• বুধবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৮

  • || ২০ সফর ১৪৪৩

পিরোজপুর সংবাদ

সিরিজ বোমা হামলা: বিচারের অপেক্ষায় ৪৬ মামলা

পিরোজপুর সংবাদ

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২১  

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর আজ মঙ্গলবার। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। বিএনপি-জামায়াতের মদতে সংগঠিত জেএমবি সারাদেশে তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় মুন্সীগঞ্জ জেলা বাদে দেশের ৬৩ জেলায় বেলা ১১টায় সিরিজ বোমা হামলা চালায়। দেশের ৪৫০টি স্থানে পাঁচ শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এই হামলায় নিহত হন দুজন এবং আহত হন দুই শতাধিক ব্যক্তি। হামলা চালানো হয় সুপ্রিম কোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, বাংলাদেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেস ক্লাব ও সরকারি-আধা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে।

আদালত ও পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয় ১৫৯টি। তদন্ত শেষে ১৬টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেওয়া হয়। আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয় ১৪৩টি মামলার। এর মধ্যে নিম্ন আদালতে ৯৭ মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছে। বিচারাধীন আছে আরো ৪৬টি মামলা। এসব মামলায় এজাহারে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছিল ২৪২ জনকে। আর অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছিল ১ হাজার ১২১ জনকে। এর মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছিল ৯৮৮ জনকে।

এসব মামলায় ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। সিরিজ বোমা হামলার রায়ে ৩৪৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ২৭ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এসব মামলায় খালাস পেয়েছে ৩৫৮ জন আর জামিনে রয়েছে ১৩৩ জন আসামি। এছাড়া ঢাকায় বিচারাধীন ৫টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সিরিজ বোমা হামলায় সর্বশেষ রায় দেন চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম। রায়ে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জানা গেছে, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সর্বোচ্চ ২৩টি মামলা হয় ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জে। সর্বনিম্ন তিনটি করে মামলা হয় খুলনা মহানগর ও রেলওয়ে রেঞ্জে। মহানগরীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয় ঢাকা মহানগরে (ডিএমপি) ১৮টি। এর মধ্যে ৯টি মামলায় পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে। এসব মামলার চূড়ান্ত রায়ে ফাঁসি কার্যকর হয় ৯ আসামির। এছাড়া দেশের বিভিন্ন বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধেও শতাধিক জঙ্গির করা আপিল বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিচারের অপেক্ষায় আদালতে মামলা ঝুলে থাকার জন্য সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা।

তারা বলছেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় অনেক মামলায় এখন সাক্ষী খুঁজে পাওয়া চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে আসামিদের অনেকেই এখন পলাতক।

বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধেও এরই মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করেছে আসামিরা। অবশ্য ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৭ সালের মার্চে জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, খালেদ সাইফুল্লাহ, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল ও ইফতেখার হাসান আল মামুনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাক্ষী হাজিরে রাষ্ট্রপক্ষের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই ৪৬টি মামলার বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি। আদালত থেকে সাক্ষীদের বারবার হাজির হওয়ার সমন দিলেও তা ফেরত আসছে। কারণ, বেশির ভাগ সাক্ষীই আদালতের নথিতে দেওয়া ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, সাক্ষীদের মধ্যে অনেকে ভীতির মধ্যে রয়েছেন।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, সিরিজ বোমা হামলার বেশ কয়েকটি মামলার হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে এসব মামলার পেপারবুক তৈরির কাজ চলছে। দ্রুতই এসব মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যথাসময়ে আদালতে সাক্ষী হাজির করতে না পারায় মামলা নিষ্পত্তিতে সময় বেশি লাগছে।

প্রসঙ্গত, হামলার স্থানগুলোতে জেএমবির লিফলেট পাওয়া যায়। লিফলেটগুলোতে বাংলাদেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে বক্তব্য লেখা ছিল। তাতে লেখা ছিল, দেশের কর্মরত বিচারকদের প্রতি একটি বিশেষ বার্তা পাঠালাম। দ্রুত দেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম করতে হবে। নতুবা কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে জেএমবি। ইসলামী হুকুমত কায়েমের বিষয়ে তাদের সঙ্গে দেশ-বিদেশের অনেক শক্তিশালী দেশ ও শীর্ষ রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করেছে। অতএব যারা বিচারক আছেন তারা তাগুতি (মানবসৃষ্ট) আইন বাদ দিয়ে ইসলামী আইনে বিচার করবেন। নতুবা আরো ভয়াবহ বিপদ আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে। এ সতর্কবাণীর (সিরিজ বোমা হামলা) পর আমরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তারপর আবার হামলা শুরু হবে।