• বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

  • || ১০ শা'বান ১৪৪৫

পিরোজপুর সংবাদ

স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আজ বৃহস্পতিবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত। নিজেদের মাঠে শিরোপা ধরে রাখাটা স্বাগতিকদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের। লিগ পর্বে হারা ভারত যে ফাইনালে দ্বিগুণ জেদ নিয়ে মাঠে নামবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতকে হারাতে ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়ে সাগরিকার দারুণ গোলের দেখা মিলেছিল। ফাইনালেও তার দিকে চেয়ে থাকবে দল। এছাড়া কোচ সাইফুল বারী টিটুর সামনে প্রথমবারের মতো ট্রফি ছুঁয়ে উৎসব করার অপেক্ষা। এই সুযোগটা নিশ্চয়ই কাজে লাগাতে চাইবে বাংলাদেশ।

শুরুতে সাগরিকার কথা বলা যাক। বাংলাদেশ প্রথম দুটি ম্যাচ জিতেছে ১০ নম্বর জার্সিধারীর ওপর ভর করে। নেপালের বিপক্ষে সাগরিকা দুটি গোল করে সবাইকে যেমন চমকে দিয়েছেন, তেমনই বাংলাদেশের বড় জয়ে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন। পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে যেভাবে গোলটি করেছেন, তা ছিল দেখার মতো। সাহসী এক ফুটবলারের প্রতিচিত্র দেখা গেছে তার মধ্যে।

তবে রাউন্ড রবিন লিগে হ্যাটট্রিক উপহার দিয়েছেন প্রতিপক্ষ ভারতের পুজা, শিবানি দেবি। ৪ গোল নিয়ে পুজা গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে। বাংলাদেশে হয়ে সর্বোচ্চ ৩ গোল করেছেন সাগরিকা; বাকি পাঁচ গোলদাতা- ঐশী খাতুন, মুনকি আক্তার, নুসরাত জাহান মিতু ও তৃষ্ণা রানী।

তাই পুজা-শিবানি-নেহাদের সঙ্গে সাগরিকা ছাড়াও লড়াই হবে অন্যদেরও। তাই যে করেই হোক ফাইনালে জ্বলে উঠতে হবে। শেষ ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে বিশ্রামে ছিলেন একাদশের ৯ খেলোয়াড়। তাই কিছুটা ফুরফুরে মেজাজে মাঠে দেখতে পাওয়ার কথা তাদের।

সাগরিকাসহ অন্যদের শেষ অনুশীলনে তাই নির্ভার মনে হয়েছে। তবে ট্রফি জয়ের জেদটা কিন্তু তাদের মধ্যে আছে।

নারী ফুটবলাদের প্রায় সবার কাহিনী একই। শুরুতে পরিবার থেকে খেলতে অনীহা থাকতো। এরপর সাফল্য পেলে তখন সবকিছু সয়ে যায়। সাগরিকাও তেমনই এক ফুটবলার। দুই ম্যাচে আলো কাড়া স্ট্রাইকার ফাইনালেও চাইছেন সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। আগেই বলেছেন, ‘ফুটবল খেলি বলে গ্রামের মানুষ কটু কথা বলতেন। কিন্তু জেদ নিয়ে খেলা শুরু করি। শুধু ভাবতাম, একদিন বাবা-মায়ের ভুল ধারণা ভাঙবো। বড় ফুটবলার হয়ে তাদের দেখিয়ে দিবো। আজ জাতীয় দলে খেলে সেটা প্রমাণ করে দেখিয়েছি। সামনেও ভালো খেলতে চাই। দলকে সাফল্য এনে দিতে চাই।’

সাগরিকারা যেমন সাফল্য চান, কোচ টিটুও তাই। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সাফল্য মানে ট্রফি ছোঁয়া হয়নি। তা যে কোনও পর্যায়ে হোক না কেন। এবার অধরা ট্রফি ছুঁয়ে অন্তত আক্ষেপটা পূরণ করতে চাইছেন। সাধারণ মেয়েদের সব ট্রফি জয়ের নায়ক গোলাম রব্বানী ছোটন। এবার টিটু কী করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে কোচ বলেছেন, ‘আমার কাজ হলো কোচিং করানো। চেষ্টা করি সবসময় ভালো কিছু দিতে। ফাইনালে জিততে পারলে তো ভালো লাগবে। সবার সঙ্গে আমিও খুশি হবো।’