• শুক্রবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৯

  • || ০৩ রজব ১৪৪৪

পিরোজপুর সংবাদ

 কলেজ ছাত্রী অপহরণ ২ ঘন্টা পর উদ্ধার করলো পুলিশ

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বর ২০২২  

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গৃহবধূ (২২) কে প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর, বসতঘর ভাংচুর শেষে বিবস্ত্র করে তুলে নেয় মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী ও তার ভাড়া করা দলবল। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে তার মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে মারধরও করা হয়। এ ঘটনায় ৯৯৯-এ ফোন দিলে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ অপহরণের ২ ঘন্টা পর ওই নারীকে সাবেক স্বামীর বসতঘর হতে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় আহত ওই নারীর মা খোর্শেদা বেগমকে (৫০) স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এঘটনায় সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা করেন ওই নারীর মা খোর্শেদা বেগম ।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জরিপেরচর গ্রামের হাবিবুর রহমান খানের মেয়ে ও পৌর শহরের মহিউদ্দিন আহমেদ মহিলা ডিগ্রী কলেজের বিএ ২য় বর্ষের ছাত্রী হামিদা আক্তারের সাথে পারিবারিক সম্মতিতে পার্শ্ববর্তী বড়মাছুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়মাছুয়া গ্রামের মৃত আহাম্মদ হাওলাদারের পুত্র মালয়েশিয়া প্রবাসী রুহুল আমিনের সাথে ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর  বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে বনিবনা হচ্ছিল না তাদের। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে স্বামী রুহুল আমীন তার নব বিবাহিত স্ত্রীর ওপর অশ্লীল ব্যবহারসহ নির্যাতন চালাত। এক পর্যায়ে হামিদা অতিষ্ট হয়ে স্বামীকে ২০১৯ সালে তালাক দেয়। তালাক দেয়ার পর ওই ছাত্রীর স্বামী রুহুল আমীন ক্ষুব্ধ হয়ে মালয়েশিয়া থাকাকালে সাবেক স্ত্রীর বাবার মোবাইল ফোনে শ্লীলতাহানীসহ খুন জখমের হুমকি দেয়। শুধু তাই নয় রুহুল দেশে এসে সাবেক স্ত্রী ও ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে ২টি মামলা দায়ের করে। যা আদালতে বিচারাধীন।

এদিকে রুহুলের অব্যাহত হুমকির মুখে হামিদা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ওই সময় মঠবাড়িয়া থানায় ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী একটি সাধারণ ডায়েরী (নং ২৮০) করেন।

এদিকে গত ২৬ ডিসেম্বর রোববার সকাল ৯টার সময় প্রাক্তন স্বামী রুহুল আমিন মালয়েশিয়া থেকে এসে তার ভাড়া করা বড়মাছুৃয়া হতে আনা ১৮/২০ জনের দল নিয়ে সরাসরি সাবেক স্ত্রীর জরিপেরচরের বাড়ীতে বসতঘরের পিছনের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে। হামিদাসহ পরিবারের সদস্যদের জিমি করে বিবস্ত্র করে টেনে-হিঁচরে মাইক্রো গাড়ীতে জোরপূর্বক তুলে নেয়। এ সময় স্থানীয় বসির নামক এক প্রতিবেশী ৯৯৯-এ ফোন দিলে অপহরণের ২ ঘন্টা পর দক্ষিণ বড়মাছুয়ার রুহুল আমিনের বসতঘর হতে থানা পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে প্রবাসী রুহুল আমিন বসতঘর ভাংচুর, তছনছ ও (হামিদাকে) বিবস্ত্র করে তুলে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই কলেজছাত্রী আমার স্ত্রী। মালয়েশিয়া থেকে আসার খবর পেলে হামিদা অন্যত্র পালিয়ে যাবে এ জন্য তাকে গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে যাই।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান , আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।