• শুক্রবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৯

  • || ০৩ রজব ১৪৪৪

পিরোজপুর সংবাদ

ঝিমিয়ে থাকা কক্সবাজারে প্রাণের সঞ্চার

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০২২  

বড়দিনসহ টানা তিনদিনের ছুটিতে নতুন প্রাণের সঞ্চারে মেতেছে পর্যটকবিহীন ঝিমিয়ে থাকা কক্সবাজার। সাগর তীরে ভ্রমণপিপাসুদের উপচেপড়া ভিড়। শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকে পর্যটকরা ভিড় করেছেন। ভিড় রয়েছে হোটেল-মোটেলের অলিগলিগুলোতেও। পর্যটকবাহী ও সাধারণ পরিবহন এবং ইজিবাইক, সিএনজি-অটোরিকশায় বাস টার্মিনাল বাইপাস সড়ক, কলাতলী ডলফিন মোড়, হোটেল-মোটেল জোন, লাবণী, শৈবাল সড়কে তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে।

২০১৯ থেকে ২০২১ সাল করোনার প্রভাবে মন্দা গেছে পর্যটন মৌসুম। গত বছরের শেষ সময়ে খুলেছে হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন স্পট। ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন দিয়ে চলতি পর্যটন মৌসুম চললেও কক্সবাজারে আশানুরূপ পর্যটক উপস্থিতি ছিল না। তবে সপ্তাহিক ছুটির সাথে বড়দিনের ছুটি এক হওয়ায় টানা তিনদিনের ছুটির সুযোগকে কাজে লাগাতে ভ্রমণপ্রেমীরা কক্সবাজার আসছেন। এ তিনদিনকে উপলক্ষ্য করে আগাম বুকিং নিয়েছেন হোটেল-মোটেল ও কটেজ কক্ষ।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বড়দিন ও সপ্তাহিক মিলে তিনদিনের ছুটিতে কক্সবাজারে ৪-৫ লাখ পর্যটক উপস্থিতির আশা করছেন। এ তিনদিনে ভালো ব্যবসা হতে পারে বলেও আশা করছেন তারা। অতিরিক্ত পর্যটক আগমন মাথায় রেখে সেভাবেই নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ।

ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র এএসপি মিজানুজ্জামান চৌধুরী জানান, টানা ছুটিকে টার্গেট করে এক সপ্তাহ আগে থেকে আগাম বুকিং হয়ে আছে পর্যটনকেন্দ্রীক সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট। টইটম্বুর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্তক অবস্থায় দায়িত্ব পালনে মজুদ রয়েছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশও। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে পর্যটন স্পটগুলো। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার পানির ব্যবস্থা রয়েছে সৈকত তীরে।

ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, শুক্র-শনি-রবিবার তিনদিনের ছুটিতে কক্সবাজারের সিংহভাগ হোটেল আগাম বুকিং হয়েছে। পর্যটকরা অনলাইনে রুম চাইলেও দেয়া যাচ্ছে না। লাখো পর্যটকে আবারো সরব হয়ে উঠেছে কক্সবাজার।

হোটেল হোয়াইট অর্কিডের মহাব্যবস্থাপক রিয়াদ ইফতেখার বলেন, পর্যটন মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই কমবেশি পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করেন। সরকারি দিবসের সাথে সপ্তাহিক ছুটি মিলে টানা ছুটি পেলে পর্যটক সমাগম বাড়ে। আর সপ্তাহিক ছুটি যদি বিশেষ দিবসগুলো পড়ে, তখন আবার পর্যটক সমাগম হয় না বললেই চলে। বড়দিনের সাথে সপ্তাহিক ছুটি মিলে টানা বন্ধ পেয়ে একসাথে অনেক লোক বেড়াতে আসছেন। আমাদের হোটেল শুক্র ও শনিবার সম্পূর্ণ বুকড। পাশাপাশি কক্সবাজারের সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট আগাম বুকিং হয়েছে বলে খবর পেয়েছি।

কক্সবাজার জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটক নিরাপত্তায় সৈকত ও আশপাশে পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সৈকতে বাইক নিয়েও রয়েছে টহল। রয়েছে তিনটি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত কর্মী। কন্ট্রোল রুম, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারসহ পুরো সৈকত পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছে।