• রোববার ২৩ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৮ ১৪৩১

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

পিরোজপুর সংবাদ

আজ ২৭০টি ঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মঠবাড়িয়াকে ভূমিহীন মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হবে

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৩  

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি : মুজিব শতবর্ষে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের অনুকূলে ৮৩০ ভূমিহীন পরবিারের মাঝে সমাজভিত্তিক আশ্রয়ণ গড়ে তোলা হয়েছে। আজ ২৭০ টি ঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মঠবাড়িয়াকে ‘ক’ শ্রেণীভূক্ত ভূমিহীন মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হবে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে ২১ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে শহীদ মাখন লাল দাশ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মি ভৌমিক সংবাদ সম্মেলন করেন।

এসময় সহকারি কমিশনার (ভূমি) সৈকত রায়হান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার, ট্যাক্সফোর্স কমিটির সদস্য ইসরাত জাহান মমতাজ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মি ভৌমিক বলেন, মুজিব শতবর্ষে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থয়নে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের অনুকূলে ৮৩০ ভূমিহীন পরবিারের মাঝে সমাজভিত্তিক আশ্রয়ণ গড়ে তোলা হয়েছে। ২২ মার্চ বুধবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৭০ টি ঘর শুভ উদ্বোধন করবেন। এর সাথে-সাথে মঠবাড়িয়াকে ‘ক’ শ্রেণীভূক্ত ভূমিহীন মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মঠবাড়িয়াকে ‘ক’ শ্রেণীভূক্ত ভূমিহীন মুক্ত উপজেলা ঘোষণার পর ২৭০ জন সুবিধাভোগী ও জনপ্রতিনিধি,  রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের সমন্বয় আনন্দ র‌্যালী অনুষ্ঠিত হবে।

সরেজমিনে উপজেলার নদী তীরবর্তী সাপলেজা ও তুষখালীসহ একাধিক আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখে গেছে, উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ভূমিহীন প্রতি পরিবারকে দুই শতাংশ জমিসহ একক গৃহ প্রদান করে  ৮৩০ পরিবারের মাঝে সমাজভিত্তিক আশ্রয়ণ গড়ে তোলা হয়েছে। এসব আশ্রায়নে গত পাঁচ মাস আগে পরিবার বসবাস শুরু করেন। এসব ভূমিহীন পরিবারগুলো দুই শতাংশ জমিতে সেমি পাকা ঘর পেয়ে তাদের জীবনযাত্রা বদলে যেতে শুরু করেছে। উপজেলা প্রসাশনের সহায়তা নিয়ে কৃষিকাজ, হস্তশিল্প, সেলাই কাজ, হাস-মুরগী প্রতিপালন করে এ পরিবারগুলোর সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরতে শুরু করেছে। আশ্রিত শিশুরা স্কুলে লেখাপড়ার সুবিধা পেয়েছে। সুপেয় পানি ও বিদ্যুত সুবিধাও মিলেছে তাদের।

তুষখালী আবাসনে আশ্রিত মো. সগীর মিয়া জানান, সে একসময় পরের জমিতে শ্রম দিয়ে কোনো মতে সংসার চালাতেন। ভূমিহীন জীবনে পরের জমিতে খুপড়ি ঘরে বসতি ছিলো তার। এখন আশ্রয়ণে তার নিজের ঘর। নতুন ঘরে উঠে তিনি বাঁশের হস্তশিল্পের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় হাট-বাজারে বাঁশের সামগ্রী বিক্রয় করেন। এতে তার মাসে ৭/৮ হাজার টাকা রোজগার হয়। এছাড়া তার স্ত্রী মহিমা আক্তার সেলাই মেশিনে কাজ করেও মাসে অন্তত তিন হাজার টাকা আয় করেন। সেই সাথে বসতির আঙিনায় মৌসুমী সবজির চাষ করে প্রাত্যহিক জীবনে পুষ্টি পূরণ করছেন। এ দম্পতি তাদের দুই শিশু সন্তানকে স্কুলেও ভর্তি করতে পেরেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুজিব শতবর্ষে মঠবাড়িয়ার ১১ ইউনিয়নে গৃহহীন, ভূমিহীন পরিবারের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এ যাবৎ ৮৩০টি পরিবারের গৃহ নির্মাণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ক শ্রেণীভূক্ত পরিবার গুলো নতুন ঘরে বসতি শুরু করেছেন।