনে আঘাত দেওয়া কবীরা গুনাহ। সুতরাং খোঁটা দেওয়া ইসলাম ও ঈমানের সংগে সংগতিপূর্ণ নয়। কেননা মুসলিম বলাই হয় তাকে, যার হাত ও মুখ থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে (সহীহ বুখারী, হাদীস ১০; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪১)। আর মুমিন সেই, যার ক্ষতি থেকে সকল মানুষ নিরাপদ থাকে (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১২৫৬১ )। এজন্যেই খোঁটা দেওয়াকে কুরআন মাজিদে কাফের-বেঈমানের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরশাদ হয়েছে-
ﯾٰۤﺎَﯾُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﯾْﻦَ ﺍٰﻣَﻨُﻮْﺍ ﻟَﺎ ﺗُﺒْﻄِﻠُﻮْﺍ ﺻَﺪَﻗٰﺘِﻜُﻢْ ﺑِﺎﻟْﻤَﻦِّ ﻭَ ﺍﻟْﺎَﺫٰﯼ ۙ ﻛَﺎﻟَّﺬِﯼْ ﯾُﻨْﻔِﻖُ ﻣَﺎﻟَﻪٗ ﺭِﺋَﺂﺀَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَ ﻟَﺎ ﯾُﺆْﻣِﻦُ ﺑِﺎﻟﻠّٰﻪِ ﻭَ ﺍﻟْﯿَﻮْﻡِ ﺍﻟْﺎٰﺧِﺮِ ؕ ﻓَﻤَﺜَﻠُﻪٗ ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺻَﻔْﻮَﺍﻥٍ ﻋَﻠَﯿْﻪِ ﺗُﺮَﺍﺏٌ ﻓَﺎَﺻَﺎﺑَﻪٗ ﻭَﺍﺑِﻞٌ ﻓَﺘَﺮَﻛَﻪٗ ﺻَﻠْﺪًﺍ ؕ ﻟَﺎ ﯾَﻘْﺪِﺭُﻭْﻥَ ﻋَﻠٰﯽ ﺷَﯽْﺀٍ ﻣِّﻤَّﺎ ﻛَﺴَﺒُﻮْﺍ ؕ ﻭَ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﻟَﺎ ﯾَﻬْﺪِﯼ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻜٰﻔِﺮِﯾْﻦَ .

‘হে মুমিনগণ! খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান-সদকাকে সেই ব্যক্তির মত নষ্ট করো না, যে নিজের সম্পদ ব্যয় করে মানুষকে দেখানোর জন্য এবং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে না। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত এরকম, যেমন এক মসৃণ পাথরের উপরে মাটি জমে আছে, অতঃপর তাতে প্রবল বৃষ্টি পড়ে এবং তা সেই মাটিকে ধুয়ে নিয়ে যায় এবং সেটিকে পুনরায় মসৃণ পাথর বানিয়ে দেয়। এরূপ লোক যা উপার্জন করে, তার কিছুমাত্র তারা হস্তগত করতে পারে না। আর আল্লাহ এরূপ কাফেরদেরকে হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।’ (সূরা বাকারা : ২৬৪)

অর্থাৎ খোঁটা দেওয়া কাফেরদেরই বৈশিষ্ট্য। তারা যেহেতু আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাই ছওয়াবেরও কোনও আশা থাকে না। আশা থাকে কেবল নগদপ্রাপ্তি। হয় সে ব্যক্তি তাকে আরও বেশি দেবে, নয় তার অনুরূপ উপকার তারও করবে। অন্ততপক্ষে তার গুণগান করে তো বেড়াবেই। যখন এর কোনোটা পায় না, তখন মনে করে- বৃথাই টাকা-পয়সা নষ্ট করল। এভাবে সে হতাশার শিকার হয় আর নিমকহারাম, অকৃতজ্ঞ ইত্যাদি বলে গালাগাল করে। এখন মু’মিন-ব্যক্তিও যদি খোঁটা দিয়ে বসে, তবে তা কাফেরসুলভ আচরণই হল। এর দ্বারা প্রমাণ হবে- দান বা উপকার করার সময় আল্লাহর সন্তুষ্টি তার উদ্দেশ্য ছিল না।

যে ব্যক্তি কারও উপকার নেয়, সে এমনিতেই মানসিকভাবে দুর্বল থাকে। তার উপর যদি খোঁটা দেওয়া হয়, তবে তা তার অন্তরে রীতিমত রক্তক্ষরণ ঘটায়। সেই রক্তক্ষরণের বিপরীতে তার দান-খয়রাত ও উপকার কোনো ধর্তব্যেই আসে না। বরং আঘাতের উৎপত্তি যেহেতু ওই উপকার থেকে, তাই উপকারটাও উপকৃত ব্যক্তির পক্ষে হয়ে যায় এক পাষাণ ভার। যেন এই উপকার না করাই তার পক্ষে ভালো ছিল। তাই তো ইরশাদ হয়েছে-

ﻗَﻮْﻝٌ ﻣَّﻌْﺮُﻭْﻑٌ ﻭَّ ﻣَﻐْﻔِﺮَﺓٌ ﺧَﯿْﺮٌ ﻣِّﻦْ ﺻَﺪَﻗَﺔٍ ﯾَّﺘْﺒَﻌُﻬَﺎۤ ﺍَﺫًﯼ ؕ ﻭَ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﻏَﻨِﯽٌّ ﺣَﻠِﯿْﻢٌ .
অর্থ : ‘উত্তম কথা বলে দেওয়া ও ক্ষমা করা সেই দান-সদকা অপেক্ষা শ্রেয়, যার পর কোনও কষ্ট দেওয়া হয়। আল্লাহ অতি বেনিয়ায ও সহনশীল।’ (সূরা বাকারা : ২৬৩)

কেউ যদি কারও কাছে কোনও সাহায্য চায় এবং সে কোনো কারণে তা করতে না পারে, তবে তার উচিত নম্র ও ভদ্র ভাষায় তাকে জবাব দিয়ে দেওয়া। আর যদি অনুচিত পীড়াপীড়ি করে, সেজন্য তাকে ক্ষমা করা। আর এভাবে নম্রকথা বলে বিদায় করা ও ক্ষমা করা সেই দান অপেক্ষা বহু শ্রেয়, যে দানের পর খোঁটা দেওয়া হয় কিংবা অপমান করে কষ্ট দেওয়া হয়।