• বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

  • || ১০ শা'বান ১৪৪৫

পিরোজপুর সংবাদ

মরিচের বাম্পার ফলন

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২৩  

বগুড়ায় যমুনার চরে এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। শেষ সময়ে কৃষকেরা এখন মরিচ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সরেজমিন বগুড়ার যমুনার চর এলাকাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, মরিচের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কৃষকরা বলছেন আগাম মরিচ লাগানো ও কুয়াশা না থাকায় এবার ফলন ভালো। এতে কৃষকরা লাভের মুখ দেখবে বলে আশাবাদী।

যমুনার চরে গজারিয়া গ্রামের মরিচ চাষি খোরশেদ আলমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, এবার এক বিঘা জমিতে মরিচ করেছি। ফলন মাশাআল্লাহ ভালো হয়েছে। এখন মরিচের যত্ন নিতে ব্যস্ত। আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যে মরিচ উঠানো যাবে।

কৃষক ফয়সাল আহমেদ জানান, এবার দুই বিঘা মাটিতে হাইব্রিড মরিচ চাষ করেছি। এরইমধ্যে মরিচ বাজারেও বিক্রি করেছি। এবার আগাম মরিচ করায় মরিচের দাম ভালো পেয়েছি। আর এই হাইব্রিড মরিচের যত্ন নিলে একই গাছ থেকে কয়েকবার পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

সোনাতলার তেকানী চুকাইনগর গ্রামের কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, এবার দেড় বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। খরচ হয়েছে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা। ফলন দেখে মনে হচ্ছে লাখ দুয়েক পর্যন্ত বেচতে পারবো।

সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন জানান, এ বছর সোনাতলায় ৯১০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। এরমধ্যে তেকানী আর পাকুল্লা ইউনিয়নে বেশি চাষ হয়েছে। মরিচ লাগানোর যেহেতু আরো সময় আছে তাই আরো জমিতে মরিচ লাগানো হবে। আশাকরি এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, বিঘাপ্রতি মরিচ চাষে খরচ হয় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। স্থানীয় জাতে আরো কম খরচ হয়। বিঘা প্রতি হাইব্রিডে ফলন হয় ৮০ থেকে ৯০ মণ ও স্থানীয় জাতের ৩৫-৫০ মণ।

এরইমধ্যেই জেলার হাট-বাজারগুলোতে নতুন কাচা মরিচ উঠতে শুরু করেছেন। এতে করে মরিচের দামও কিছুতে কমে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে এসেছে।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মম হক জানান, এরইমধ্যেই বাজারে মরিচের সরবরাহ শুরু হয়েছে। কাঁচা মরিচ পাইকারিতে মণ প্রতি ২০০০ থেকে ২৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এবার কৃষকেরা আগাম মরিচ বাজারজাত করায় দাম ভালো পাচ্ছে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) নাজমুল হোসেন বলেন, এবার বগুড়ার সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা উপজেলাগুলোতে মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে হাইব্রিড ৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর ও উফসি ২০০০ হেক্টর। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা আছে ৬ হাজার ৫৬০ হেক্টর। কেউ কেউ আমন ধান কেটে মরিচ চাষ করেন। ডিসেম্বর মাস যেহেতু পুরোটাই মরিচ চাষ করেন এ অঞ্চলের কৃষক তাই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়বে। গতবার গড় ফলন ছিলো হেক্টরপ্রতি ১২ দশমিক ৫৬ মেট্রিক টন। আশা করছি এবার গড় ফলন বেশি হবে কারণ কুয়াশা না থাকার কারণে ফলন ভালো হয়েছে।