• শনিবার ১৮ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪৩১

  • || ০৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

পিরোজপুর সংবাদ
ব্রেকিং:
যত ষড়যন্ত্র হোক, আ.লীগ সংবিধানের বাইরে যাবে না: ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আগামীকাল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির আহতদের চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা চান প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ক্ষমতায় এসে সব কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয় চমক রেখে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ শেখ হাসিনার তিন গুরুত্বপূর্ণ সফর: প্রস্তুতি নিচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের ভিসা অনুমোদনের সময় বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘বয়কট’ করা তরমুজের কেজি ফের ৬০ থেকে ১২০ টাকা

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৪  

রমজানের আগেই শুরু হয়েছিল তরমুজের মৌসুম। আর শুরু থেকেই তা বিক্রি হচ্ছিল উচ্চমূল্যে। রোজার মাসে তরমুজের চাহিদা থাকায় দাম উঠে যায় আরও ওপরে। এসময় সাধারণ ক্রেতারা তরমুজ ‘বয়কট’ করার আহ্বান জানান। বৃষ্টি হয়ে তাপমাত্রা কমে আসায় এর চাহিদাও কমে। ফলে কমতে শুরু করে তরমুজের দাম। বাংলাদেশ এগ্রি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) উদ্যোগে 'কৃষকের পণ্য, কৃষকের দামে' স্লোগান নিয়ে রাজধানীর পাঁচ স্থানে ন্যায্য মূল্যে তরমুজ বিক্রি শুরু করলে তরমুজ সস্তা হয়ে ওঠে বাজারে।

কিন্তু তরমুজ ‘বয়কট’ করার এক মাস না পেরোতেই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। চলমান এই তাপপ্রবাহের সুযোগেই তরমুজের দাম বিভিন্ন অজুহাতে বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা আবার আগের মতো অতিরিক্ত দামে তরমুজ বিক্রি করছেন। তারা রোজার আগের সময়ের মতো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি করছেন ৬০ থেকে ১২০ টাকায়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ, তবে সবখানেই দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ, তবে সবখানেই দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল)  রাজধানীর পুরানা পল্টন, ফার্মগেট ও মিরপুর ৬ নম্বর এলাকা ঘুরে দেখা যায় অতিরিক্ত দামে তরমুজ বিক্রির এই চিত্র।

পুরানা পল্টন মোড়ের কিছুটা সামনের এক রাস্তায় (আজাদ প্রোডাক্টসের গলি) রয়েছে বেশ কয়েকটি ফলের দোকান। দোকানগুলোতে পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। মাঝারি আকারের তরমুজের দাম জিজ্ঞেস করলে তারা দাম চান ৪০০ টাকা। ওজন দিয়ে দেখতে চাইলে দেখা যায় ওই তরমুজের ওজন ৫ কেজি থেকে সামান্য বেশি। এক্ষেত্রে কেজি হয় ৮০ টাকা। তবে বিক্রেতারা জানান, তারা কেজি হিসেবে নয়, বিক্রি করেন পিস হিসেবে।

অন্যান্য ফলের দোকানে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। তারাও প্রায় একই আকারের তরমুজ বিক্রি করছেন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তরমুজের দাম কেন হঠাৎ বেড়ে গেল জানতে চাইলে এক বিক্রেতা বলেন, তরমুজের সিজন শেষের দিকে। তাই দাম এখন বেশি। আর এই তরমুজ মিষ্টি হবে, গ্যারান্টি।

আরেক বিক্রেতা বলেন, এগুলো খুলনার তরমুজ। খুলনার তরমুজের দাম এমনিতেই বেশি হয়।

এই এলাকার সব দোকানে তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রি হলেও এক দোকানে গিয়ে দেখা যায় তারা কেজি দরে বিক্রি করছেন। কত করে কেজি জানতে চাইলে তারা জানান প্রতি কেজি ১২০ টাকা। তার দোকানে থাকা তরমুজের ওজন সব ৫ কেজির ওপরে। এক্ষেত্রে ৫ কেজি ওজনের একটি তরমুজের দাম পড়ে ৬০০ টাকা।

আশেপাশের দোকানে একই ওজনের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তার দোকানে দাম এতো বেশি থাকার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেন, আমাদের এখানে সব ফলই ফ্রেশ। কোনও খারাপ মাল আমরা রাখি না। ভালো জিনিস খেতে হলে তো দাম বেশিই দিতে হয়।

এদিকে ফার্মগেট এলাকার তেজগাঁও কলেজের সামনের ফলের দোকানে গিয়ে দেখা যায় তারা কেজি দরে বিক্রি করছেন তরমুজ। প্রতি কেজি ৬০ টাকা করে দাম হাঁকছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

এক মাসও হয়নি তরমুজ বিক্রেতারা ৩০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করেছেন। এখন হঠাৎ করে কেন এর দাম দ্বিগুণ হয়ে গেল—এই প্রশ্ন করলে তরমুজের বিক্রেতা মতিন বলেন, সিজন শেষের দিকে তাই দাম বেশি। আর সবসময় কি দাম কম থাকবে নাকি? কাস্টমাররা যেমন বন্ধ করছিল কেনা, এখন সেটা পোষায়ে নিতে হবে না?

আরেক বিক্রেতা সিদ্দিক বলেন, দাম কেন বাড়ছে তার কোনও কৈফিয়ত আমার কাছে নাই। দাম এখন যা বিক্রি করতেছি সেটাই।

আবুল কালাম নামের এক বিক্রেতার কাছে জানতে চাওয়া হয় তরমুজের মৌসুম কখন থাকে। তিনি বলেন, তরমুজ মার্চের শেষ থেকে শুরু করে মে মাস পর্যন্ত থাকে। এটাই তরমুজের সিজন। তবে এখন সারা বছরই তরমুজ পাওয়া যায়।

যদি সারা বছরই তরমুজ পাওয়া যায় তাহলে সিজন শেষের কথা বলে কেন বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে—এমনটা তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এগুলো তো বড় তরমুজ। অন্য সময় যেসব তরমুজ পাওয়া যায় সেগুলো তো ছোট তরমুজ।

মিরপুর ৬ নম্বর বাজারের ফলের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। বিক্রেতারা জানান, এক একটি তরমুজের ওজন হবে ৬ থেকে ১৪ কেজি পর্যন্ত। এখানে বরিশাল অঞ্চলের তরমুজ বিক্রি হয় বলে জানান তারা।

শাহজাহান নামের এক বিক্রেতার কাছে তরমুজের দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন বরিশালের তরমুজ ৬০ টাকা কেজি, আর খুলনার তরমুজ ৭০ টাকা কেজি। কিছুদিন আগে দাম কম ছিল। এখন কেন হঠাৎ করে বেড়ে গেল এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাম কেন বেড়েছে তা আমার জানা নেই। আমার কেনা বেশি পড়েছে বলেই আমি বেশি দামে বিক্রি করি।

মো. লতিফ নামের আরেক বিক্রেতা দাম বেশি থাকার কারণ নিয়ে নিজের কাছে থাকা তরমুজ দেখিয়ে বলেন, এগুলো একদম তাজা। কাটলে রঙ লাল হবে, আবার মিষ্টি হবে কড়া। এই গ্যারান্টি দিয়ে বিক্রি করতেছি, দাম তো বেশি হবেই।

আরেক বিক্রেতা রায়হান বলেন, কৃষকরা এবার যেই লস করছে...এখন সিজন শেষের দিকে এসে যদি একটু লাভ না করে তাহলে তারা বাঁচবে কীভাবে?

রাজধানীর এসব বাজারে অনেক ক্রেতাকেই দেখা যায় দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন। সেই তুলনায় কিনছেন কম।

ফার্মগেট এলাকা তরমুজ কিনছিলেন তানিয়া। তিনি জানান ৩৬০ টাকা দিয়ে ৬ কেজির একটি তরমুজ কিনেছেন। তিনি বলেন, ফিক্সড প্রাইজে কিনলাম; কমালো না দাম। বলল ভালো হবে। এখন দেখা যাক তার কথা কতটা সত্য।

মোস্তফা নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ৬০০ টাকা দিয়ে ১০ কেজির সামান্য বেশি ওজনের একটা তরমুজ কিনেছি। অনেক বক্তৃতা দিয়ে বলেছে এটা ভালো হবে, খুলনার তরমুজ। মাঝখানে মানুষ কেনা বন্ধ করেছিল, তখন দাম এমনিতেই কমে গিয়েছিল। যেই এখন একটু গরম পড়েছে, মানুষ আবার কেনা শুরু করেছে। ব্যাস আবার তাদের দাম বেড়ে গিয়েছে।  এই হচ্ছে ব্যবসায়ীদের অবস্থা।

এদিকে পল্টন এলাকায় ভ্যানে করে তরমুজ কেটে টুকরো করে প্রতি প্লেট ২০ টাকা করে বিক্রি করতে দেখা যায়। এখান থেকে তরমুজ কিনে খান পথচারী আহসান হাবিব। তিনি বলেন, ২০ টাকা করে প্লেট তরমুজ কিনেছিলাম। তার অর্ধেকই ছিল পচা। তারপর আরেক প্লেট কিনেছি সেটাও পচা ছিল। কিন্তু বিক্রেতা বলেছে ভালো হবে। আসলে দুই প্লেটই পচা ছিল। পরে তাকে দাম দিয়ে চলে এসেছি। গরমের মধ্যে আর কথা বাড়াতে চাইনি। শুধু বলে এসেছি যে তার তরমুজ ভালো না।

উল্লেখ্য, রোজার মাসে  'কৃষকের পণ্য, কৃষকের দামে' স্লোগান নিয়ে রাজধানীর পাঁচ স্থানে ন্যায্য মূল্যে ২৭ রোজা পর্যন্ত তরমুজ বিক্রি করে বাংলাদেশ এগ্রি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা)। সেসময় ৫ কেজির বেশি ওজনের তরমুজ ১০০ টাকা, ৭ কেজির বেশি ওজনের তরমুজ ১৫০ টাকা, ৯ কেজির বেশি ওজনের তরমুজ ২০০ টাকা, ১১ কেজির বেশি ওজনের তরমুজ ২৫০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি করা হয়।