• শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

  • || ১২ শা'বান ১৪৪৫

পিরোজপুর সংবাদ
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের আহ্বান সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ২১ বছর সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি: শেখ হাসিনা হঠাৎ টাকার মালিক হওয়ারা মনে করে ইংরেজিতে কথা বললেই স্মার্টনেস ভাষা আন্দোলন দমাতে বঙ্গবন্ধুকে কারান্তরীণ রাখা হয় : সজীব ওয়াজেদ ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধিকার পেয়েছে অশিক্ষার অন্ধকারে কেউ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী একুশ মাথা নত না করতে শেখায়: প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সারা দেশে তৈরি হচ্ছে ভূমি অফিসের নতুন ভবন

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২৩  

দেশের ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলো বেশিরভাগই জরাজীর্ণ। এসব অফিসে রেকর্ডপত্র সুরক্ষার তেমন সুবিধাও নেই বললে চলে। শুধু তাই নয়, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা শহরের ভূমি অফিসের কর্মপরিবেশ ও সেবাদানের পরিবেশও উন্নত নয়। এসব কারণে দেশের ভূমি অফিসগুলোর জন্য নতুন করে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশের ভূমি অফিসগুলোর প্রধান কাজ হলো—ভূমি ও সম্পত্তির সেবা প্রদান করা। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলো মূলত ভূমি ও সম্পত্তির সংশ্লিষ্ট দলিল তৈরি, ভূমির মালিকানা সমস্যার সমাধান, ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি বিক্রি, ভূমি ও সম্পত্তির মানদণ্ডের বিষয়ে পরামর্শ প্রদান, ভূমির মানচিত্র তৈরি ও পরিমাপ করা। এছাড়া জমি উন্নয়ন পরিকল্পনা, উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে নির্দেশনা, প্রকল্প বিনিময়, ভূমি এবং সম্পত্তি ক্রয় করা। স্থানীয় ও জাতীয় ভূমি এবং সম্পত্তির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুসারে ভূমি ও সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট কর ও ব্যবস্থাপনাসহ তথ্য সংরক্ষণ করা। এসব কাজ করার জন্য যে পরিমাণ অবকাঠামো থাকা প্রয়োজন, তা না থাকায় প্রায়ই নাগরিকদের সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে ভূমি অফিসগুলো।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে দেশের ৮ বিভাগের ৬১ জেলার ৩৯৩ উপজেলায় ১ হাজার ৩৩৩টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে এক হাজার ৫৯৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ৩০ জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘সমগ্র দেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্ব)’ শীর্ষক প্রকল্পটি গত ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক সভায় অনুমোদন করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মপরিবেশ এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য সেবাদানের পরিবেশ উন্নয়ন এবং ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মূলত নতুন ভূমি অফিস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এর আগেও সরকারের এই উদ্যোগের প্রথম পর্বে সারা দেশে ১ হাজার ৬৩৯টি ভূমি অফিসের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানান, মাঠ পর্যায়ে ভূমি অফিসে ভূমির রেকর্ড সংরক্ষণে সুযোগ-সুবিধা, সেবা প্রদানের  সক্ষমতা এবং মাঠ পর্যায়ে ভূমি প্রশাসনের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সমতল জমিতে দোতলার ভিত্তিসহ ১ হাজার ৩০০ বর্গফুট আয়তনের একতলা বিশিষ্ট ১০৫১টি এবং উপকূলীয় বা হাওর এলাকায় তিনতলা ভিত্তিসহ খোলা গ্রাউন্ড ফ্লোরযুক্ত ১৪৯৫ বর্গফুট আয়তনের  দুই তলাবিশিষ্ট ২৮২টি শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া যেসব ভূমি অফিসের সীমানা প্রাচীর নেই, বা মূল গেট নেই বা যেসব ভূমি অফিসের গেট বা সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রয়েছে, সেসব অসমাপ্ত গেটসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বলা হয়েছে—সমগ্র দেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বর্ণিত ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং ভূমি প্রশাসনে ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

একনেকের অনুমোদন চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে বলা হয়েছে—এ প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী ১ হাজার ৩৩৩টি শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণের মাধ্যমে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মপরিবেশ এবং সেবাপ্রার্থীদের জন্য সেবাদানের পরিবেশ উন্নয়নসহ ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এমন পরিস্থিতিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রস্তাবিত ‘সমগ্র দেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্ব)’ শীর্ষক প্রকল্পটি এক হাজার ৫৯৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পূর্ণ জিওবি অনুদানে জুন ২০২৮ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাজ স্থানীয় এবং জাতীয় স্তরে খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাদের দেওয়া সেবার মাধ্যমে জনগণ উপকৃত হবে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ভূমি এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা সরবরাহ করে থাকে। যেমন- ভূমি রেকর্ড এবং সনদপত্র প্রদান করা, ভূমি পরিমাপ, সীমানা নির্ধারণ, বাড়ি এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বাণিজ্য ভূমি উপলব্ধি করা ইত্যাদি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া ভূমি অফিসের কাজ হচ্ছে—ভূমি এবং সম্পত্তির সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন নীতি পরিচালনা করা, যাতে এই সম্পদের বিষয়ে পরামর্শ পাওয়া যায়। এসব কারণেই উন্নত অবকাঠামো সমৃদ্ধ ভূমি অফিস দরকার। সরকার এ জন্যই সারা দেশের ভূমি অফিসগুলো নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।’