• রোববার ২৩ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৮ ১৪৩১

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

পিরোজপুর সংবাদ

পদ্মা রেল করিডোর ট্রেনে ঢাকা থেকে মাত্র তিন ঘণ্টায় খুলনা

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ৪ মে ২০২৪  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উদ্বোধনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হয়নি পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের। গত বছরের ১০ অক্টোবর উদ্বোধন হলেও ২১ দিন পরে ১ নভেম্বর থেকে চালু হয় বাণিজ্যিক ট্রেন। এরপর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে চলছে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, বেনাপোলগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস ও রাজশাহীগামী মধুমতী এক্সপ্রেস। পদ্মা সেতু দিয়ে আরও একটি কমিউটার খুলনাগামী নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে যায়।

রেলসূত্র নিশ্চিত করেছে, ঢাকা-যশোর-খুলনা রুটে ট্রেন বর্তমানে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুর-কুষ্টিয়া- দর্শনা হয়ে যায়। এত ঘুরে যশোর-খুলনা পৌঁছানোয় দূরত্ব বেড়ে হয়ে যায় ৩৬৭ কিলোমিটার, আর সময়ও লাগে কমপক্ষে সাড়ে ৭ ঘণ্টা। কিন্তু তিন মাস পরে জুলাই থেকে সোজা রুটে ট্রেন ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু-ভাঙ্গামধুমতি সেতু হয়ে যশোর যাবে। ফলে এ রুটের দূরত্ব ৩৬৭ কিলোমিটার থেকে ১৯৫ কিলোমিটার কমে দাঁড়াবে মাত্র ১৭২ কিলোমিটারে। ফলে এ রুটের যাতায়াতের সময় কমবে কমপক্ষে তিন ঘণ্টা। পরিবর্তিত সময়ে ঢাকা থেকে যশোর যেতে লাগবে সোয়া তিন ঘণ্টা এবং ঢাকাথেকে খুলনা ও ঢাকা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত যেতে চার ঘণ্টা সময় লাগবে।
বর্তমানে ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে মাত্র চার ট্রেন চালিয়ে এ রুটকে লাভজনক করতে পারছে না রেলওয়ে। এজন্য পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচলকারী চার রুটে চলতি বছরে নতুন আট জোড়া ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রেলওয়ে। এ চার রুট হচ্ছে- ঢাকা-যশোর-খুলনা, ঢাকা-যশোর-বেনাপোল, ঢাকা-ভাঙ্গা-গোপালগঞ্জ, ঢাকা ফরিদপুর-দর্শনা। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে অতিরিক্ত ট্রেন চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খুলনা রুটে ট্রেন বাড়বে।

রেল সচিব হুমায়ুন কবির বলেছেন, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে ঢাকা-খুলনা রুটে চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস দ্বিগুণ করে চারটি ট্রেন চলবে। ঢাকা-বেনাপোল রুটেও বর্তমান সক্ষমতা (রেক) দিয়ে দুইটি ট্রেন চালানো সম্ভব। এ রুটের কাজ শেষের পথে, জুলাই মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পুরোদমে চালুর জন্যে সময় চাওয়া হবে। ঢাকা-দর্শনা ও ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে এক জোড়া ট্রেন ইঞ্জিন ও বগি পাওয়া সাপেক্ষে চালু করা হবে। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে নতুন আট জোড়া ট্রেন চালু করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে আরও ২০০টি ব্রডগেজ ট্রেন এলে এ রুটে সেবার মান ও ট্রেন সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন রেলসচিব।
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই রুটের দূরত্ব কমবে ১৯৫ কিলোমিটার এবং সময় কমবে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। এর ফলে যাত্রীদের অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে।
এদিকে, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রথমাংশে সেতু হয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চলছে। আসছে জুলাইয়ে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু করবে। একইসঙ্গে বর্তমানে ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচলকারী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও চিত্রা এক্সপ্রেস, বেনাপোলগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস রুট পরিবর্তন করে নতুন রুটে চলাচল করবে। একইসঙ্গে আরও একটি নতুন রেক( ট্রেন বডি) এ রুটে যুক্ত হবে। এই চারটি রেক (ট্রেন বডি) দিয়ে মোট ৮ জোড়া ট্রেন পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সদরদপ্তরে পাঠানো রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, খুলনা-ঢাকা রুটে প্রথম ট্রেনটি খুলনা থেকে ৬টায় ছেড়ে ঢাকায় আসবে সকাল ৯ টায় এবং ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়ে পৌঁছাবে দুপুর সাড়ে ১২টায়।
অন্যদিকে ঢাকা-খুলনা রুটে প্রথম ট্রেনটি ঢাকা থেকে ৬টায় ছেড়ে খুলনায় আসবে সকাল ৯টায় এবং ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৯ টায় খুলনা থেকে ছেড়ে গিয়ে ঢাকায় পৌঁছাবে দুপুর সাড়ে ১২টায়। খুলনা-ঢাকা রুটে তৃতীয় ট্রেনটি ঢাকা থেকে দুপুর ১টায় খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়ে পৌঁছাবে বিকাল ৪টায়। আর ফিরতি ট্রেনটি রাত সাড়ে ৭টায় খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়ে পৌঁছাবে সকালে সাড়ে দশটায়। চতুর্থ ট্রেনটি খুলনা থেকে ১২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং ঢাকায় পৌঁছাবে বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে। ঢাকা থেকে দুপুর একটায় ছেড়ে গিয়ে খুলনায় পৌঁছাবে বিকাল ৪ টায়। আর ঢাকা-বেনাপোল রুটে বেনাপোল এক্সপ্রেস সকাল ১০ টায় ঢাকা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়ে পৌঁছাবে দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে এবং বেনাপোল থেকে দুপুর ৩ টায় ছেড়ে গিয়ে ঢাকায় পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। ঢাকা-খুলনা রুটের মতো ঢাকা-দর্শনা রুটে ট্রেন থাকছে দুইটি। ঢাকা-দর্শনা রুটে প্রথম ট্রেনটি দর্শনা থেকে সকাল সাতটায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে ১২টায় এবং ঢাকা থেকে দুপুর ১টায় ছেড়ে দিয়ে দর্শনায় পৌঁছাবে বিকাল ৪টায়। দ্বিতীয় ট্রেনটি ঢাকা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টায় ছেড়ে গিয়ে দর্শনায় পৌঁছাবে ৯টা ৪০ মিনিটে এবং দর্শনা থেকে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৫ টায়। আর ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের গোবরা রুটের ট্রেনটি সকাল ৬টায় ছেড়ে এসে ঢাকায় পৌঁছাবে সকাল সাড়ে আটটায়। আর ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টায় ছেড়ে গিয়ে রাত সাড়ে ৮টায় গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে। এই ট্রেনগুলোর জন্যে যশোরের পদ্মবিলা স্টেশন থেকে কোটচাঁদপুর, কোটচাঁদপুর-যশোর, পদ্মবিলা-খুলনা রুটে শাটল ট্রেনের মাধ্যমে অন্য এলাকার যাত্রীদের সুবিধা দিবে রেলওয়ে।
ভাড়ার বিষয়ে রেল সচিব হুমায়ুন কবীর বলেন, এই রুটে পদ্মা সেতু আছে। অনেকগুলো ভায়াডাক্ট আছে। পদ্মা সেতুর জন্য আলাদা করে কিলোমিটার হিসেব করে ভাড়া ধরা হয়। তাই সবমিলিয়ে ভাড়া ঠিক করা হচ্ছে। যাত্রীরা স্বল্প খরচে যেতে পারবে। সময় কম লাগবে।