• রোববার ২৩ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৮ ১৪৩১

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

পিরোজপুর সংবাদ

বে টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শুরু ডিসেম্বরে

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৪  

সব স্থবিরতার অবসান ঘটিয়ে বে টার্মিনাল নিয়ে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি এবং দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন সরকারের সম্মতি পেলেই চলতি বছরের জুন এবং জুলাই মাসে এ দুটি সংস্থার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই করবে চট্টগ্রাম বন্দর। আর ডিসেম্বরের মধ্যেই শুরু হবে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে বে টার্মিনাল নির্মাণের মহা কর্মযজ্ঞ।

চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় একেবারে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী প্রস্তাবিত বে টার্মিনালের ডিজাইন পরিকল্পনা এরই মধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ৫০০ একর ভূমিও বুঝে নিতে যাচ্ছে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে। বাকি ছিল বে টার্মিনালের তিনটি অংশে বিনিয়োগে আগ্রহী দেশ এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা।

অবশেষে সেই জটিলতাও কাটতে শুরু করেছে। চলতি বছরেই সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি এবং দুবাইভিত্তিকে প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল বলেন, সম্পূর্ণ বে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে বিদেশি বিনিয়োগে। এর মাধ্যমে ডলারের পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তির সুবিধাও পাওয়া যাবে।

২০১৭ সালে প্রস্তাবিত এবং ২০২৩ সালে অনুমোদিত মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী, ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এই বন্দর। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব জেটি দেড় হাজার মিটার দৈর্ঘ্য হলেও সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি এবং ডি পি ওয়ার্ল্ডে জন্য প্রস্তাবিত জেটির দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১ হাজার ২২৫ মিটার করে।

আর এতে বিনিয়োগের পরিমাণ চার বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এছাড়া বন্দরের অংশে আরব আমিরাত ভিত্তিক আরেকটি প্রতিষ্ঠান আবুধাবি বন্দর অন্তত এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে অপেক্ষা করছে।

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, এই বে টার্মিনাল যত দ্রুত নির্মাণ করা সম্ভব হবে ততো দ্রুতই পণ্যের উৎপাদন খরচ কমবে। বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ।

বে টার্মিনালে বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে আগ্রহী দেশের কর্মকর্তারা। কারণ, বে টার্মিনালের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়তা দিতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সাগরের উপকূলবর্তীর পাশাপাশি ব্রেক ওয়াটার সুবিধা থাকায় অন্তত ১৪ মিটার গভীরতার যে কোনো আকৃতির জাহাজ সহজে নোঙর করার সুবিধা পাবে এই টার্মিনালে।

আর তাই বিদেশি বিনিয়োগও হবে তুলনামূলক বেশি। কিন্তু বিনিয়োগ তুলে আনতে গিয়ে পণ্য হ্যান্ডলিং চার্জ বাড়ানো হলে তা হিতে বিপরীত হবে বলে শঙ্কা বন্দর ব্যবহারকারীদের।

এমএসসি বাংলাদেশ লিমিটেডের হেড অফ অপারেশন মো. আজমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, জাহাজগুলোকে ২৪ ঘণ্টা সুযোগ-সুবিধা দেয়া যায় -- এমনভাবেই বে টার্মিনালটি নির্মাণ করা উচিত। এতে সহজ হবে ব্যবসা-বাণিজ্য।

জেবিএক্স লজিস্টিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবায়েত বলেন, বে টার্মিনালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে পণ্য আনা-নেয়ার কাজে কোনো ঝুঁকি তৈরি না হয়।

উল্লেখ্য, এ বন্দরে নৌ পথের পাশাপাশি সড়ক এবং রেল যোগাযোগের সুবিধা থাকছে। আর এখানে বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হবে ৫০ লাখের বেশি। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর কনটেইনার হ্যান্ডলিং করছে ৩০ থেকে ৩২ লাখ।